সেই ওয়াহেদ ম্যানশনে সব পুড়ে গেলেও অক্ষত কোরআন-হাদিসের বই

ইমান২৪.কম: পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার হাজী ওয়াহেদ ম্যানশনে আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। সেই আগুনের সূত্রপাত কীভাবে সেটি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এই আগুনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় চারতলা ওয়াহেদ ম্যানশন!

অবাক করার বিষয় হলো আগুনে ওয়াহেদ ম্যানশনসহ পাঁচটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অপার বিস্ময়ে অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদ। আগুনে মসজিদের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। পাশে রাজমনি হোটেলের সামনের শাটার, হাড়িপাতিল ও আসবাবপত্রও পুড়ে গেলেও পুরোপুরি অক্ষত ছিল হোটেলে প্রবেশদ্বারের ওপরে লেখা কালেমা তৈয়্যবা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা.)’।

আর পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়া ওয়াহেদ ম্যানশনের ভেতরে রয়েছে আরেক বিস্ময়! আগুনে ভবনের ভেতরে থাকা সব আসবাব পুড়ে কয়লা হলেও অক্ষত আছে ভবনের দোতলার একটি ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে থাকা পবিত্র কোরআন শরিফ ও হাদিসের গ্রন্থসহ অন্য বইগুলো।

সেই ওয়াহেদ ম্যানশনে সব পুড়ে গেলেও অক্ষত কোরআন-হাদিসের বই

শুক্রবার সকালে ওয়াহেদ ম্যানশনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির নিচতলা থেকে শুরু করে প্রতিটি ফ্লোরই আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু নিচতলার একটি গোডাউনে এখনো প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক পদার্থ অক্ষত অবস্থায় মজুদ রয়ে গেছে।

ভবনের সব ফ্লোরে আগুনের ভয়াবহতার চিহ্ন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গোটা ভবনটি! সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গেলে দেখা যায়, আগুনে পোড়া জিনিসপত্রগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। রান্নাঘরে চুলার উপরে থাকা হাঁড়ি, কড়াই সব পুড়ে কয়লা হয়ে আছে, খাবার ঘরে টেবিলে রাখা জগ, গ্লাস, প্লেট সবই পুড়ে গেছে।

ওয়াহেদ ভবনের প্রতিটি ফ্লোরের রুমগুলো আগুনে পুড়ে কয়লা হলেও দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে রাখা অনেকগুলো কোরআন শরিফ ও হাদিসের বইসহ সব বই আছে পুরোপুরি অক্ষত! বিস্ময়ের ব্যাপার হলো যে ভবনের ভেতর-বাইরে সব পুড়ে কয়লা, এমনকি আশপাশের ভবনও সেখানে খোদ ভবনের ভেতরেই অক্ষত আছে পবিত্র কোরআন-হাদিসের বইগুলো! সেখানে থাকা একটি বইও আগুন স্পর্শ করেনি।

কোরআন ও হাদিসের বই সাজিয়ে রাখা কক্ষটিতে থাকা কয়েকটি চেয়ার এবং ছোট টেবিল পুড়ে কয়লা হয়ে আছে, কিন্তু বুক সেলফ ও বইগুলো আছে ঠিক আগের মতো সাজানো গুছানো! দেখে মনে হবে এখানে যেন কোনো কিছুই হয়নি।

চকবাজারে আগুনে পুড়ে তিন স্বজন হারানো বাদশা মিয়ার সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে কোরআন-হাদিস অক্ষত থাকার বিষয়ে আলোচনা করলে তিনি বলেন, ‘ভাই, ভবনের পাশে মসজিদও তো কিছু হয়নি! পুরো একটা ভবন পুড়ে ছাই হয়ে গেলো অথচ সেখানে থাকা কোরআন-হাদিসের কিছুই হলো না, এটা আল্লাহর অশেষ রহমত ছাড়া আর কিছু নয়।’

বাদশা মিয়া আরো বলেন, ‘আগুনের ঘটনার পর বাঁচার জন্য অনেকে আশপাশের ভবন ও দোকানে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু তাঁরা কেউ বেঁচে নেই। তাহলে আল্লাহর রহমত ছাড়া আগুনে দাউদাউ করে জ্বলা ভবনে কী করে এতগুলো কোরআন-হাদিসের বই অক্ষত থাকে? এটা আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি!’

