কুড়িগ্রামে ছাত্রলীগ নেতার দুই হাতের কবজি কেটে দিল সন্ত্রাসীরা

ইমান২৪.কম: কুড়িগ্রামে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও কলেজশিক্ষক আতাউর রহমানকে কুপিয়ে তাঁর দুই হাতের কবজি ও দুই হাঁটুর লিগামেন্ট কেটে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের কাঁঠালবাড়ী ও জেলা শহরের শহীদ মিনার এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

আজ মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের পালপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আতাউর রহমান কুড়িগ্রাম মজিদা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক। তিনি ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনের ছেলে। হামলার শিকার আতাউর রহমান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি। তিনি কুড়িগ্রাম মজিদা আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, বেলা দুইটার দিকে আতাউর রহমান রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের পালপাড়ায় এলে সেখানে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের কোপে আতাউর রহমানের দুই হাতের কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা সেখান থেকে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেলে পাঠান।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রোগী আতাউর রহমানের ডান হাতের কবজি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বাঁ হাতের কবজি ঝুলে আছে। দুটি হাতই ব্যান্ডেজ করে রাখা হয়েছে। দুই হাঁটুর ওপরে কাটা দাগ রয়েছে, লিগামেন্ট গুরুতর জখম হয়েছে। রোগীকে রক্ত দেওয়া হয়েছে। আমরা ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে মো. বাঁধন নামের এক ব্যক্তি তাঁর সহযোগীদের নিয়ে এ হামলা চালিয়েছেন। তিন মাস আগে আতাউর রহমান বাঁধনের ওপর হামলা করে তাঁকে গুরুতর আহত করেন। বাঁধন দীর্ঘদিন রংপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এ হামলা করা হয়েছে বলে তাঁরা জানান। এদিকে বাঁধনের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হামলার শিকার আতাউরের বড় ভাই রাজু মিয়া বলেন, আতাউর রহমান দুই বন্ধুসহ মোটরসাইকেলে রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের পালপাড়ায় যান। এ সময় বিপরীত দিকে থেকে তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়-সাতজন সন্ত্রাসী হেলমেট পরে এসে তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে তাঁর দুই বন্ধু পালিয়ে গেলেও উপর্যুপরি আঘাতে আতাউর গুরুতর আহত হন। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয় মানুষজনের কাছ থেকে শুনেছেন, বাঁধন এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

ফেসবুকে লাইক দিন