সুইজারল্যান্ডে প্রকাশ্যে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করলো দেশটির সরকার

ইমান২৪.কম: সুইজারল্যান্ড জনসাধারণ চলাচল করে বা সরকারী স্থানসহ এমন সব পাবলিক প্লেসে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করবে সরকার। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সংবাদে এ খবর জানানো হয়েছে।

তবে সরকারের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মুসলিম দলগুলি কড়া সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে যে এর দ্বারা মুসলিম সম্প্রদায়কে আরও কলঙ্কিত করা হবে এবং খাটো করা হবে।

বোরকা নিষিদ্ধের বিষয়ে ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং অস্ট্রিয়ার পথ অনুসরণ করবে সুইজারল্যান্ড এবং সরকারী পাবলিক প্লেসে মহিলাদের বোরকা বা নিকাব পরা নিষিদ্ধ করার জন্য গণভোটে সংক্ষিপ্তভাবে ভোট নেয়া হবে। ভোট নেয়ার পর এ নিষেধাজ্ঞা দেবে সরকার।

ইতোমধ্যেই রাস্তায়, দোকান এবং রেস্তোঁরাগুলিতে পুরোপুরি মুখ ঢেকে দেওয়া নিষিদ্ধ করার উদ্যোগের পক্ষে ৫১% এর বেশি সুইস ভোটার ভোট দিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে এ আইন বাস্তবায়ন এখন ঘোষণামাত্র।

তবে ধর্মীয় স্থান বা উপাসনার জায়গাগুলোতে বোরকা ঠিকমত পরতে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

তবে অবাক করা বিষয় হলো – সুইজারল্যান্ডের এ আইনে করোনা বা স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত পূর্ণাঙ্গ মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার জন্য ব্যবহার করা মাস্ক বা মুখোশের জন্য কোন নিষেধাজ্ঞা থাকবে না এবং আইনে বিষয়টি পরিস্কারও করা হয়েছে। কেবলমাত্র বোরকা বা নেকাব পড়ে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রেই এ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দেশটির মুসলিম দলগুলি কঠোর সমালোচনা করেছেন। “এটি স্পষ্টভাবে সুইজারল্যান্ডের মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ। মুসলমানদের আরও বেশি কলঙ্কিত করা ও ছোট করাটাই এখানে লক্ষ্য” বলেছেন দেশটির ‘Les Foulards Violets’ নামের একটি নারী অধিকার রক্ষার সংগঠনের সদস্য ইনেস আল শেখ।

এছাড়াও বার্ন এবং জেনেভা অঞ্চলের হোটেল এবং পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িতদের একটি জোটও এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছিল যে এ কারণে দেশটিতে আরব দেশ থেকে আগত দর্শনার্থীদের সংখ্যা হ্রাস পাবে।

তারা বলেছেন – “বোরকার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা একটি উন্মুক্ত ও সহনশীল পর্যটন এলাকা হিসাবে আমাদের খ্যাতি ও সুনামকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে”।

তবে সুইস সরকারের ওয়েবসাইটে এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে একটি ভিডিও প্রস্তাব করেছে যে “বোরকা বা নেকাবের মতো ধর্মীয় ওড়না মহিলাদের উপর নিপীড়নের প্রতীক এবং আমাদের সমাজের পক্ষে উপযুক্ত নয়”।

সুইজারল্যান্ডের ৮.৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ পার্সেন্ট বা ৩,৯০,০০০ মানুষ মুসলমান হিসেবে বসবাস করছেন। এ আইন মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় সম্পূর্ণ হস্তক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। একই সাথে বিষয়টি ইসলামফোবিয়া ছড়ানোর একটি অপচেষ্টা বলেও মনে করা হয়।

ফেসবুকে লাইক দিন