মাহমুদুল হাসানকে নিয়ে কওমি অঙ্গনে অস্থিরতা, বেফাকের দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা অভিযোগ

ইমান২৪.কম: স্বজনপ্রীতির কবলে পড়েছে কওমি মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণে দেশের বৃহত্তম বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিলি আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)। ২০২০ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে দাওয়াতুল হকের প্রতিষ্ঠাতা মুহিউস সুন্নাহ মাহমুদুল হাসান বেফাকের সভাপতি হন।

তিনি নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজের মাধ্যমে বেফাকের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবেন এই আশায় বুক বাঁধেন কওমি আলেমরা। তবে সভাপতি হওয়ার সাত মাসের মধ্যে তার কর্মকাণ্ডে হতাশ ও ক্ষুব্ধ আলেমরা। সভাপতির ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে এবং খাস কমিটির আলেমদের মতামতের তোয়াক্কা না করে তিনি তার জামাতা, বেয়াই এবং আপনজনকে অবৈধভাবে বেফাকের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদে নিয়োগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, বেফাকের অধীনে দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মাদ্রাসা পরিচালিত হয়। এমন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে চলছে সভাপতির মর্জিমাফিক নিয়োগ। বিভিন্ন পদে তিনি স্বজনদের নিয়োগ দিয়েছেন। বিশেষ করে মোসলেহ উদ্দিন রাজুকে প্রকাশনা বিভাগের প্রধান, আপন বেয়াই মিজানুর রহমান সাইদকে তালিম বিভাগের প্রধান, আপন জামাতা নেয়ামতউল্লাহ ফরিদীকে প্রশাসন বিভাগের প্রধান, নিজের সংগঠন দাওয়াতুল হকের নায়েবে আমির ও ঘনিষ্ঠজন জাফর আহমেদকে হিসাব বিভাগের প্রধান এবং দাওয়াতুল হকের অন্য নায়েবে আমির মনসুরুল হককে পরীক্ষা বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

এসব নিয়োগের মূল উদ্দেশ্যই হলো তার ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার ক্ষেত্রে যেন কেউ প্রশাসনিক বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। পরে মজলিসে আমেলার বৈঠকে তিনি তার আত্মীয়দের নিয়োগ বৈধ করাসহ আরও প্রায় ১৫-২০ জন লোক নিয়োগের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। তার এই এজেন্ডা বাস্তবায়িত হলে বেফাক তার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

আলেমদের অভিযোগ, মাহমুদুল হাসানের এমন স্বেচ্ছাচারিতা ও অপতৎপরতার বুদ্ধিদাতা হিসেবে কাজ করছেন মোসলেহ উদ্দিন রাজু। কওমি অঙ্গনে উপযুক্ত আলেম না হয়েও রাজু বেফাকের নীতিনির্ধারণী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে আছেন। কওমির সিনিয়র আলেমরা বলছেন, বয়সে কনিষ্ঠ এবং যথাযথ কওমি শিক্ষা ছাড়া একজন ব্যক্তি কীভাবে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তা তাদের বোধগম্য নয়। অনেক আলেম সরাসরি বেফাকে রাজুর এই প্রভাবের কথা প্রকাশ্যে না বললেও মাহমুদুল হাসানই তাকে আশকারা দিয়ে এ অবস্থানে তুলে এনেছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

মাহমুদুল হাসান প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে নিজেকে ও বেফাককে অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বললেও সম্প্রতি একটি ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তিদের বেফাকের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করেছেন। কয়েকজন সিনিয়র আলেমের অভিযোগ- মাহমুদুল হাসান বেফাকে এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যে, আত্মীয়দের সুযোগ দিতে গিয়ে বেফাকের মতো প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পিছপা হননি। আত্মীয়করণ, স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতিত্ব ও রাজনীতিকরণের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বেফাক খুব শিগগিরই একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। সেই সঙ্গে মোসলেহ উদ্দিন রাজুর মতো ব্যক্তিরাই এ প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তি হয়ে নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করবে। সূত্র: দৈনিক সমকাল

ফেসবুকে লাইক দিন