হাদীসের আলোকে ছুতরা কি ও কেন?

নামাযীর সামনে দিয়ে যাওয়া অনেক বড় গুনাহ। এ বিষয়ে যাতায়াতকারীর সাবধান থাকা জরুরী। তদ্রুপ নামায আদায়কারীর কর্তব্য হল এমন জায়গায় নামায পড়া যাতে মুসল্লীদের চলাফেরায় অসুবিধা না হয়।

এমন জায়গা পাওয়া না গেলে নামায শুরু করার আগে এমন কোনো জিনিস সামনে রাখবে, যার উচ্চতা এক হাতের কাছাকাছি (প্রায় ১ ফুট)। একে “ছুতরা” বলে। জামাতের নামাযে ইমামের সামনে “ছুতরা” থাকাই যতেষ্ট। “ছুতরা”র সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে গুনাহ হয় না।

১।ছুতরার ব্যাখ্যাঃ- উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত—

سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن سترة المصلى،فقال صلى الله عليه وسلم:مثل مؤ خرة الرحل. (مسلم:سترة المصلى)

“রাসূল(সাঃ)কে নামাযীর “ছুতরা” সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি উত্তরে বললেন, “ছুতরা” হাওদার পিছনের লাঠির সমান হতে হবে। -(সহীহ মুসলিমঃ১/১৯৫)

এ হাদীসের ব্যাখ্যায় আল্লামা নববী (রহঃ) বলেন, “ছুতরা কমপক্ষে হাওদার পিছনের লাঠির সমান হতে হবে, যা হাতের কনুই থেকে কব্জি পর্যন্ত বা এক হাতের দুই তৃতীয়াংশ পরিমান হয়ে থাকে।এ উচ্চতার কোনো জিনিস দাঁড় করিয়ে দিলে তা ” ছুতরা” এর কাজ করবে। এই হাদীস থেকে আরও বুঝা যাচ্ছে যে, সামনে “ছুতরা” স্থাপন করে নামায পড়া উত্তম।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত—

كان النبي صلي الله عليه وسلم يغدو إلى المصلى، والعنزة بين يديه تحمل، وتنصب المصلى بين يديه،فيصلي إليها.(بخارى: حمل العنزة بين يدي الامام يوم العيد)

“রাসূল (সাঃ) যখন ঈদগাহে যেতেন তখন তাঁর সম্মুখে নেযা বহনকারী থাকত। এই নেযা ঈদগাহে গেড়ে দেওয়া হত এবং নবী (সাঃ) তার পিছনে নামায আদায় করতেন।
-(সহীহ বুখারীঃ১/১৩৩)

২। নামাযের সামনে দিয়ে যাওয়ার শাস্তিঃ

আগেই বলা হয়েছে যে, ছুতরাবিহীন অবস্থায় নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করা বড় গুনাহ। এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে কঠিন শাস্তির কথা এসেছে।

হযরত আবু জাহম(রাঃ) থেকে বর্ণিত—

قال رسول الله صلى الله عليه و سلم :لو يعلم المار بين يدي المصلي مازا عليه لكان أربعين خيرا له من أن يمر بين يديه.
قال ابو النصر : لا أدري أقال : أربعين يوما، أو شهراً،أو ستة.(موطا مالك:التشديد في أن يمر أحد…)

“রাসূল (সাঃ) বলেন, নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী যদি জানত এতে কীরুপ শাস্তি ভোগের আশঙ্কা রয়েছে তবে চল্লিশ পর্যন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে থাকাও সে ভালো মনে করত।”

“আবুন নাযর বলেন,আমার জানা নেই,হাদীসে চল্লিসের কী অর্থ,চল্লিশ দিন,চল্লিশ মাস,কি চল্লিশ বৎসর।(মুয়াওা মালিকঃপৃ.৫৪)

কাব আহবার বলেন—
لو يعلم المار بين يدي المصلي ماذا عليه لكان أن يخسف به خيرا له من أن يمر بين يديه.(موطا مالك)

নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী যদি জানত এতে কীরূপ শাস্তি রয়েছে তবে সে এ কাজ না করে ভূমিতে ধ্বসে যাওয়াও ভালো মনে করত।

“”””আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে হাদীসের ওপর আমল করার তৌফিক দান করুন।
“””””””””””””””””””আমীন“”””””””””””””””””””””

লেখকঃ মাও. আরিফুল ইসলাম

ফেসবুকে লাইক দিন