কুড়িগ্রাম সিমান্তে ভারতীয় বিএসএফের বাধায় বন্ধ মসজিদের নির্মাণকাজ

ইমান২৪.কম: ভারত ও বাংলাদেশের সম্প্রীতির সেতুবন্ধন হয়ে ব্রিটিশ আমল থেকে দাঁড়িয়ে আছে কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাঁশজানী ঝাকুয়াটারী জামে মসজিদ। তবে এর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএসএফ) বাধার মুখে।

গত ৫ মে সীমান্তে নো ম‍্যানস ল‍্যান্ডের ১৫০ গজের ভেতরে পাকা স্থাপনা নির্মাণে বিধিনিষেধ থাকার কারণ দেখিয়ে মসজিদ নির্মাণে বাধা দেয় বিএসএফ।

২০০ বছর ধরে মসজিদটি দুই বাংলার মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধনের এক অনন্য প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দুই বাংলার এক মসজিদ নামে পরিচিত মসজিদটি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি সীমান্তে অবস্থিত।

জানা যায়, বাংলাদেশ ও ভারত সীমানার আন্তর্জাতিক মেইন পিলার ৯৭৮-এর সাব পিলার ৯ এসের পাশে এ মসজিদের অবস্থান। এর উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার ঝাকুয়াটারী গ্রাম ও দক্ষিণে ভূরুঙ্গামারীর পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি গ্রাম। দুই সীমান্তের শূন্যরেখায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে নির্মিত মসজিদের নাম ঝাকুয়াটারী সীমান্ত জামে মসজিদ।

১৮২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঝাকুয়াটারী জামে মসজিদ। উপমহাদেশ ভেঙে গেলেও বিভক্ত হয়নি মসজিদটি। ২০০ বছর পুরানো এ মসজিদের দালানটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ। তাই এলাকাবাসী গত এপ্রিল মাসে সেখানে নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

সরকারি-বেসরকারি আর্থিক অনুদান ও দু-দেশের মুসল্লিদের সহযোগিতায় ৩৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্তের মসজিদটির নতুন ভবনের বেশ কিছু অংশ দৃশ্যমান হয়।

মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি কফিলুর রহমান বলেন, দুই দেশের মানুষের একটাই দাবি, আইনি জটিলতা কাটিয়ে ঐতিহাসিক মসজিদটির একটি স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হোক।

স্থানীয় ওয়ার্ডের ইউপি সদস‍্য এরফান আলি বলেন, গত ২১ মে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস‍্য জনাব আছলাম হোসেন মসজিদটি পরিদর্শনে আসেন। আমরা এমপি মহোদয়সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মসজিদ নির্মাণে বিএসএফ কর্তৃক বাধার বিষয়টি জানিয়েছি। তারা দ্রুত বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

কুড়িগ্রাম-২২ ব্যাটালিয়ন বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে দু’দেশের মুসলমানরা একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করে আসছেন এ মসজিদে। মসজিদটির ভবন নির্মাণে বিএসএফ আপত্তি জানিয়েছে। আমরা খুব দ্রুত এর প্রতি উত্তর পাঠাবো। বাধা না দেয়ার জন্য তাদের বলা হবে’।

ফেসবুকে লাইক দিন