সোলাইমানি হত্যায় বাংলাদেশে যে ৩ ধরণের প্রভাব পড়বে

ইমান২৪.কম: মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যদি আরও খারাপ হয় তাহলে তার প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে বলে মনে করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রহমান। বাংলাদেশে কী ধরণের প্রভাব পড়তে পারেন? জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিরাজ করলে শঙ্কার কিছু নেই। কিন্তু পরিস্থিতির যদি আরও অবনতি ঘটে তাহলে বাংলাদেশে তিন ধরণের প্রভাব পড়বে।

প্রথমত: তেলের দাম: সংঘাত শুরু হলে ইরান প্রথমে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে। এর প্রভাব পড়বে দুনিয়াজুড়ে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল করে। তেল সরবরাহ বিঘ্ন হলে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাবে। বাংলাদেশকেও অতিরিক্ত দামে তেল কিনতে হবে। এর ফলে বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। জ্বালানির দাম বাড়লে নানা খাতেই তার প্রভাব পড়বে।

দ্বিতীয়ত: রেমিটেন্স: অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্য হচ্ছে রেমিটেন্সের প্রধান উৎস। এখানে যদি সংঘাত হয় তাহলে রেমিটেন্সে প্রভাবতো পড়বেই। কারণ মধ্যপ্রাচ্য এখন দুই ব্লকে বিভক্ত। ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ব্লকে রয়েছে সৌদি, আরব আমিরাত, কুয়েতসহ কয়েকটি দেশ। কিন্তু এই তিনটি দেশে লাখ লাখ প্রবাসী রয়েছে। অন্যদিকে ইরান ব্লকে রয়েছে কাতারসহ কয়েকটি দেশ। কাতার বাংলাদেশের রেমিটেন্সের বিরাট উৎস। এসব দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ সরাসরি ভুক্তভোগী হবে।

তৃতীয়: কূটনৈতিক: তৃতীয় দিকটি হচ্ছে বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ। ইরান ও কাতার চীন-রাশিয়া ব্লকের সঙ্গে আছে। চীন-রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশেরও ভালো বন্ধুত্ব রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি, কুয়েত ও আরব আমিরাত ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ব্লকে। বাংলাদেশ এই দুই ব্লকের কোনো ব্লকেই যেতে পারবে না। ফলে একটা উভয় সঙ্কটে পড়তে হবে। তবে বাংলাদেশের কোনো পক্ষেই যাওয়া উচিৎ হবে না বলে মত দেন ড. তারেক শামসুর রেহমান।

ফেসবুকে লাইক দিন