আশপাশে সব পুড়ে ছাই : অলৌকিক ভাবে অক্ষত মসজিদ

চকবাজারে আশপাশে সব পুড়ে ছাই : অলৌকিক ভাবে অক্ষত মসজিদ

ইমান২৪.কম: পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা শাহী জামে মসজিদ। গতকাল বুধবার রাতে আগুনের সূত্রপাত মসজিদের মূল গেটের সামনে থেকেই। খুব সরু চার রাস্তার মোড়। ডান পাশে বাড়ি, বাঁ পাশে বাড়ি। পেছনে গলি আর বাড়ি।

মসজিদের চারপাশের ৩০০ হাত এলাকার সব বাড়ি, দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা পুড়ে ছাই। কঙ্কাল হয়ে দাঁড়িয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়ার সাক্ষ্য দিচ্ছে সুউচ্চ ভবনগুলোও।

এর মধ্যে ব্যতিক্রম শুধু চুড়িহাট্টা জামে মসজিদ। জনমনে গভীর বিস্ময় জাগিয়ে মসজিদটি অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

কৌতূহলী মানুষ আসছে, আর মসজিদটি দেখছে। কেউ কেউ বলছে, ‘এ মহান আল্লাহর অপার রহস্য।’

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ মসজিদের নিচ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয় একটি পিকআপ ভ্যান গাড়িতে থাকা সিলিন্ডার গ্যাস থেকে।

যা পরে বিস্ফোরণ হয়ে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারে লাগে। সেখান থেকে দোকানে থাকা কেমিক্যালে লেগে যায় আগুন। মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে পুরো চকবাজারের এ সরু গলিতে। এরপর শুধু হাহাকার, আর্তনাদ আর লাশ। কিন্তু বিস্ময়কর চুড়িহাট্টা মসজিদের তেমন কোনো সমস্যা হয়নি।

এলাকার আবদুর রশিদ জানান, মসজিদের নিচে পিকআপ ভ্যানে থাকা সিলিন্ডার গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। সেখান থেকে পুরো চুড়িহাট্টা এলাকায় আগুনের লেলিহান শিখা।

মসজিদের মোতোয়ালি আবদুর রহমান বলেন, এটি একটি বিস্ময়কর ঘট্না। আল্লাহর ঘর আল্লাহ রক্ষা করেছেন। মসজিদের কোনো ক্ষতি হয়নি।

এলাকার বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য। আল্লাহর অপার করুণা। মসজিদের নিচে থেকেই আগুনের সূত্রপাত। কিন্তু আল্লাহর রহমতে মসজিদের কিছুই হয়নি।

আশপাশে সব পুড়ে ছাই : অলৌকিক ভাবে অক্ষত মসজিদ

চকবাজারের নন্দকুমার সড়কের চুড়িহাট্টায় বুধবার রাতে এই শাহী মসজিদের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই আগুন লাগে জামাল কমিউনিটি সেন্টারে।

আগুনের ভয়াবহতা এত বেশি ছিল যে সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের চারতলা ওয়াহিদ ম্যানশনে। ভবনটির প্রথম দুইতলায় প্রসাধন সামগ্রী, প্লাস্টিকের দানা ও রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গুদাম থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরো চারটি ভবনে। পাশের কয়েকটি খাবারের হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডারেরও বিস্ফোরণ ঘটে।

পুড়ে যায় সড়কে থাকা একটি প্রাইভেট কারসহ কয়েকটি যানবাহন। এ সময় পুড়ে যাওয়া কয়েকটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। রাজধানীর প্রায় সবকটা ইউনিট কাজ করে আগুন নেভাতে। খুবই ঘন বসতি এবং রাস্তা সরু হওয়ায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে।

চকবাজার অগ্নিকাণ্ড: সবই পুড়ল, রইল শুধু ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’

চকবাজার অগ্নিকাণ্ড: সবই পুড়ল, রইল শুধু ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’

ইমান২৪.কম: রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজার এলাকার চুড়িহাট্টা মোড়ে গিয়ে একটু বাঁ দিকে ঘুরলেই চোখে পড়ল রাজমনি হোটেল। পুরান ঢাকার জনপ্রিয় খাবারের হোটেলটি গতকাল রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুড়ে ছাই। পুড়ে গেছে দোকানারের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে সাটারও।

তবে হোটেলে প্রবেশদ্বারের উপরে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (স.)’ লেখা সংবলিত লেখাংশটুকু ঠিকই অবিকল অবস্থায় রয়ছে। আরবি ও বাংলা ভাষায় লেখা পবিত্র কালেমার প্রতি দৃষ্টি পড়ছে এলাকাবাসী সকলেরই।

আজ বৃহস্পতিবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকাটি যেন এক মৃত্যুপুরীর আকার ধারণ করেছে। আগুনে পুড়ে যাওয়ার চিহ্ন বহন করছে এলাকার দালানকোটাসহ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। মালামালসহ সব জিনিসপত্রই পুড়ে ছাই।

