পুরুষ কণ্ঠ শুনলেই ‘আতঙ্কিত’ হয়ে উঠেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই গ্রামের নারীরা

ইমান২৪.কম: একটি খুন পরবর্তী সহিংসতা ঘিরে ‘আতঙ্কের’ সৃষ্টি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্রামের পুরুষশূন্য লতিফ গোষ্ঠী ও খন্দকার গোষ্ঠীর শত শত নারীর মধ্যে।। কখনও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট আবার কখনও নারীদের শ্লীলতাহানি। সব মিলিয়ে নাকাল জীবনযাপন করছেন তারা। চারপাশ নীরব নিস্তব্ধ। ফাঁকে ফাঁকে কয়েকজন নারীর জটলা। পুরুষ কণ্ঠের শব্দ শুনতেই ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে উঠেন তারা। এই বুঝি এলোরে। এই রকমই উৎকন্ঠা আর আতঙ্ক নিয়ে রাত-দিন কাটছে তাদের।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারিতে পূর্ব-বিরোধের জের ধরে মুন্সি গোষ্ঠী ও লতিফ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে মুন্সি গোষ্ঠীর উপজেলার চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির ছোট ভাই জামাল মুন্সি নিহত হয়। এরপর থেকে মুন্সি গোষ্ঠীর অব্যাহত নৃশংসতায় এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে প্রতিপক্ষ লতিফ গোষ্ঠীর লোকজনের অভিযোগ।

সরেজমিন ওই গ্রামটি ঘুরে দেখা যায়, অনেক বাড়িতেই লুটপাটের চিহ্ন। লুটপাটের সময় আসবাবপত্রের পাশাপাশি জানালার গ্রিল পর্যন্ত খুলে নেওয়া হয়েছে। এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র। লতিফ বাড়ির গৃহবধূ স্বপ্না বেগম বলেন, আজকে তিন মাস ধরে ভয়ে বাড়িতে যাচ্ছি না। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হচ্ছে। চলামান মহামারি করোনার মধ্যে বাড়ি বাড়িতে পুরুষশূন্য। ঘরে কোনো খাবারও নেই। ঘরের আসবাপত্র সব লুট করে নিয়ে গেছে।

সাংবাদিক দেখে এগিয়ে আসেন বৃদ্ধা হালেমা বেগম। চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ। কান্নারত কন্ঠেন তিনি বলেন, আমার ৩ প্রতিবন্ধীর ছেলে। তাদের ঘরগুলো ভেঙে দিয়েছে। ঘরের সব জিনিস লুট করে নিয়ে গেছে। ভয়ে একাই বাড়িতে আছি। মহামারি মধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। রিনা সুলতানা নামে এক নারী বলেন, আমার স্বামী নতুন দোতলা বিল্ডিং করেছে। খুনের ঘটনার পর থেকেই প্রতিদিনই ভাঙচুর করছে। বিল্ডিংয়ের সব দামি দামি আসবাপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

লতিফ বাড়ির বাসিন্দা মোবারক মিয়ার অভিযোগ, বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির নেতৃত্বে এসব কাণ্ড হচ্ছে। তার কারণে শত শত মানুষ আজ বাড়ি ছাড়া। কোটি কোটি টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে তার লোকজন। তার ভয়ে কেউ কথা বলছে না। প্রায় শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। আমরা চাই যারা অপরাধী তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। নিরাপরাধ মানুষরা যাতে হয়রানি বা মামলা হামলার শিকার না হয়।

লতিফবাড়ি ও খন্দকার বাড়ির লোকজন অভিযোগ করেন, এখন তাদের জমি থেকে ধানসহ নানা জাতের সবজিও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এখন তারা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সির বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সী বলেন, আমার ভাইয়ের খুনিদের আড়াল করতেই আসামিপক্ষ এসব মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছে। নিরাপরাধ মানুষের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো বিষয় আমার জানা নেই।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, খুনের ঘটনাটি যেমন অপরাধ। তেমনি লুটপাটের ঘটনায়ও জড়িতরা অপরাধী। সবাইকে আইনের আত্ততায় আনা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন