সুন্নতের মধ্যেই কামিয়াবী : সুন্নতের সীমালঙ্ঘন গর্হিত কাজ

· ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় নাজাতের একমাত্র পথ হলো সুন্নতের মধ্যেই কামিয়াবী সুন্নতের সীমালঙ্ঘন গর্হিত কাজর সুন্নাতের পরিপূর্ণ অনুসরণ। সুন্নাত বাদ দিয়ে অন্য কোনো আইন-কানুন, বিধি-বিধান মেনে চলা যেমন সুস্পষ্ট গোমরাহী, তদ্রুপ সুন্নাতে সীমালঙ্ঘন করাও অতীব নিন্দনীয় ৷

· হাদীসে বর্ণীত হয়েছে- # হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা একজন কুরাইশি মেয়ের সাথে আমাকে বিয়ে করিয়ে দিলেন। ওই মেয়ে আমার ঘরে আসল। আমি নামায-রোযা ইত্যাদি এবাদতের প্রতি আমার বিশেষ আসক্তির দরুন তার প্রতি কোনো প্রকার মনোযোগ দিলাম না। একদিন আমার পিতা আমর ইবনে আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তার পুত্রবধূর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার স্বামীকে কেমন পেয়েছ? সে জবাব দিল, খুবই ভালো লোক অথবা বললো খুবই ভালো স্বামী। সে আমার মনের কোনো খোঁজ নেয় না এবং আমার বিছানার কাছেও আসে না। এটা শুনে তিনি আমাকে খুবই গালাগাল দিলেন ও কঠোর কথা বললেন এবং বললেন, আমি তোমাকে একজন কুরাইশি উচ্চবংশীয়া মেয়ে বিয়ে করিয়েছি আর তুমি তাকে এরূপ ঝুলিয়ে রাখলে? তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে নালিশ করলেন। তিনি আমাকে ডাকালেন। আমি উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি দিনভর রোযা রাখ? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি রাতভর নামায পড়? আমি বললাম হ্যাঁ। তিনি বললেন, কিন্তু আমি রোযা রাখি ও রোযা ছাড়ি, নামায পড়ি ও ঘুমাই, স্ত্রীদের সাথে মেলামেশা করি। যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতের প্রতি আগ্রহ রাখে না সে আমার দলভুক্ত না। [মুসনাদে আহমাদ : হাদিস নং-৬৪৪১]

· হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের নিকট তার ইবাদতের অবস্থা জানার জন্য আসেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইবাদতের খবর শুনে তারা যেন তার ইবাদতকে কম মনে করলেন। তারা পরস্পর আলাপ করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তুলনায় আমরা কী? আল্লাহ তা’আলা তার আগের-পিছের সকল গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন। তাদের একজন বললেন, আমি সারা রাত সালাত আদায় করব। দ্বিতীয় জন বললেন, আমি দিনে সিয়াম পালন করবো, আর কখনো তা ত্যাগ করবো না। তৃতীয় জন বললেন, আমি নারী থেকে দূরে থাকব, কখনো বিয়ে করব না। তাদের এই পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে পড়লেন এবং বললেন, “তোমরা কি এ ধরনের কথাবার্তা বলেছিলে? খবরদার! আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি, তোমাদের চেয়ে বেশি তাকওয়া অবলম্বন করি। কিন্তু এরপরও আমি কোনো দিন সিয়াম পালন করি, আবার কোনো দিন সিয়াম পালন ছেড়ে দিই। রাতে সালাত আদায় করি আবার ঘুমও যাই। নারীদেরকে বিয়েও করি। এটাই আমার পথ। তাই যে ব্যক্তি আমার পথ ছেড়ে দিয়েছে সে আমার (উম্মতের মধ্যে) গণ্য হবে না।” [ বুখারি : হাদিস নং ৫০৬৩]

আরো ইসলামী লেখা ও দেশ বিদেশের আপডেট খবর পেতে নিয়মিত আমাদের সাইটে ভিজিট করুন।

লেখক ও সম্পাদকঃ মুফতি শহীদুল্লাহ নজীব আল-হাবিবী

ফেসবুকে লাইক দিন