হাটহাজারী মাদরাসায় আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কে?

ইমান২৪.কম: বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামী বিদ্যাপীঠ ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসায় চলছে ছাত্রদের আন্দোলন। কওমী মাদরাসার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমস্যার জের ধরে এ আন্দোলন শুরু হয়েছে।

এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং কাদের কথায় আন্দোলনটি হচ্ছে বিষয়টি এখনও পরিষ্কার হওয়া যায়নি। ছাত্ররাই তাদের অধিকার আদায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করছে বলে জানা গেছে।

তবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও হাটহাজারী মাদরাসার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় ও চট্টগ্রামের বেশ কিছু মাদরাসা নিয়ে বাড়াবাড়ি করাসহ অনেক সমস্যার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের দৃশ্যমান প্রতিবাদ হিসেবে এই আন্দোলনের সূত্রপাত বলেও মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাটহাজারী মাদরাসার আর একজন শিক্ষক। হাটহাজারী মাদরাসার গেটের বাইরে পুলিশের সতর্ক অবস্থা রয়েছে। তারা মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছেন তবে মাদরাসার গেট বন্ধ থাকায় পুলিশ ভেতরে ঢুকতে পারেনি।

অপরদিকে পুলিশ ভেতরে ঢুকলে ছাত্রদের সাথে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে অনেকে। জানা গেছে – চট্টগ্রামে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ এই কওমি মাদ্রাসাটিতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক মতপার্থক্য চলে আসছিল।

বিশেষ করে আল্লামা আহমদ শফীর সন্তান আনাস মাদানী এবং আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে কেন্দ্র করে পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা চলছে। তার আগে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের প্রবীণ আলেম মুফতি ইজহার ও তার সন্তান মুফতি হারুন ইজহার এর সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য হয়েছে। যে মতপার্থক্যের জের ধরে হেফাজত থেকে পারস্পরিক বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটেছে।

এরপর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নিয়েই ফটিকছড়ির প্রবীণ আলেম আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সাথেও আল্লামা শফী ও তার পুত্রের মতবিরোধ হয়েছে। সামগ্রিক এসব ঘটনা উপ-ঘটনা মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কওমি মাদরাসার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমস্যা চলে আসছিল। সাথে যুক্ত হয়েছে সাম্প্রতিক বেফাক বিষয়ক অস্থিরতাও। করোনাভাইরাস মহামারী সময় পুরো লকডাউনের সময়টিতেই কওমি মাদ্রাসার ছাত্ররা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়গুলো নিয়েই ব্যস্ত ছিল।

এর মধ্যে গত মাসখানেক আগে হাটহাজারী মাদরাসা খোলার পর আজ (১৬ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ করে জোহরের নামাজের পর হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্ররা হাটহাজারী মাদ্রাসার মাঠে নেমে আসে এবং আন্দোলন শুরু করে দেয়। বেশ কিছু দাবি নিয়ে তারা আন্দোলনে নামে।

যার মধ্যে অন্যতম হলো – আল্লামা শফী পুত্র আনাস মাদানীর বহিষ্কার, ছাত্রদের প্রতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ও হয়রানি বন্ধ করা, আল্লামা আহমদ শফিকে মাজুর হিসেবে পরিচালকের পদ থেকে সম্মান জনক অব্যাহতি ও উপদেষ্টা বানাতে হবে। এবং উস্তাদের পূর্ণ অধিকার বিয়োগ-নিয়োগকে শুরার নিকট পূর্ণ ন্যাস্ত করা।

এছাড়াও বিগত শুরার হক্কানী আলেমদেরকে পূর্ণবহাল ও বিতর্কিত সদস্যদের পদচ্যুত করতে হবে বলেও দাবিতে জানানো হয় তা না হলে পরবর্তিতে আরো কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তারা। এসব বিষয়ে হাটহাজারী মাদ্রাসায় অবস্থানরত একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ‘বর্তমানে উত্তাল অবস্থায় রয়েছে ছাত্ররা। মাদ্রাসার গেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে এবং মাওলানা আনাস মাদানী রুম ভাঙচুর করা হয়েছে।’

ফেসবুকে লাইক দিন