সংসদে উত্থাপিত হলো কওমি সনদের স্বীকৃতি বিল; কী আছে তাতে?

ইমান২৪.কম: সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গতকাল জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন সোমবার কওমি মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিসের (তাকমিল) সনদ মাস্টার্স ডিগ্রির (ইসলামিক স্টাডিজ) সমমান দেয়া সংক্রান্ত বিল সংসদে উত্থাপিত হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে সম্পূরক কর্মসূচিতে ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআ’ তিল কাওমিয়া বাংলাদেশ বা কওমি মাদরাসা সমূহের দাওরায়ে হাদিসের (তাকমিল) সনদ মাস্টার্স ডিগ্রির (ইসলামিক স্টাডিজ) সমমান প্রদান আইন ২০১৮ বিলটি উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কওমি মাদরাসার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে এবং কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট ও স্বকীয়তা বজায় রেখে ‘আল হাইআতুল উলয়া লিল জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ এর অধীন ‘কওমি মাদরাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল) এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) এর সমমান প্রদান বিল আনা হয়েছে।”

বিলটি উত্থাপনের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয় এবং আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে কওমি মাদরাসা সনদের আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। তখন থেকে আলেমগণ সরকারকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি সংসদে উত্থাপন করে তা পাসের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

উল্লেখ্য, কওমি মাদরাসা সদনের সরকারি স্বীকৃতির জন্য দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিলে গণভবনে এই স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

যা আছে এই বিলে:

কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে এবং দারুল উলুম দেওবন্দের মূলনীতিগুলোকে ভিত্তি করে এই সমমান দেয়া হলো।

বিলে বলা হয়েছে, এই আইন বাংলাদেশের দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি, আদর্শ ও নেসাব (পাঠ্যসূচি) অনুসরণে পরিচালিত হবে কওমি মাদরাসাগুলোর দাওয়ারে হাদিস এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই সমমান দেয়ার লক্ষ্যে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারাসিল আরাবিয়া- বেফাক সভাপতি হিসেবে পদাধিকার বলে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ১৩ এপ্রিল গঠিত ওই কমিটিকে এখন এ আইনে আনা হয়েছে। কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড এ কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে, কমিটিতে নয় ধরনের ব্যক্তি থাকবেন।

বেফাকুল মাদ্রারিসিল আরাবিয়ার সভাপতি কমিটির চেয়ারম্যান, বেফাকুল মাদারিসিলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, কো-চেয়ারম্যান এবং বেফাকুল মাদ্রারিসিল আবারিয়া বা এর মহাসচিব মনোনীত আরও পাঁচজন সদস্য থাকবেন কমিটিতে।

এছাড়া গওহরডাঙ্গার বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া, চট্টগ্রামের আন্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিসিল কওমিয়া, বগুড়ার আযাদদ্বীনি এদারায়ে তালিম, বগুড়ার তানজীমুল মাদারিসিল কওমিয়া এবং জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে দুইজন করে সদস্য কমিটিতে আসবেন।

চেয়ারম্যান ইচ্ছা করলে যে কাউকে কমিটিতে যোগ করে নিতে পারবেন, তবে সব মিলিয়ে তা ১৫ জনের বেশি হবে না। কমিটি ‘দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে’ থাকবে।

এই কমিটি সনদবিষয়ক যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বিবেচিত হবে। এদের তত্ত্বাবধানে নিবন্ধিত মাদরাসাগুলোর দাওরায়ে হাদিসের সনদ মাস্টার্সের সমমান বিবেচিত হবে।

এই কমিটির অধীনে ও তত্ত্বাবধানে দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা হবে। পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা পদ্ধতি, পরীক্ষার সময় নির্ধারণ, অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ফলাফল এবং সনদ তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক বা একাধিক উপ-কমিটি গঠন করতে পারবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়গুলো অবহিত করবে কমিটি।

আরও পড়ুনঃ শেখ হাসিনা-এরশাদ বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হলো

মুসলিম পুলিশের আচরণে মুগ্ধ ডাচ নারীর ইসলাম গ্রহণ

মাদরাসা পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করতে চায় পাকিস্তানে ইমরান খানের সরকার

ফেসবুকে লাইক দিন