ফিলিস্তিনের ভাণ্ডারে প্রচুর মিসাইল, রণকৌশলে এগিয়ে ইসরায়েল

ইমান২৪.কম: ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। তামাম দুনিয়ার চোখ এখন রক্তে ভেজা গাজা উপত্যকার দিকে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় অবরুদ্ধ গাজায় একের পর এক স্থাপনা ধূলিস্যাৎ যেমন হচ্ছে, আবার মাঝেমধ্যে হামাসের পাল্টা জবাবে কেঁপে উঠছে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন ভূখণ্ড। চলমান এই সংঘাতে শক্তির বিচারে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ইসরায়েল।

তাদের বিমান বাহিনী, অস্ত্রবাহী ড্রোন ও চরবৃত্তির মাধ্যমে শত্রুশিবিরের খবরাখবর সংগ্রহের নেটওয়ার্কও খুবই জোরালো। ইসরায়েলের দাবি, গাজার সেইসব অঞ্চলগুলোই তাদের টার্গেট যেগুলি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু ঘটনাচক্রে ফিলিস্তিনিদের ঘনবসতি, হামাস ও ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর ঘাঁটিগুলি বেশ কাছে হওয়ায় ইসরায়েলি হামলায় প্রচুর বেসামরিক লোকের প্রাণহানি হচ্ছে। ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালানোর মতো রসদ হামাস ও ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর রয়েছে।

তবে ফিলিস্তিনিদের কৌশলগত দিক নিয়ে দুর্বলতা বেশ স্পষ্ট হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী গাজা থেকে ইসরায়েলে ঢোকার চেষ্টা করা একটি ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করে। সম্ভবত ড্রোনটি অস্ত্রবাহী ছিল। ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্রের দাবি, কোনও এলিট হামাস শাখা গাজার দক্ষিণ দিক থেকে সুরঙ্গপথে ইসরায়েলে ঢোকার চেষ্টা করছিল। সম্ভবত ইসরায়েলি গুপ্তচর বিভাগ আগেভাগে সেই খবর পেয়ে সুরঙ্গটা বিস্ফোরণে উড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়। ফিলিস্তিনের অস্ত্র ভাণ্ডারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার তাদের নানা ধরনের ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত করার শক্তি রাখা মিসাইল।

মিশরের সিনাই থেকে চোরাপথে কোরনেট চালিত ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রসহ এসব মিসাইলের বেশ কিছু নিয়ে আসা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর। তবে গাজা খাড়িতেই সচল ও তুলনামূলকভাবে অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরির ঘাঁটি থেকে বেশিরভাগ সমরাস্ত্র পায় হামাস ও ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠী। ইসরায়েলি ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গাজায় এই অস্ত্রী নির্মাণ শিল্প গড়ে তোলার পেছনে ইরানের প্রযুক্তি ও সহায়তার বড় ভূমিকা রয়েছে। সেজন্যই গত কয়েকদিনে ইসরায়েলি হামলার মূল লক্ষ্যবিন্দু ছিল ফিলিস্তিনিদের অস্ত্র নির্মাণ কেন্দ্র ও তা মজুদ রাখার ঘাঁটিগুলো।

চলমান সংঘাতে ফিলিস্তিনিরা না বৈচিত্র্যে ভরা মিসাইল ব্যবহার করছে। এগুলির কোনোটাই মৌলিক নকশার মাপকাঠিতে একেবারে নতুন নয়। কিন্তু মিসাইলগুলির পাল্লা বাড়ানো ও তাদের আরও বেশি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম করে তোলাই হামাস তথা ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠীর মূল ভাবনা। জানা যায়, হামাসের হাতে কাসাম (১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টার্গেটে আঘাত করতে সক্ষম), কাডস ১০১ (১৬ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টার্গেটে আঘাত করতে সক্ষম) এর মতো স্বল্প পাল্লার প্রচুর মিসাইল আছে।

এছাড়াও আছে গ্রাড সিস্টেম (৫৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত টার্গেটে আঘাত করতে সক্ষম) ও সেজিল ৫৫। আছে প্রচুর গোলাবারুদও। তবে হামাসরা এম-৭৫, ফজর, আর-১৬০, এম ৩০২ এর মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পদ্ধতিও ব্যবহার করে। যেগুলো কোনোটা ৭৫ কিলোমিটার, কোনোটা ১০০ কিংবা কোনোটা ১২০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এম-৩০২ ২০০ কিলোমিটার দূরেও হামলা চালাতে পারে। সুতরাং জেরুজালেম অথবা তেল আবিব, উভয় স্থানেই হামলা চালানোর মতো শক্তি হামাসের রয়েছে। যা ইসরায়েলি জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ও তাদের নানা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর সামনে বড় বিপদ হতে পারে।

ইসরায়েলি সেনাদের বক্তব্য, গত কয়েকদিনে ইসরায়েলের ওপর আছড়ে পড়া হাজারের বেশি রকেটের মধ্যে প্রায় ২০০টি গাজা খাড়ির মধ্যেই ভূপাতিত হয়েছে, বেশি দূর এগোতে পারেনি। এটা সম্ভব এই প্রমাণ করে যে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হামাসের এসব অস্ত্র খুব বেশি হয়তো কার্যকর নয়। ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স বলছে, ইসরায়েলে ঢুকে পড়া সব মিসাইলের ৯০ শতাংশকেই তাদের আয়রন ডোম অ্যান্টি-মিসাইল সিস্টেম রুখে দিয়েছে। সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার সীমিত উপায় আছে।

অ্যান্টি-মিসাইল প্রতিরোধী সিস্টেম চালু করা, শত্রুপক্ষের অস্ত্র মজুদের ঘাঁটি, নির্মাণকেন্দ্রগুলিকে পাল্টা টার্গেট করা, সমতলে অভিযান চালিয়ে মিসাইল হামলাকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করা। কিন্তু এক্ষেত্রে ফিলিস্তিন খুব বেশি সফল হতে পারছে না। আর সেজন্য তাদের কৌশলগত গভীরতা না থাকাকেই কারণ হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। ২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলের সবশেষ বড়সড় অভিযানে ২ হাজার ২৫১ জন ফিলিস্তিনির প্রাণহানি হয়েছিল। যাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৬২ জনই ছিল বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে সেই সংঘাতে মাত্র ৬ জন বেসামরিক নাগরিক ও ৬৭ জন সেনা হারিয়েছিল ইসরায়েল।

ফেসবুকে লাইক দিন