সিদ্ধান্ত পাল্টিয়েছে সরকার, ঐক্যফ্রন্ট নতুন করে ভাবছে

ইমান২৪.কম: সুষ্ঠু নির্বাচনের ৭ দফা দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার আগে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। জানা গেছে, তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে সরকারের গতিবিধি পর্যবেক্ষন করে কর্মসূচি কঠোর করবে ঐক্যফ্রন্ট। ঢাকায় একটি সমাবেশ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় করে সেই কর্মসূচি ঘোঘণা করা হতে পারে। এদিকে সংলাপে বসতে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার প্রধান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। জানা গেছে, সরকার কোন আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে হাটলে ঐক্য ফ্রন্টও হার্ডলাইনে যাবে। ফ্রন্ট নেতাদের ধারণা- বর্তমান মন্ত্রীসভা ছোট করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের যে পরিকল্পনা সরকারের ছিল, তা থেকে তারা সরে এসেছে। সংসদ বহাল রেখে মুখে নির্বাচনকালীন সরকারের আওয়াজ দিলেও শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদের আকারে তারা কোন নড়চড় করবে না। ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত ছিল- সরকার নিজেদের মতো করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেই আন্দোলনের সূচনা করা হবে। যেহেতু সরকার সিদ্ধান্ত পাল্টিয়েছে ঐক্য ফ্রন্টও নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে । ফ্রন্টের নেতারা মনে করছেন, সরকার তাদেরকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছে। আর এ কারণেই তারাও সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে পারছে না।

গত কয়েক মাস ধরে আলোচনা ছিল সরকারের মন্ত্রিপরিষদের আকার ছোট হতে পারে। বর্তমান সরকারের অর্ধডজন নেতা সভা-সমাবেশে জানিয়েছিলেন, তফসিল ঘোষণার আগে তাদের সরকারের আকার ছোট হবে। ওই সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার নামে পরিচিত হবে। কিন্তু সেটা আর হচ্ছে না বলেই রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে। এদিকে জোট গঠনের দুই সপ্তাহ না যেতেই ফ্রন্টের শীর্ষ দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরেক জনের নামে দখল-চুরির মামলা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটতে পারে বলে তথ্য রয়েছে। সেজন্য সতর্কতার সঙ্গে পথ চলছে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। এসব বিষয়ে প্রায় প্রতিদিনই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের নেতারা।

ফ্রন্টের এক নেতা বলেছেন, বিভাগীয় শহর শেষে ঢাকার জনসভা থেকে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে। এর জন্য আরো কিছু দিন অপেক্ষা করবে তারা। আগামী ১৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ রেখে আগামী ৪ নভেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। ঐক্যফ্রন্টের প্রভাবশালী এক নেতা জানিয়েছেন, সরকার ফ্রন্টের সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে রাজনীতিতে মঞ্চের বক্তব্য আর পর্দার পেছনের সিদ্ধান্তের মধ্যে ফারাক থাকে। এখনো তার ব্যতয় ঘটবে না। তাই সংলাপের দ্বার খোলা রেখেই সামনে হাটবে তারা।

তবে তার আগ পর্যন্ত দাবি আদায়ে সরকারকে আবারো সংলাপে বসার আহবান জানানো হবে। এর অংশ হিসেবে গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে ৭ দফা দাবির কথা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি বিরাজমান সঙ্কট উত্তরণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয় কমিটির দুই সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক ও আ ও ম শফিউল্লাহ আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে চিঠি পৌঁছে দেন।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম পৌঁছেই মাজার জিয়ারত করলেন ড. কামাল-ফখরুলের

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ফেসবুকে লাইক দিন