৭ বছর পর মেয়র লোকমান হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার

ইমান২৪.কম: নরসিংদী পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন হত্যাকান্ডের ৭ বছর পর মূল পরিকল্পনাকারী মোবারক হোসেন মোবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। নরসিংদী পুলিশ সুপার সাইফুল্লা আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১১ সালের ১লা নভেম্বর নরসিংদী আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে মেয়র লোকমানকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

পুলিশ জানায়, মোবারক হোসেন মোবা লোকমান হোসেন হত্যা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী ওই হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন মোবা। হত্যাকান্ডের এক সপ্তাহ আগে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। এরপর থেকে তিনি মালয়েশিয়াতে পলাতক ছিলেন। গত ২৫শে অক্টোবর দেশে ফিরেছেন।

নরসিংদীতে তার মালিকানাধীন একটি জমি বিক্রি করতে দেশে এসে আত্মগোপনে ছিলেন।

পুলিশ সুপার জানান, আমরা সব সময় তার ওপর নজর রাখছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সঙ্গে রেহানুল ইসলাম ভূঁইয়া লেলিন নামের আরেক জনকে আটক করা হয়েছে। তিনিও বিভিন্ন মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। মোবারক হোসেন মোবা মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকান্ডের এক সপ্তাহ আগে দেশ ত্যাগ করেন। এতদিন তিনি মালয়েশিয়াতে পলাতক হিসেবে আত্মগোপন করেছিলেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও লোকমানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১লা নভেম্বর পৌর মেয়র লোকমান হোসেনকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই কামরুজ্জামান বাদি হয়ে তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজি উদ্দিন আহমেদের ছোট ভাই সালাহউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এর মধ্যে এক আসামি মোবারক হোসেন মোবা বিদেশে পলাতক ছিলেন। বাকি ১৩ জনের সবাই গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন।

পুলিশ প্রায় আট মাস তদন্ত করে ২০১২ সালের ২৪শে জুন সালাউদ্দিনসহ এজাহারভুক্ত ১১ আসামিকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেয়। তাতে মামলার এজহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি শহর আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোবারক হোসেন, এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি নরসিংদী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি আবদুল মতিন সরকার, তার ছোট ভাই শহর যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম সরকারসহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

পুলিশের দেয়া অভিযোগপত্রে অনাস্থা জানিয়ে ২০১২ সালের ২৪শে জুলাই নরসিংদীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে নারাজি দেন মামলার বাদি কামরুজ্জামান। আদালত ২৫শে জুলাই নারাজি আবেদন খারিজ করে অভিযোগপত্র বহাল রাখেন।

পরবর্তীতে ২৮শে আগস্ট নারাজি আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন বাদি। আদালত ২রা সেপ্টেম্বর সেই আবেদন গ্রহণ করে ৪ঠা নভেম্বর শুনানি শেষে ফের নারাজি আবেদন খারিজ করেন। এরপর উচ্চ আদালতে যান বাদি। তিনি ওই অভিযোগপত্র বাতিল করে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মাধ্যমে আবার তদন্তের দাবি জানিয়ে নিম্ন আদালতে বিচারকার্য স্থগিত রাখতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। আদালত বাদির আবেদনটি আমলে নিয়ে নিম্ন আদালতে বিচারকার্য স্থগিত করে দেন।

আরও পড়ুন: বিকল্পধারার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংলাপে বসছে শুক্রবার

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে সংলাপ ফলপ্রসূ হবে না: মির্জা ফখরুল

অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গেও সংলাপে বসতে রাজি প্রধানমন্ত্রী: কাদের

৫ নভেম্বর সংলাপের ডাক পেয়েছে এরশাদ

ফেসবুকে লাইক দিন