৭১ টিভির পথেই হাটছে ডিবিসি নিউজ: ইসলাম ও আলেম ওলামারাই যেন টার্গেট

ইমান২৪.কম: গতকাল দেখলাম যে, ডিবিসি নিউজের একটি সংবাদের শিরোনামে ওনারা লিখেছেন— “বিশেষ মহলের গণমাধ্যম বয়কটের ঘোষণা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র”।

সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। এভাবে ভুলভাল সংবাদ পরিবেশন করা সংবাদকর্মীদের উচিত নয়। এগুলো আপনাদের পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। গণমাধ্যম বয়কটের কথা আমরা বলিনি। শুধু ৭১ টিভিকে বয়কটের কথা বলেছি। গণমাধ্যম বয়কট করলে আমরা চলবো কি করে? দেশ চলবে কি করে? বয়কটের আহ্বানও তো আমরা গণমাধ্যমের থ্রুতেই করেছি। আপনাদের নিজেদের দোষ পুরো গণমাধ্যমের উপর চাপাতে চাচ্ছেন কেন ভাই? আর আমরাইবা গণমাধ্যমকে বয়কট করতে যাবো কোন দু:খে? বয়কট করেছি সুনির্দিষ্টভাবে একটি টিভিকে। সেটা হচ্ছে ৭১ টিভি।

আর, এখানে রাজনীতি বা ষড়যন্ত্রের কিছু নেই। সব জায়গায় শুধু রাজনীতি খোঁজা— একটা বুদ্ধিবৃত্তিক পঙ্গুত্ব ও অসুস্থ চিন্তার প্রভাব। সুস্পস্ট ইসলাম বিরোধিতার কারণেই ৭১ টিভিকে আমরা বয়কটের আহ্বান জানিয়েছি। বাংলাদেশের প্রথিতযশা আস্থাভাজন প্রায় সকল আলেমগণই এই আহ্বান জানিয়েছেন। বিবেকবান ধর্মপ্রাণ লোকজনও এই আহ্বানের সাথে একাত্ততা ঘোষনা করেছে। এই টিভির সাথে আমাদের বিরোধের জায়গা কেবল একটি— আর সেটা হল ইসলাম বিদ্বেষ। অন্য কিছু নয়। বিভিন্ন প্রোগ্রামে ধারাবাহিকভাবে ইসলামকে হেয় করা, ইসলামের বিভিন্ন অনুষঙ্গগুলোকে ছোট করা কিংবা তাচ্ছিল্যের চোখে দেখা এবং সর্বদা বিভিন্ন ইসলামিক কার্যক্রমের ও মুসলমানদের নেতিবাচকতা খুঁটে খুঁটে বের করাই যেন তাদের ব্রত। তাই, এই টিভি বয়কটের ঘোষণা দেয়াটা ছিল আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

ধরুন, আমি কোনো দোকান থেকে ১ কেজি আটা কিনলাম। বাড়িতে এসে দেখি ওগুলো নষ্ট ছিলো। এবং এরকম ঘটনা যদি বারবার ঘটতে থাকে তখন আমি আমার পরিচিতজনকেও ঐ দোকান থেকে কিছু না কেনার জন্যই অনুরোধ করব। দিস ইজ এজ সিম্পল এজ ইট ইজ। আমরাও তাই করেছি। আপনারাই তো চিন্তার স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে আসর জমিয়ে রাখেন কিন্তু এক্ষেত্রে এসে স্ববিরোধীতা দেখাচ্ছেন কেন?

পাশাপাশি, সংবাদটিতে এভাবে প্রশ্ন করা হয়েছে— “যে বা যারা বয়কটের আহ্বান জানাচ্ছে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু?”

আহবানকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতাই যদি না থাকে তাহলে আপনারা এটা নিয়ে এত উদ্বিগ্ন কেন? আর এটা নিয়ে এত ফলাও করে নিউজ কাভার দিচ্ছেন কেন? পছন্দ না হলে যেকেউ যেকোন গণমাধ্যম এড়িয়ে যেতেই পারে, প্রয়োজনে বয়কটও করতে পারে। এটা নিয়ে বিশেষ কিছু গণমাধ্যমের অতিউৎসাহী হওয়ার কি কারন? আহবানকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আপনারা সন্দিহান হলেও, আপনাদের প্রতি গণমানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা কতটুকু? সেটা জানতে আপনাদের এধরনের হলুদ মেশানো নিউজের কমেন্টসগুলো একটু পড়ে দেখতে পারেন অথবা জরিপ চালাতে পারেন। তখনি জানতে পারবেন আপনাদের ব্যাপারে পাবলিক পার্সেপশন কেমন?

তাছাড়া, একাত্তর টিভির বিভিন্ন টকশোতে এসে, দেশের গুণীজনরা একাত্তর টিভি সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে কি ধরণের মন্তব্য করে গিয়েছেন সেগুলো অনলাইনে ভাসছে। সে আলাপে আর যেতে চাইনা।

যে কোন প্রতিষ্ঠানের নামের শুরুতে শুধু “একাত্তর” শব্দটা বসালেই সেটা গ্রহনযোগ্য হয়ে যায় না। নীতি আর সততা দিয়ে গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করতে হয়। ৭১ কোনো পণ্য নয়, ৭১ সবার। ৭১ মানে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সাম্য ও সুশাসন। যে যার সুবিধামত ৭১ বিক্রির ঠিকাদারি বাতিল করা প্রয়োজন।

পরিশেষে, সকল সাংবাদিক বন্ধুদের কাছে অনুরোধ করব—
হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার করুন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করুন। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলার সৎ সাহস অর্জন করুন। ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়ানো বন্ধ করুন। যে কোন প্রতিবেদনকে প্রান্তিকতামুক্ত রাখতে— শুধুমাত্র অসঙ্গতি বা নেতিবাচকতা নিয়ে পড়ে না থেকে ইতিবাচকতাও তুলে ধরুন। কখনো গুজব ও অনুমাননির্ভর তথ্য প্রচার করতে যাবেন না। যে কোন বিশেষ মহলকে সব সময় সুবিধা দিয়ে নিউজ করা থেকে বিরত থাকুন। লেজুড়বৃত্তির সাংবাদিকতা করে সাংবাদিকতার মত এমন মহান পেশাকে কলংকিত করবেন না প্লিজ। আল্লাহ হাফিজ.. সুত্র: মিজানুর রহমান আজহারীর টাইমলাইন থেকে।

ফেসবুকে লাইক দিন