বাবুল বুঝতেই পারেনি বনজ তার পেছনে

ইমান২৪.কম: মাত্র একটি ভুলের খেসারত দিতে হলো বাবুল আক্তারকে। বাবুল আক্তার ধরেই নিয়েছিলেন তিনি পার পেয়ে গেছেন। তাকে আর সাজা ভোগ করতে হবে না। মিতু হত্যা মামলা ধামাচাপা পড়ে যাবে। দক্ষ ও মেধাবী অফিসার ছিলেন বাবুল আক্তার।

বিদেশে মিশন করেছেন। আর এ কারণেই নিজের ওপর কনফিডেন্স ছিলো অনেক বেশি। অন্যদিকে বনজ কুমার মজুমদারও অত্যন্ত উঁচুমানের পুলিশ অফিসার। বিশেষ করে যেকোনো অমীমাংসিত রহস্য উদঘাটনে তিনি পুলিশের অন্যতম সেরা অফিসার হিসেবে পরিচিত। আর এ কারণেই পিবিআই এর দায়িত্ব পেয়েছেন। বনজ কুমার মজুমদার বাবুলের গুরু ছিলেন। আর গুরুর কাছেই ধরা পড়লেন শিষ্য। বাবুল আক্তার বুঝতেই পারেননি যে বনজ তার পেছনে।

এই হত্যাকাণ্ডের পর যা হবার তা হয়েছিল। বাবুল আক্তারকে চাকরি থেকে অপসারিত করা হয়েছিল। বাবুল আক্তার চাকরির অপসারণকে চ্যালেঞ্জ করেছিল এবং শেষপর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে চাকরীচ্যুত করে। এরপর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন বিয়ে থাওয়া করে স্থিত হন এবং একটি পর্দার আড়ালে চলে যান।

বাবুল আক্তার ভেবেছিলেন সবকিছু বোধহয় ঠিকঠাক হয়েছে। কিন্তু এই মামলাটি যখন পিবিআই এর কাছে আসে তখন বনজ কুমার মজুমদার প্রথমে ভিডিও ফুটেজে দেখা শুরু করেন। ২০১৬ সালের ৫ জুন যেদিন মিতুকে হত্যা করা হয়েছিল সেদিন ওই হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজে একজনকে পাওয়া যায়। তিনি হলেন মুসা। এই মুসাকে ধরেই মাঠে নামেন বনজ এবং তার টিম। তারা নিশ্চিত হন যে, মুসাকে বাবুল আক্তার চিনতেন। কিন্তু তারপরও মুসাকে চেনার তথ্যটি বাবুল আক্তার গোপন করেছেন।

কিন্তু এই সময় একজন নারীর ফেসবুক থেকে বাবুল আক্তারের সবকিছু পান বনজ কুমার মজুমদার। গায়েত্রী অমর সিং নামে একজন ভারতীয় নারী, যিনি কক্সবাজারের জাতিসংঘের উদ্বাস্তু মিশনের কর্মকর্তা ছিলেন, বর্তমানে তিনি নেদারল্যান্ডের অবস্থান করছেন।

জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে কাজ করছেন। তার ফেসবুক পেজ থেকেই মিতু হত্যার দ্বিতীয় সূত্রটি পায় পিবিআই। বাবুল আক্তার ভুলে গেলও গায়েত্রী অমর সিং ভুলতে পারেনি। তিনি মাঝে মাঝেই তার ফেসবুকে বাবুলকে স্মরণ করেন। আর এই সূত্র ধরেই পিবিআই এর কাছে আসে তালিবান গ্রন্থটি। যে গ্রন্থটি গায়েত্রী বাবুল আক্তারকে উপহার দিয়েছিলেন।

তালিবান গ্রন্থটিতে গায়েত্রীর লেখাও পাওয়া যায় এবং সেখানে দেখা যায় যে, ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তাদের পরিচয় হয়েছে। ৫ অক্টোবর বাবুল আক্তার প্রথম চুমু খান গায়েত্রীকে এবং ৭ অক্টোবর তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। ৮ অক্টোবর তারা কক্সবাজার বিচে হাঁটেন।

আর এই তালিবান গ্রন্থ পরার পরেই বাবুল আক্তারকে অনুসরণ করা শুরু করে পিবিআই। বাবুল আক্তার বুঝতেই পারেনি যে তার গুরু বনজ তার পেছনে রয়েছে এবং এই সময়েই গায়েত্রীর বিষয়টি বাবুল আক্তার স্বীকার করেন পিবিআই এর একজন সোর্সের কাছে। তারপরই সব কিছু মিলে যায় পিবিআই কর্মকর্তাদের। আর প্রশ্নের উত্তর খোঁজার যে কৌশল, সেই কৌশলে বাবুল আক্তারকে মেধায় পরাজিত করেন বনজ। বাংলা ইনসাইডার

ফেসবুকে লাইক দিন