স্বাস্থ্যের ব্রিফিং বয়কট করে চলে গেলেন সাংবাদিকরা

ইমান২৪.কম: সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে পাঁচঘণ্টা অবরুদ্ধ রেখে হেনস্তা ও পরে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কট করেছেন সাংবাদিকরা।

সচিবালয়ে এমনটা ঘটে। মঙ্গলবার (১৮ মে) বেলা সাড়ে ১১টার কিছু সময় আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিষয়ে ব্রিফিং করার জন্য সম্মেলন কক্ষে ঢুকলে ব্রিফিং বয়কট করে চেয়ার ছেড়ে উঠে যান সাংবাদিকরা। এছাড়া বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ সংবাদ সম্মেলন বয়কট ঘোষণা করে সবাইকে সম্মেলন কেন্দ্র ত্যাগ করার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, গতকাল রোজিনা ইসলামের বিষয়ে কথা বলতে এবং ঘটনা জানতে আমরা দীর্ঘ সময় স্বাস্থ্য সচিবের রুমের সামনে অপেক্ষা করেছি, তিনি দেখা করেননি। তিনি আমাদের বারবার অপমান করেছেন। আজকের এই ব্রিফিং আমরা বয়কট করছি। পরবর্তী কর্মসূচি আমাদের বিএসআরএফের জরুরি সভা শেষে নেতৃবৃন্দ সিদ্ধান্ত নেবেন।

তার এই ঘোষণার পর সব সাংবাদিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কট করে বেরিয়ে যান। এ সময় বিএসআরএফের অর্থ সম্পাদক মাসউদুল হক ও কার্যনির্বাহী সদস্য মোরসালীন বাবলা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত,এর আগে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে সেখানে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ তাঁকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ জানায়, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা হয়েছে। তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এর আগে আজ সকালে বাংলাদেশ বিএসআরএফের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ব্রিফিং বয়কটের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার ও বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সদস্য রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করে গ্রেফতারের প্রতিবাদে আজকের (মঙ্গলবার) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত বেলা ১১টার সংবাদ সম্মেলন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচি কার্যনির্বাহী কমিটির আজকের জরুরি সভা থেকে ঘোষণা করা হবে। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করছে বিএসআরএফ।

জানা যায়, সোমবার (১৭ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। স্বাস্থ্য সচিবের পিএস সাইফুল ইসলামের রুমে ফাইল থেকে নথি সরানোর অভিযোগে তাকে পুলিশ দিয়ে ওই রুমে আটকে রাখা হয় এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেসা বেগম রোজিনা ইসলামের গলা চেপে ধরে তাকে শাসাচ্ছিলেন। এসময় তিনি সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পড়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রোজিনা ইসলামকে পুলিশ স্বাস্থ্য সচিবের পিএসের রুম থেকে থেকে বের করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর রাত পৌনে ১২ টার দিকে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১৬, দণ্ডবিধি ৩৯৭ এবং ৪১১ অফিসিয়াল সিক্রেসি এক্ট ১৯২৩ এর ৩/ ৫ এর ধারা মামলা করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপ-সচিব শিব্বির আহমেদ ওসমানী। এই মামলার একমাত্র আসামি করা হয়েছে তাকে। তার বিরুদ্ধে সরকারি নথি সরানো ও ছবি তোলার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকেরা বিকেলে সচিবালয়ে এবং রাতে শাহবাগ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। এর নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংগঠন। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এখন পর্যন্ত।

ফেসবুকে লাইক দিন