কারাগারের ভেতরের খুনি দুর্ধর্ষ সাইদুর, বাথরুমের ট্যাংকিতে লুকিয়েছিল

ইমান২৪.কম: কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে সেলের ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করে এক বন্দিকে হত্যা ও আরেক বন্দিকে গুরুতর আহত করার চাঞ্চল্যকর ঘটনার হোতা সাইদুর মিয়া (৪০) একজন অঘটন ঘটন পটিয়সী।

দুর্ধর্ষ বন্দি সাইদুরের জেলখানায় এই কিলিং মিশনে হতবাক সবাই। মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে সে সেলের টয়লেটের দরজার কাঠ খুলে সেটি দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে আব্দুল হাই (২৭) ও জাহাঙ্গীর (২৮) নামে দুই বন্দিকে গুরুতর আহত করে।

তাদের মধ্যে আব্দুল হাইকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ভোর সাড়ে ৪টায় কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া আহত অপর বন্দি জাহাঙ্গীর কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘাতক সাইদুর মিয়া জেলার তাড়াইল উপজেলার কালনা মাইজপাড়ার ইসমাইল মিয়ার ছেলে। ২০১৭ সালের ৫ জুলাই ভৈরব থানায় মুক্তিপণের দাবিতে শিশু অপহরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পরদিন ৬ই জুলাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর ৭ জুলাই থেকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে হাজতী হিসেবে আটক রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, জেলের ভেতরে দুর্ধর্ষ হত্যাকাণ্ডের ঘাতক সাইদুর মিয়া ভৈরবের সাদেকপুরে শ্বশুরবাড়ি হওয়ায় কাছাকাছি থাকার উপলক্ষে স্ত্রী মিতু বেগমকে নিয়ে জেলার ভৈরবের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকার সেন্টু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতো। প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ওই বাড়িতে ভাড়া থাকায় দুই পরিবারের মাঝে সখ্যতা গড়ে ওঠে।

২০১৭ সালের ৫ জুলাই সকালে বাড়ির মালিকের শিশু কন্যা হালিমাকে কাপড় কিনে দেবার কথা বলে সাইদুর দম্পতি বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে মোবাইলে শিশুটির বাবার কাছে তারা পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অন্যথায় শিশুটিকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেয়। বিষয়টি জানিয়ে ওইদিন রাতেই শিশুটির বাবা সেন্টু মিয়া ভৈরব থানায় অপহরণ মামলা করেন।

পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরণের ২৩ ঘণ্টা পর ৬ জুলাই দুপুরে অপহৃত হালিমাকে তাড়াইল উপজেলার কালনার হাওর এলাকার পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী সাইদুর ও তার স্ত্রী মিতু বেগমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরদিন ৭ জুলাই তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে কারাগারে থাকার সময়ে পূর্বেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে সাইদুর।

কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল বটতলা এলাকার পুরাতন কারাগার থেকে নবনির্মিত কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-১ এ ২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি বন্দি স্থানান্তর করা হয়। তখন এক হাজার ৩৮৪ জন বন্দি স্থানান্তরের এ প্রক্রিয়ার সময় সব বন্দিকে স্থানান্তর করা হলেও সাইদুরকে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে অনেক খোঁজাখুজির পর বাথরুমের ট্যাংকিতে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে পাওয়া যায় এবং সর্বশেষ বন্দি হিসেবে নবনির্মিত কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-১ এ স্থানান্তর করা হয়।

ফেসবুকে লাইক দিন