সরকার আবারও কঠোর লকডাউন দিতে বাধ্য হবে: ওবায়দুল কাদের

ইমান২৪.কম: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘লকডাউনের পরে গণপরিবহন চলাচলে সুযোগ দেয়া হলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তা না হলে সরকার আবারও কঠোর লকডাউন দিতে বাধ্য হবে।’ শপিংমল, দোকানপাট ও হাটবাজারগুলোতে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও আহ্বান জানান সেতুমন্ত্রী।

রবিবার (২৫ এপ্রিল) ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে আয়োজিত খাদ্য ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন। ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

বিএনপির সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘ক্ষণে ক্ষণে অ্যামিবার মত অবয়ব পরিবর্তন ও ভিন্ন ভিন্ন কথা বলে বিভ্রান্তি তৈরি করা বিএনপির লক্ষ্য। বিএনপির দ্বিচারিতা রাজনীতিতে জনগণ এখন বিভ্রান্ত হয় না, বরং তারা নিজেরাই বিভ্রান্ত হয়।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রথমে বলেছিলো লকডাউন চাই,পরে বলে লকডাউন সমাধান নয়, আবার বলছে লকডাউন পরিকল্পিত নয় কিন্তু এখন বলছে লকডাউনের নামে নেতাকর্মীদের অত্যাচার করছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা সংশয়বাদী তারা সবকিছুতেই অনিশ্চিয়তা খুঁজে বেড়ায়, ছড়িয়ে দেয় বিভ্রান্তি। এ বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার বিএনপির নতুন কোনও রোগ নয়, তারা অনেক আগে থেকেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত। করোনার টিকা নিয়ে বিএনপি অপ্রচার করছে। দেশের জনগণকে শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রথম ডোজের মত দ্বিতীয় ডোজের টিকাও যথাসময়ে জনগণ গ্রহণ করবে, ইনশাআল্লাহ্।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা প্রতিদিনই সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাচ্ছে। লকডাউন নিয়ে বিএনপি মহাসচিব যতটুকু গবেষণা করেছেন তা বন্ধ করে জনগণকে সচেতন করার জন্য দু-একটি বক্তব্য রাখলে করোনার সংক্রমণ রোধে সামান্যতম হলেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতো।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ত্রাণ ও নগদ সাহায্য নিয়ে যারা অনিয়ম করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ত্রাণ ও নগদ অর্থ যাতে বেহাতে না যায় সেদিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে এবং যথাযথ জায়গায় যেন ত্রাণ পৌঁছে সেদিকেও নজর দিতে হবে। ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা উচিত। এরাই সাহায্য পাওয়ার যোগ্য।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বরিশাল বিভাগে কলেরার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় বরগুনা জেলার জন্য দুই হাজার ওর স্যালাইন ও দুইশত পুশ স্যালাইন এবং বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মাধ্যমে সাত হাজার ওর স্যালাইন ও পাঁচ শত পুশ স্যালাইন বিতরণ করা হবে।’

পরীক্ষীত, মানবিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে সংকট মোকাবিলা করে জনগণকে সাথে নিয়ে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাবে অদম্য বাংলাদেশ বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ওবায়দুল কাদের।

ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির চেয়ারম্যান একেএম রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দফতপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রোকেয়া সুলতানা, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক সামছুন্নাহার চাঁপা, উপদফতর সম্পাদক সায়েম খান ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য আবদুল আউয়াল শামীম।

ফেসবুকে লাইক দিন