রাজমনি হোটেলর সামনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানের সামনের সাটার পুড়ে গেছে। দোকানের হাড়িপাতিলসহ আসবাবপত্রও পুড়ে গেছে। কালি ও কেমিক্যালের ধোঁয়ার চিহ্ন হোটেলের দেওয়ালে দেওয়ালে।

হোটেলের মালিক ও বয়-বেয়ারাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা কেউ বলতে পারছে না। তবে জয়নাল আবেদীন বাবুল নামে এক ব্যক্তি চা খাওয়ার জন্য গতকাল রাত ১০টা ২১ মিনিটে চা খেতে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি তাঁর মেয়ে নাসরিন আক্তারের সঙ্গে কথা বলেন। এর এক মিনিট পরই হোটেলটির সামনে থেকে বিকট শব্দ শুনতে পান নাসরিন।

নাসরিন আক্তার এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘আব্বুর সাথে কথা বলার এক মিনিট পর ১০টা ২২ মিনিটে একটি বিকট শব্দ শুনতে পাই। এর পর পরই আব্বুর মোবাইলে ফোন করি। কিন্তু রিং হয় ফোন রিসিভ হয় না। ১০ টা ২৫ মিনেটের পর মোবাইলটি বন্ধ হয়ে যায়। আব্বুর মুখের আওয়াজ আর পাইনি। সেই থেকেই আব্বুকে খোঁজার চেষ্টা করছি।’

রাজমনি হোটেলের সামনে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলটির দুইপাশেই রাস্তার ওপরে কেমিক্যালের পুড়ে যাওয়া ড্রামগুলো পড়ে আছে। এলাকাবাসী জানান, এখানে কয়েকটি ভবনের নিচতলাকে কেমিক্যালের গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করতেন ব্যবসায়ীরা। আগুন লাগার সঙ্গেই সঙ্গেই কেমিক্যালের কারণে তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে।

চকবাজারের নন্দকুমার সড়কের চুড়িহাট্টায় বুধবার রাতে এই শাহী মসজিদের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির ট্রান্সফরমার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই আগুন লাগে জামাল কমিউনিটি সেন্টারে। আগুনের ভয়াবহতা এত বেশি ছিল যে সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের চারতলা ওয়াহিদ ম্যানশনে।

ভবনটির প্রথম দুইতলায় প্রসাধন সামগ্রী, প্লাস্টিকের দানা ও রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গুদাম থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরো চারটি ভবনে। রাজমনিসহ আশেপাশের কয়েকটি খাবারের হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডারেরও বিস্ফোরণ ঘটে। পুড়ে যায় সড়কে থাকা একটি প্রাইভেটকারসহ কয়েকটি যানবাহন। এ সময় পুড়ে যাওয়া কয়েকটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

অগ্নিকাণ্ডে মৃতরা শহীদ: আল্লামা আহমদ শফী

অগ্নিকাণ্ডে মৃতরা শহীদ: আল্লামা আহমদ শফী

রাজধানীর চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন আমিরে হেফাজত, দারুল উলূম হাটহাজারীর মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় আমিরে হেফাজতের কার্যালয় থেকে এ শোকবার্তা জানানো হয়।

শোকবার্তায় আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে যারা মারা গেছেন, তারা শহীদের মর্যাদা পাবেন ইনশাআল্লাহ। এ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি এবং মসজিদে-মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজনের জন্য সম্মানিত ইমাম ও খতিবদের প্রতি অনুরোধ করছি।

বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার পর চকবাজারের সুরিটোলায় একটি ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে বেশ কিছু ভবন পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সেখান থেকে ৭০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  পাক-ভারত সীমান্তে গোলাগুলি : মর্টার শেল ও ভারী গোলাবর্ষণ

চুপ করে বসে থাকবো না, পাল্টা হামলা চালাব: ইমরান খান

হামলার জবাব দিতে কতটুকু প্রস্তুত ভারতের সেনাবাহিনী?

ভারত-পাকিস্তান সিমান্ত রণসাজে সজ্জিত, ৬০০ ট্যাংক পাঠালো পাকিস্তান

আবারও ব্যাপক সংঘর্ষ কাশ্মীরে, ভারতীয় বাহিনীর মেজর-সহ নিহত ৫

জাপানি নারীর ইসলাম গ্রহণের হৃদয়বিধারক ঘটনা ও পর্দার প্রতি সন্মান

ফেসবুকে লাইক দিন