স্বাভাবিকভাবেই আল্লামা শফীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার

ইমান২৪.কম: সেপ্টেম্বর মাসের ১৮ তারিখ শুক্রবার বিকেলে ইন্তেকাল করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ ও আল হাইয়াতুল উলিয়ার চেয়ারম্যান, দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার সদরুল মুহতামীম শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রহ.। তার ইন্তেকাল নিয়ে একটি গোষ্ঠি সমালোচনার সূত্রপাত করছে।

তাদের দাবি, আল্লামা শফী রহ. এর অস্বাভাবিক ইন্তেকাল হয়েছে। তবে এবিষয়ে মুখ খুলেছেন তার পরিবার। তার স্বাভাবিকভাবে মুত্যু হয়েছে বলে পরিবাবের পক্ষে আল্লামা শফী রহ. এর বড় ছেলে মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ জানিয়েছেন। হাটহাজারী মাদরাসায় আল্লামা শফীর স্মৃতি বিজড়িত কক্ষে মরহুমের ইন্তেকাল নিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ”গত বৃহস্পতিবার রাতে আব্বা বেশি অসুস্থ হয়ে গেলে আমার বড় ছেলে আরশাদসহ অন্যান্যরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

আব্বার শারিরিক অবস্থার অবনতির কারণে পরের দিন শুক্রবার বিকেল ৪.১৫ মিনিটে সেখান থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর ১৫/২০ মিনিট পর আমার আব্বা রফীকে আলার ডাকে সাড়া দিয়ে চির বিদায় নেন। স্বাভাবিকভাবে আমার আব্বা মৃত্যু বরণ করেছেন।” হাটহাজারীতে আল্লামা শফীর পড়াশোন, শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ ও তার অবদান সম্পর্কে মাওলানা ইউসুফ বলেন, ‘আমার আব্বা হাটহাজারী মাদরাসার জন্য পুরো জীবন ওয়াকফ করে দিয়েছেন।

তিনি ১০ বছর বয়সে হাটহাজারী মাদরাসায় ভর্তি হয়ে দীর্ঘ ১০বছর পড়াশোনা করে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে ভর্তি হন। সেখানে চার বছর পড়াশোনা শেষে শাইখুল আরব ওয়াল আজম শাইখুল ইসলাম হোসাইন আহমদ মাদানী রহ. এর খেলাফত লাভ করে হাটহাজারী মাদরাসায় চলে আসেন। গাড়ি থেকে হাটহাজারী মাদরাসায় নামার পর আব্দুল ওয়াহাব রহ. দেখে বলেছিলেন, ‘‘আহমদ শফী, যাও ঘন্টা করো।’’ কোন কথা ছাড়াই আমার আব্বাকে এভাবেই মাদরাসায় নিয়োগ করেছিলেন। সেখান থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এই মাদরাসার তিনি খেদমত করেছেন।

১৪০৭ হিজরীতে মুফতী ইউসুফ রহ., হাজ্বী ইউনুস রহ. ও খতিব ওবায়দুল হক রহ. সহ দেশ বরেণ্য ওলামায়ে কেরাম আব্বাকে জোড়পূর্বক মুহতামীমের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেই থেকে আমার আব্বা এ মাদরাসার সব খেদমত করেছেন। টিন সেট মাদরাসার সবগুলো বিল্ডিং আব্বার হাতে হয়েছিল। তিনি মাদরাসার কাজ এমনভাবে করে গেছেন যাতে অন্য কারো হাত দেওয়া প্রয়োজন হবে না। আজীবন এগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

মরহুম আল্লামা শফী রহ. এর স্ত্রী ও পরিবারের জন্য দুআ চেয়ে তিনি বলেন, ”আমার আব্বার যদি কোন ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন, আল্লাহর ওয়াস্তে আমি আমার আব্বার পক্ষ থেকে সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আল্লাহর ওয়াস্তে আমার আব্বাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমার আব্বা দুনিয়া থেকে চলে গেছেন, সবাই আমার আব্বার রুহানি সন্তান। আব্বার জন্য দুআ করবেন। আমার আম্মার জন্য দুআ করবেন।

তিনিও অসুস্থ। আমি দেশবাসীর কাছে আমার পরিবারের জন্য দুআ কামনা করছি। সবাই আমার আব্বা এবং আমাদের জন্য দুআ করবেন।” আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফের এই ভিডিও বার্তায় উপস্থি দেখা গেছে হাটহাজারী মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য মাওলানা শেখ আহমদ, মাওলানা ইয়াহইয়া, মরহুমের নাতি মাওলানা আরশাদ, মাওলানা ফয়সাল, মাওলানা আসআদকে।

ফেসবুকে লাইক দিন