সীমান্তে মাদক আনতে গিয়েছিল ৩ পুলিশ, ১ জনকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

ইমান২৪.কম: পঞ্চগড়ে সীমান্ত থেকে ওমর ফারুক (২৪) নামে জেলা পুলিশে কর্মরত এক পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রবিবার রাত সাড়ে ৮ টায় জেলার সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের মোমিনপাড়া সীমান্ত থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ।

ওই পুলিশ কনস্টেবল পঞ্চগড় আদালতে বিচারকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তার বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। ওই পুলিশ সদস্যকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও বিজিবি নিশ্চিত করলেও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।

স্থানীয়রা জানায়, রবিবার রাত সাড়ে ৮ টায় পুলিশ কনস্টেবল ওমর ফারুকসহ ৩ জন পঞ্চগড় সদর উপজেলার মোমিনপাড়া সীমান্ত এলাকায় যায়। এ সময় কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকের সাথে তাদের তর্ক হয়। তর্কের এক পর্যায়ে তারা ওমর ফারুককে আটক করে মারধর করে।

পালিয়ে যায় অপর দুইজন। পরে পাশ্ববর্তি ভারতীয় চানাকিয়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। তবে তারা কেন সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন আর কেনই বা ভারতীয়দের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেনি বিজিবি। তবে স্থানীয়রা দিয়েছেন ভয়ঙ্কর তথ্য। তারা জানিয়েছেন পুলিশের ওই সদস্য সহ ৩ জন মাদক দ্রব্য আনতেই সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন।

ঘটনাস্থলের পাশের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ভারতীয়দের মাধ্যমে আমরা জেনেছি ওই ৩ জন ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় মাদক দ্রব্য আনতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাকিতে মাদক দিতে তারা অস্বীকার করলে একজন ভারতীয় মাদক ব্যবসায়ীকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে নিয়ে আসছিলেন তারা।

এ সময় ভারতীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া করে ওমর ফারুককে আটক করলেও এবং বাকি দুইজন পালিয়ে যায়। আটক করার পর তাকে অনেক মারধর করে তারা। পরে চানাকিয়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা এসে তাকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ৫৬ বিজিবির অধিনায়কের নাম্বারে বার বার কল করলেও তিনি ফোন ধরেন নি। তবে পঞ্চগড় বিজিবির ঘাগড়া ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, এ বিষয়ে বিএসএফের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন তারা। একই সাথে ওই পুলিশ সদস্যকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ফেরত আনার চেস্টা করা হচ্ছে।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আবু আক্কাছ আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই পুলিশ সদস্য আদালতে বিচারকদের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তার ব্যবহৃত মোটরসাইলেকটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। তার সাথে আরও দুজন ছিলেন বলে আমরা শুনেছি। তবে কারা ছিলেন এবং কেন সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন এ বিষয়ে আমরা এখনও নিশ্চিত না। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

ফেসবুকে লাইক দিন