৬ এপ্রিলের লংমার্চ; ঈমানী চেতনার জাগরণ : মুফতী সাখাওয়াত

মুফতী সাখাওয়াত হুসাইন | সাংগঠনিক সম্পাদক: ইসলামী ঐক্যজোট: এ দেশের জনসংখ্যার ৯০ ভাগ মুসলমান। তাই দেশের প্রধান ধর্ম ইসলাম। ইংরেজ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের চেতনায় ইসলাম। ৪৭-এ ইসলামের নামে স্বাধীন হয় এ দেশ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ জালেমের বিরুদ্ধে মাজলুমের লড়াই। কোনোভাবেই তা ইসলামের বিরুদ্ধে ছিল না; বরং এ দেশের মুসলিমরাই পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে।

তদুপরি এ দেশের কতিপয় রাজনৈতিক দল, বিদেশনির্ভর কতক সংগঠন, বিদেশপোষা কিছু মিডিয়া ইসলামের প্রতি আবেগ-অনুভূতি ও বিশ্বাসকে মূল্যায়ন করতে চায় না। তারা ধর্মনিরপেক্ষতার আওয়াজ তুলে ইসলামকে মুছে দিতে চায়। গণ-মানুষের বিশ্বাসের জায়গায় আঘাত করে বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আর বুঝাতে চায়, এটাই এ দেশের মানুষের চাহাত বা চাহিদা।

শাপলার এই লংমার্চ প্রমাণ করে দিয়েছে এ দেশের মানুষ কী চায়। তারা ইসলামকে কতটা ভালবাসে। ইসলাম বিদ্বেষীদের প্রতি তাদের কতটা ঘৃণা আর ক্ষোভ। তাই সর্বকালের সর্ববৃহৎ এই লংমার্চ ছিল বাংলাদেশের মানুষের ঈমানী চেতনার জাগরণ।

তবে এ থেকে একটু বেশিই আশান্বিত হতে পারি আমরা। আমরা যদি দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারি, কুরবানি ও ত্যাগ স্বীকার করত তাদেরকে আশ্বস্ত করতে পারি, আমাদের হাতে দেশ ও ঈমান নিরাপদ এ কথার প্রমাণ দিতে পারি তাহলে এ বৃহৎ শক্তি আমাদের পাশেই থাকবে। সত্যিকারার্থেই এ দেশের মানুষ ইসলামকে পছন্দ করে। তারা ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা চায়।
দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, এত বৃহৎ জনসমর্থন থাকতেও আমরা সংখ্যালঘু। এ ব্যর্থতা আমাদের। এ ব্যর্থতা ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের।

সময় শেষ হয়ে যায় নি এখনো। যদি এ থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি, সফলতা হাতছানি দিয়ে এগিয়ে আসবে। বিজয় আমাদের হবেই, ইনশাআল্লাহ্‌!

ফেসবুক থেকে

ফেসবুকে লাইক দিন