হেফাজতের সমাবেশ থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হলো

ইমান২৪.কমঃ ট্রাম্পের কাছে হিন্দুনেত্রী প্রিয়া সাহার বাংলাদেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক নালিশ, স্কুলে স্কুলে কমলমতি শিক্ষার্থীদের মন্ত্র পাঠ করিয়ে ইসকনের প্রসাদ খাওয়ান, পাঠ্যবইয়ে ইসলাম বিরোধী বিবর্তনবাদ গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেছে হেফাজত ইসলামী। বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ডাক বাংলো চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে হেফাজত ইসলাম।

সেখানে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী। দেশদ্রোহী প্রিয়া সাহাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, উগ্রহিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন নিষিদ্ধ ঘোষণা, ভারতজুড়ে মুসলমানদের ওপর রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞ বন্ধ এবং পাঠ্যপুস্তকে ডারউইনের কুফরী বিবর্তনবাদ সংযোজনের প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শাহ আহমদ শফী বলেন, প্রিয়া সাহা ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের মুসলমানদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক নালিশ দিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্বে আমাদের মাতৃভূমির ইমেজ কলঙ্কিত করে সম্রাজ্যবাদী অপশক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে।এই দেশদ্রোহী প্রিয়া সাহার ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার দেশের ভাবমর্যাদা ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করে সম্রাজ্যবাদের চক্রান্ত সফল করার গভীর ষড়যন্ত্রেরই অংশ।

তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী প্রিয়া সাহাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ‘হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ’এবং উগ্রহিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন নিষিদ্ধ করুন। ‘প্রিয়া সাহা’ পরিচালিত ‘শারি’ নামের এনজিও’র লাইসেন্স বাতিল করুন।

অন্যথায় দেশপ্রেমিক তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে যে কোন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি| আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, বিবর্তনবাদ পাঠ কুফরি শিক্ষা। অবিলম্বে নাস্তিক্যবাদী ধ্যান-ধারণায় গড়ে তোলার সর্বনাশা উদ্যোগ পাঠ্যবই থেকেবাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে ‘বিবর্তনবাদ’ অন্তর্ভুক্তির সাথে যারা জড়িত, তাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইসকন কর্তৃক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোরদের দেব দেবীকে উৎসর্গকৃত প্রসাদ খাওয়ানো এবং তাদের মুখ দিয়ে হিন্দুদের ধর্মীয় মন্ত্র পাঠ করানো গভীর চক্রান্তেরই অংশ। কিছুদিন আগে সম্প্রীতি বাংলাদেশ নামে পীযূষ বন্দোপাধ্যায়রা ইসলামের বিধিবিধানকে জঙ্গিবাদের নিয়ামক হিসাবে চিহ্নিত করে পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপণ দিয়েছিল।

এখন উগ্রহিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন দেবদেবীকে উৎসর্গকৃত প্রসাদ মুসলিম শিশু-কিশোরদের খাইয়ে তাদেরকে ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম হরে হরে’ বলিয়েছে। বাংলাদেশের মত একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশে ইস্কনের এহেন ধর্মীয় উস্কানি সহ্য করা যায় না৷ তারা কোটি কোটি মুসলিম তৌহিদি জনতার হৃদয়ে আঘাত হেনেছে। এদের প্রতিহত করতে হবে।

আরো পড়ুন>> এইচএসসির ফলাফল প্রকাশ করার এক সপ্তাহ পার হলেও যশোর শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল পায়নি ২০ জন পরীক্ষার্থী। অনলাইনে তাদের ফলাফল স্থগিত দেখিয়েছে। এ কারণে এসব শিক্ষার্থী এখন পর্যন্ত জানতে পারেনি তারা পাস নাকি ফেল করেছে। ফলাফল স্থগিত থাকা এ রকম শিক্ষার্থীরা ফলাফল জানতে শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করেছে বলে জানা গেছে।

তবে বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে কেন্দ্র সচিবদের ভুলের কারণে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যাটি বোর্ডের ফলাফলের হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলাফল না পাওয়া কোনো শিক্ষার্থী আবেদন করলে তার ফলাফল জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে কেন্দ্র সচিবদের সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে।

গত ১৭ জুলাই যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন কিন্তু ভালো পরীক্ষা দিয়েও এখনও পর্যন্ত ফলাফল পায়নি অনেক পরীক্ষার্থী বলে তাদের অভিযোগ। এ ঘটনায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। বুধবার বোর্ডে গিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে।

পরীক্ষার ফলাফল না পাওয়া পরীক্ষার্থী হলেন, বাগেরহাট মোড়েলগঞ্জের রওশন আলী মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মিস রেহেনা। তার রোল ২০৮৮১৯। আবেদন করা আরেক পরীক্ষার্থী যশোর দাউদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে অংশ নেয়া সোহানা জামান। তার রোল ১০৯০১৩। তাদের দাবি তারা ভালো পরীক্ষা দিয়েছে।

ফলাফলও ভালো হবে কিন্তু ফলাফল জানতে না পারায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) সমীর কুমার কুন্ডু জানান, অনেক সময় কেন্দ্র সচিবরা যথাসময়ে অনেক পরীক্ষার্থীর ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর পাঠাতে ভুল করেন। অথবা কিছু পরীক্ষার্থীর নম্বর পাঠাতে বাদ পড়ে।

এসব পরীক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত রাখা হয়। পরে তারা আবেদন করলে ফলাফল স্থগিত রাখার বিষয়টি সমাধান করে দেয়া হয়। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবদের সতর্ক করে দেয়া হয়। তারা যাতে এ রকম ভুল আর না করেন। অথচ পরীক্ষার আগে বোর্ডে সব কেন্দ্র সচিবদের নিয়ে মতবিনিময়সভা করা হয়। ওই সভায় পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়।

সভায় কেন্দ্র সচিবদের নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয় অঙ্গীকার করা হয়। পাশাপাশি অনলাইনে যথাসময়ে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর পাঠাতে বলা হয়। এরপর কেন্দ্র সচিবরা যথা সময়ে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর না পাঠানো ও পাঠাতে ভুল করায় পরীক্ষার মূল ফলাফল প্রকাশের পরও নিজেদের ফলাফল জানতে পারেনি অনেক পরীক্ষার্থী।

এ ব্যাপারে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল আলিম জানান, যেসব পরীক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত রয়েছে যাচাই-বাছাই করে তাদের ফলাফল দেয়া হবে। কিছু শিক্ষকদের ভুলের কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ সঠিক কাজের বিষয়টা বুঝতে চেষ্টা করেন না। যদি তারা মারাত্মক ভুল করেন তাহলে তাদের কেন্দ্র সচিবের পদটি প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

ইমান২৪/আর

ফেসবুকে লাইক দিন