‘কাশ্মীরীরা নিজেদের ভারতীয় মনে করে না’

ইমান২৪.কম: ভারত দখলকৃত কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ জোরালো ও আবেগময় এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, এই মুহূর্তে কাশ্মীরীরা নিজেদের ভারতীয় বলে মনে করে না, তারা ভারতীয় হতে চায় না।

ন্যাশনাল কনফারেন্স পার্টির প্রধান ও চার দশক ধরে কাশ্মীরে সবচেয়ে পরিচিত ‘ভারতপন্থী’ মুখ আবদুল্লাহ ওই সাক্ষাতকারে কাশ্মীরীদের ক্রীতদাস হিসেবেও অভিহিত করে বলেন যে তাদের সাথে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকদের মতো আচরণ করা হচ্ছে।

দি ওয়্যারকে দেওয়া ৪৪ মিনিটের সাক্ষাতকারে ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, কেবল কোনো প্রতিবাদ নেই বলেই কাশ্মীরের জনগণ ২০১৯ সালের আগস্টের পরিবর্তনকে গ্রহণ করে নিয়েছে বলে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দাবি পুরোপুরি ফালতু একটি বিষয়।

তিনি বলেন, প্রতিটি রাস্তা থেকে সৈন্য ও ধারা ১৪৪ প্রত্যাহার করা হলে লোকজন লাখে লাখে তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে আসবে। আবদুল্লাহ দি ওয়্যারকে বলেন, নতুন ডোমিসাইল আইন করা হয়েছে উপত্যকায় হিন্দুদের বন্যা সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতা সৃষ্টির জন্য।

তিনি বলেন, এটি কাশ্মীরী জনগণের মনকে আরো বিষিয়ে তুলেছে। কাশ্মীরীরা ভারত সরকার, এবং বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহকে কিভাবে দেখে, এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল্লাহ বলেন, তারা গভীরভাবে মোহমুক্ত। ভারত সরকারের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই।

যে আস্থা একসময় কাশ্মীরকে অবশিষ্ট দেশের সাথে বেঁধেছিল, তা পুরোপুরি ছিঁড়ে গেছে। নিজের সম্পর্কে ফারুক আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি দুই কূলই হারিয়েছেন। কেন্দ্র তাকে মনে করে বিশ্বাসঘাতক এবং তাকে গ্রেফতার করে।

আর কাশ্মীরীরা তাকে ভারতের দাস মনে করে এবং এটাকে আবদুল্লাহর যথার্থ প্রাপ্তি বলে বলছে। তারা তাকে গালাগাল করে, তাকে ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলে বিদ্রূপ করে। এটি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়, কষ্ট দেয়। তিনি বলেন যে অবশ্য, ৭-৮ মাস আটক থাকায় তার ও অন্যান্য মূলধারার দল কাশ্মীরীদের চোখে কিছুটা মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

লোকজন এখন বুঝতে পেরেছে যে তারা ভারতের দাস নয়। আবদুল্লাহ দি ওয়্যারকে বলেন, কাশ্মীরের বৃহত্তর স্বার্থে মেহবুবা মুফতি ও আবদুল্লাহ পরিবার তাদের অতীত মতভেদ চাপা দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

তিনি বলেন, মেহবুবা মুফতি তার ছেলে ওমর ও তার সাথে রাজনৈতিকভাবে অনেক ঘনিষ্ঠ। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহেই তার সাথে তার যোগাযোগ হয়। তিনি সাক্ষাতকারে আরো ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, কেন মেহবুবা মুফতিকে মুক্তি দেয়া হয়নি। তিনি কি অপরাধী?

ফেসবুকে লাইক দিন