সৎ কর্মের প্রতিদান সম্পর্কে কোরআন হাদিস যা বলে …..

ইমান২৪.কম: মানুষ তার মনের কামনা বাসনা, চাওয়া-পাওয়া তথা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য আল্লাহর শিখানো ভাষায় ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র জবান হাদীসের বর্ণনায় আমল করলে আল্লাহ তাআলা মানুষের সকল প্রকার নেক মাকসেদ পূরণ করতে পারেন। সবকিছুই নির্ভর করে এমন এক মৌলিক গুণের ওপর, যার নাম নিয়ত বা সংকল্প অথবা ইচ্ছা। এই নিয়ত বা ইচ্ছার পরিপ্রেক্ষিতেই মোড় নেয় কাজের ধরন, গতি, ধারা এবং ফলাফল। ভালো ও মন্দ কাজের শুরুটা মূলত নিয়তের দ্বারাই হয় এবং ইচ্ছার প্রভাবেই বিভাজিত হয়। কেউ চিরস্থায়ী নয়। সবাইকে চলে যেতে হয়। যাওয়ার সময় কেউ সঙ্গে যাবে না। যাবে শুধু নিজের কৃত আমল।

কিয়ামতের দিন কঠিন সময়ে তারাই মুক্তি ও সফলকাম হবে যাদের সৎ আমলের পাল্লা ভারি হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন- ‘তোমরা কি আমাদের সঙ্গে আল্লাহর ব্যাপারে বিতর্ক করছ অথচ তিনি আমাদের রব ও তোমাদের রব? আর আমাদের জন্য রয়েছে আমাদের আমলগুলো এবং তোমাদের জন্য তোমাদের আমলগুলো এবং আমরা তার জন্যই একনিষ্ঠ। (সূরা বাকারা : ১৩৯ ) আমাদের জীবনের সকল কর্মকাণ্ড আল্লাহর জন্যই। আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, ব্যবসায়ীক জীবন, অর্থনৈতিক জীবন, সাংস্কৃতিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন তথা জীবনের সকল ক্ষেত্রে সকল প্রকার কাজকর্ম সব কিছুই আল্লাহর জন্য।

যদি এই নিয়তই মানুষের থাকে তবে সকল কাজ মানুষের সহজ হয়ে যাবে, প্রতি শ্বাস-প্রশ্বাস মানুষের ইবাদতে পরিণত হবে। আল্লাহ বলেন- ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। অর্থ : আমার নামাজ, আমার কুরবানী, আমার জীবন, আমার মরণ সকল কিছুই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য। ভালো কাজ কমবেশি সব মানুষই করে থাকে। যারা দুনিয়ার জীবনকেই একমাত্র জীবন মনে করে, মৃত্যুকেই মানবের নিঃশেষ বলে বিশ্বাস করে কিংবা সত্য দ্বীনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না, তাদের সৎকর্মের ফলাফল কোনো না কোনোভাবে আল্লাহ্ দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন। কেননা, আখেরাতে প্রতিদান পেতে হলে শর্ত হলো সৎকর্মের সঙ্গে ইমানের সংযুক্তি।

অতএব, যারা সৎকর্ম শুধু জনকল্যাণ, সততার বহিঃপ্রকাশ কিংবা একান্ত নিজস্ব প্রয়োজনে সম্পাদন করে থাকে তারা পার্থিবতায় যা পায় একজন ইমানদার ব্যক্তিও তা থেকে বঞ্চিত হন না। পার্থক্য হলো মুমিন ব্যক্তি তার ইমানের দাবি হিসেবে, তার প্রভুর আদেশ হিসেবে এবং তার আখেরাতের পুঁজির অতিরিক্ত কিছু হিসেব করেই সৎকর্মের নিয়ত বা ইচ্ছা করে থাকে। লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল আ’যিমুল হালি-ম, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রাব্বুল আ’রশিল আ’জি-মি, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরযি রাব্বুল আরশিল কারীম।

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে লোক চিন্তা-ভাবনা, পেরেশানী কিংবা কোনো জটিল বিষয়ের সম্মুখীন হবে তার পক্ষে উপরোল্লেখিত বাক্যগুলি পড়া উচিত। তাতে সমস্ত জটিলতা সহজ হয়ে যাবে। (সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম; মেশকাত হাদীছ নং ২৩০৫) আল্লাহুম্মা ইন্নি- আউ’যুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি, ওয়াল আ’ঝজি ওয়াল কিসলি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া যাল্লাআ’দ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজালি। অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থণা করছি (সকল প্রকার) চিন্তা-ভাবনা, অপারগতা, অলসতা, কৃপণতা এবং কাপুরুষতা থেকে, অধিক ঋণ থেকে ও দুষ্টু লোকের প্রাধান্য থেকে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম পৌঁছেই মাজার জিয়ারত করলেন ড. কামাল-ফখরুলের

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ফেসবুকে লাইক দিন