সৌদি আরবের সাথে কী চাল চালছে তুরস্ক?

ইমান২৪.কম: জাতিসংঘ থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইসরায়েল, জার্মানি বা ফরাসী বুদ্ধিজীবীরা – গত কয়েকবছরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়েপ এরদোয়ানের সমালোচনার শিকার হওয়া গোষ্ঠীর সংখ্যা গুনে শেষ করা যায় না। এবার সেগুলোর সাথে সৌদি আরব সম্পর্কে মি: এরদোয়ানের মন্তব্য তুলনা করা যাক। সৌদি আরব তাদের তুর্কি দূতাবাসে সাংবাদিক জামাল খাসোগজির নিহত হওয়ার ঘটনা স্বীকার করার পর মি: এরদোয়ান বলেন, “বাদশাহ সালমানের সত্যবাদিতা নিয়ে সন্দেহ করার কোনও কারণ নেই আমার কাছে।” মি: এরদোয়ানের মুখপাত্র সৌদি আরবকে একটি ‘বন্ধুত্বপূর্ণ, ভাতৃপ্রতিম দেশ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তা সত্ত্বেও তুরস্ক সরকারের সমর্থক গণমাধ্যম রিয়াদের ওপর চাপ তৈরি করার উদ্দেশ্যে খাসোগজি হত্যার খবর প্রকাশ করছে, যেখানে এমন ইঙ্গিতও করা হয়েছে যে অত্যন্ত ক্ষমতাধর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জ্ঞাতসারে বা তাঁর আদেশে হত্যা করা হয়েছে খাসোগজিকে। কাজেই প্রশ্ন উঠতেই পারে, প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়েপ এরদোয়ান আসলে কী চাল চালছেন? তুরস্ক থেকে বিবিসির মার্ক লোয়েন লিখেছেন, তিনি যতটুকু জানতে পেরেছেন, এই বিষয়ে তাঁর (মি: এরদোয়ানের) সংযত কণ্ঠের কারণ সৌদি আরবকে এটা বোঝানো যে, বিষয়টি তুরস্ক ও সৌদি আরবের সম্পর্কে অবনতি ঘটাবে না।

দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন চলতে থাকলেও এই মুহূর্তে সম্পর্ক নষ্ট করার কোনও উদ্দেশ্য তুরস্কের নেই। বাদশাহ সালমানের ওপর সরাসরি দোষারোপ না করে এবিষয়ে তাঁর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন মি: এরদোয়ান। এমনকি সংসদে এবিষয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নামও উল্লেখ করেননি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। যুবরাজকে নিজের সমকক্ষ হিসেবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করতে চান না বলেই মি: এরদোয়ান যুবরাজের নাম উল্লেখ করেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। আঙ্কারার উদ্দেশ্য,

সৌদি বাদশাহ সালমান ও তাঁর পুত্রের মধ্যে একটি বিভাজন তৈরি করা। কিন্তু এই উদ্দেশ্য সফল করতে পারে শুধুমাত্র ওয়াশিংটন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মিত্র ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যদি যুবরাজের বিরুদ্ধে যেতে প্ররোচিত করা যায় তাহলে হয়তো বাদশাহ সালমানের অবস্থান পরিবর্তন হতে পারে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম পৌঁছেই মাজার জিয়ারত করলেন ড. কামাল-ফখরুলের

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ফেসবুকে লাইক দিন