নতিস্বীকার করলো ইসরাইল, ফিলিস্তিনের বিজয় আখ্যা দিয়ে যা বললেন হামাস প্রধান

ইমান২৪.কম: দখলকৃত ফিলিস্তিনের গাজায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়িগুলো পুনর্নির্মাণ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে ফিলিস্তিন ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস।

বৃহস্পতিবার (২০ মে) দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর গাজায় দলটির পলিটিকাল ব্যুরোর উপ প্রধান খলিল হাইয়া এই অঙ্গীকার করেন। রাত ২টায় নতি স্বীকার করে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা দিলে ফজরের সময় তাদের নৃশংস বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল ওয়াহেদা স্ট্রিটে বিজয় মিছিল করে ফিলিস্তিনিরা।

ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছে উল্লেখ করে ইহুদিবাদী ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির দিকে ইশারা করে মিছিলের এক পর্যায়ে খলিল হাইয়া বলেন, যা কিছু হয়েছে তা বিজেতা দুঃসাহসী যুবকদের প্রতিরোধ ও পুরো ফিলিস্তিনের জনগণের জন্যেও বিজয়ের। তাই অসংখ্য শহীদ, মারাত্মক ক্ষত, দুঃখ-বেদনা ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও আমাদের আনন্দিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের সর্দার নেতানিয়াহুকে লক্ষ্য করে এই হামাস নেতা বলেন, হে নেতানিয়াহু! আমরা বিজয়ী হয়েছি।

কেননা যে সুড়ঙ্গগুলো তুমি ধ্বংস করে দিয়েছ বলে ভেবেছিলে সেখানে এখন আমাদের মুজাহিদীনরা সদর্পে চলাচল করছে। তারা গৌরব এবং মর্যাদার সুড়ঙ্গে প্রফুল্লচিত্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, হে নেতানিয়াহু! ওই দুর্ধর্ষ প্রতিরোধকামী যোদ্ধাদের ব্যাপারে সাবধান থাকুন যারা প্রতিটি স্থান থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের দল ও প্রতিরোধকামীদের হাতে বাইআত করে। এসময় হামাস নেতা হাইয়া তাদের সশস্ত্র শাখা কাসসাম ব্রিগেডের প্রধান কমান্ডার মুহাম্মাদ আল জাইফের পক্ষ থেকে জনগণের নিকট শুভেচ্ছাবার্তা পড়ে শুনান।

তিনি বলেন, আমি প্রতিরোধকামী শাখাগুলোর সম্মিলিত প্লাটফর্মের পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, প্রতিরোধ ও শুভেচ্ছার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি। এই প্রতিরোধ ফিলিস্তিনি জনগণের দেহ-বর্ম, দুর্গ, দৃঢ়তা, আত্মমর্যাদাবোধ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা হয়ে বেঁচে থাকবে। পরিশেষে তিনি হামাসের গাজা সিটি ব্রিগেড প্রধান, শহীদ বাসেম ঈসা ও দ্রুত রকেট উৎপাদন ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রধান, শহীদ প্রফেসর জামাল যুবদাহসহ সকল বিজ্ঞ এবং ফিলিস্তিনি শহীদদের স্মরণ করেন।

বিশেষত শহীদ প্রফেসর জামাল যুবদাহর ব্যাপারে তিনি বলেন, আপনারা কেউ ইঞ্জিনিয়ার যুবদাহকে না চিনতে পারেন কিন্তু হামাস প্রতিরক্ষার প্রতিটি দুর্গ ও কণা তাকে চিনে। তার পুরো জীবনকে জ্ঞানার্জন, প্রতিরোধ ও ই’দাদী জিহাদের প্রস্তুতিতে উৎসর্গ করেছিলেন। উৎপাদিত সকল বস্তুতে ছিলো তার হাতের ছোয়া। পরবর্তীতে, গাজায় হামাস পলিটিকাল ব্যুরোর এই উপ প্রধান খলিল হাইয়া শুহাদায়ে কেরামের দেখানো পথে চলার অঙ্গীকার করেন।

ফেসবুকে লাইক দিন