সৌদি আরবে প্রথম সিনেমা হলের উদ্ভোদন ১৮ এপ্রিল

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে আগামী ১৮ এপ্রিল উদ্ভোদন হচ্ছে সৌদি আরবের প্রথম সিনেমা হল। ৩৫ বছর পর গত বছরের ডিসেম্বরে সৌদি রাজপরিবার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দেশটিতে সিনেমা হল চালু হচ্ছে।

সৌদি আরবের জনগন হলে গিয়ে সর্বশেষ সিনেমা দেখেছে ১৯৭০ এর দশকে। এর পর ইসলামি নেতাদের চাপে সিনেমা হলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই সময় আরব অঞ্চলের দেশগুলোতে ইসলামি শাসনের ব্যাপক উত্থান ঘটে।

গত বছরের ডিসেম্বরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে সৌদি আরবজুড়ে সিনেমা হল চালুর সিদ্ধান্ত নেয় রাজপরিবার। এর অংশ হিসেবে এ মাসে রিয়াদে প্রথম সিনেমা হল চালু হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে সৌদির ১৫ শহরে ৪০টি সিনেমা হল খোলা হবে।

২০১৭ সালে সৌদি সরকার জানায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যাপক সংস্কার চলছে, তার অংশ হিসেবে চলচ্চিত্রের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিনেমা হল চেইন আমেরিকান মুভি ক্লাসিকস বা এএমসির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে সৌদি আরবের। বিনোদনের নানা উৎসে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

পশ্চিমা গণমাধ্যম এবং সংস্কৃতির বড় ধরনের বাজার রয়েছে সৌদি আরবে। চলচ্চিত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সৌদিতে হলিউড সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজের প্রচুর দর্শক রয়েছে। তারা বাড়িতে বসেই হলিউড সিনেমা দেখেন এবং এনিয়ে বেশ আলোচনাও করেন।

এএমসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাডাম অ্যারোন এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘এএমসির প্রথম সিনেমা হল নির্মিত হবে রিয়াদের কিং আব্দুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল জেলায়। এটি হবে সিম্ফনি কনসার্ট হল। প্রধান যে থিয়েটারটি নির্মাণ করা হবে সেটিতে প্রায় ৫০০ আসন, বাদক দলের জন্য মঞ্চ, ব্যালকনি ও মার্বেল পাথরের বাথরুম থাকবে।

‘আমরা মনে করি এটিই বিশ্বের সবচেয়ে চমৎকার সিনেমা হল হতে যাচ্ছে। এটি একটি নাটকীয় ভবন হবে।’

৩ কোটি ২০ লাখ মানুষকে টার্গেট করে সৌদি আরবে সিনেমা শিল্পের বিস্তার ঘটাতে চায় দেশটি। এই মানুষদের অধিকাংশের বয়স ৩০ বছরের নিচে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে ৩৫০টির বেশি সিনেমা হল ও আড়াই হাজারের বেশি পর্দা বসানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সৌদি।

যা থেকে বছরে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি টিকেট বিক্রি হবে বলে প্রত্যাশা করছে মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল এই দেশ।

এ এম সি এন্টারটেইনমেন্ট সৌদি ছাড়াও তাদের কর্মকাণ্ড দুবাইতেও চালিয়ে আসছে। সৌদি সিনেমা শিল্পে নিজেদের অবস্থান বিস্তারে আগামী ১০ বছরে অন্তত ৬৪ বিলিয়ন ডলারের একটা প্যাকেজ হাতে নিয়েছে।

সৌদি আরবে সিনেমা হলে মহিলা

সৌদি আরবে সিনেমা হলে মহিলা iman24.com

বহুদিনের কঠোর নিয়মকানুন সম্প্রতি শিথিল করতে শুরু করেছে সৌদি সরকার। সিনেমা হলের পাশাপাশি আরও অনেক বিষয়ের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে দেশটি। এর মধ্যে একটি হল মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি।

এছাড়া সৌদি মেয়েদের বোরকার মতো পোশাক আবায়া পরিধানে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ডিসেম্বরে সৌদি আরবে প্রথম কোন গানের কনসার্টে নারী সঙ্গীত শিল্পীকে গাইতে দেখা যায়। একই সঙ্গে কিছুদিন আগে স্টেডিয়ামে গিয়ে মেয়েদের খেলা দেখারও অনুমতি দেয়া হয়েছে দেশটিতে।

কিন্তু সৌদি আরব তার নীতিমালায় কেন পরিবর্তন আনছে?

শোনা যাচ্ছে, সৌদি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রভাবে এসব হচ্ছে।

সৌদি আরবে প্রথম সিনেমা হলের উদ্ভোদন -সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

সৌদি আরবে প্রথম সিনেমা হলের উদ্ভোদন -সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

তার ভিশন-২০৩০ অনুযায়ী, দেশটি সামাজিক সংস্কারের দিকে এগোচ্ছে। এর মাধ্যমে সৌদি আরবকে ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চান যুবরাজ সালমান। যে পথে আরও বেশি করে পশ্চিমা বিশ্বের স্বীকৃতি প্রবেশ করবে দেশটিতে।

সৌদি আরবের কিছু নীতিমালায় পশ্চিমা বিশ্বে অনেক দিন ধরেই সমালোচনা ছিল। নারী অধিকার তার একটি।বিনোদনের কেন্দ্র চালু করার মাধ্যমে রক্ষণশীল সমাজ থেকে সরে আসার এক ধরনের নমুনা সম্ভবত দাঁড় করাতে চাইছে সৌদি আরব।

সূত্রঃ ইন্টারনেট       [ইমান২৪.কম]

ফেসবুকে লাইক দিন