শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব : বের হচ্ছে হাজারো জামাত

ইমান২৪.কম: বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা আর অজস্র অগণিত মানুষের অংশগ্রহণে যে ইজতেমার সূচনা হয়েছিল, মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও মঙ্গল কামনার মাধ্যমে আজ তার সুষ্ঠু সমাপ্তি হলো।

শনিবার বেলা দশটা চল্লিশ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু করেন কাকরাইলের শীর্ষ মুরুব্বি এবং তাবলিগের আলমি শুরা সদস্য হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ যোবায়ের। প্রথমে আরবিতে, অতঃপর বাংলায় তিনি রাব্বুল আলামীনের দরবারে ফরিয়াদ জানান তিরিশ লক্ষাধিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে।

আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে টঙ্গী, আব্দুল্লাহপুর, ধউর, তুরাগ, উত্তরাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

দোয়ায় মুসলিম উম্মাহকে সব ধরনের বিপদ আপদ এবং ইসলামের শত্রুদের সৃষ্ট সব ধরনের কূট-কৌশল ও ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজতের জন্য ফরিয়াদ জানানো হয়। দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ যাতে সব ধরনের সংকটকে অতিক্রম করে সহজতার সাথে বিশ্বব্যাপী চলতে পারে সেজন্য বিশেষভাবে দোয়া করেন মাওলানা যোবায়ের।

চলমান ঘটনাপ্রবাহ সামনে চলে আসায় এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাবলিগের পুরনো সাথীরা, যারা এই কাজের জন্য নিজেদের জীবনকে ওয়াকফ করে দিয়েছেন। বেলা এগারোটা দশ মিনিটে মোনাজাত শেষ হলে এবারের বিশ্ব ইজতেমা আনুষ্ঠানিক ভাবে সমাপ্ত হয়।

এর আগে যেসব সাথী এই ইজতেমার পরপরই আল্লাহর রাস্তায় বের হতে জামাতবদ্ধ হয়েছিলেন তাদের জন্য বিশেষ হেদায়াতি বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইবরাহীম দেওলা। আল্লাহর রাস্তায় নিজে কিভাবে চলবে এবং অন্যান্য ভাইদেরকে কিভাবে দাওয়াত দিবে সে ব্যাপারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এবার মোট কতটি জামাত বের হচ্ছে তা এখনই বলা না গেলেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তার পরিমাণ যে অন্তত কয়েক হাজার হবে বলে অনুমান করা যায়। এমনটিই বলছিলেন বৃহত্তর মোহাম্মদপুর খিত্তার একজন যিম্মাদার সাথী।

তাবলিগ জামাতের চলমান সংকট, উভয় পক্ষের প্রকাশ্য মতবিরোধ, একাধিকবার তারিখ পরিবর্তনসহ নানাদিক থেকে এবারের ইজতেমার সফল আয়োজন চ্যালেঞ্জিং ছিলো। নারায়ণগঞ্জ জামেয়া রাব্বানিয়ার শিক্ষক এবং বর্তমানে সালে সময় লাগানো সাথী মাওলানা নুরুদ্দিন মনে করেন আল্লাহর মেহেরবানিতে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত এক বছর ধরে যা হলো আর যা চললো, তাতে এবারের ইজতেমা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ইজতেমার নির্ধারিত তারিখের একদিন আগেই অর্থাৎ বুধবার এই পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরে আয়োজকরা নতুন কিছুর আভাস পাচ্ছিলেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সফর করে এসে ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ করে তাবলিগের সাথীরা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন যে কোন সমস্যা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা তাবলিগকে নিজেদের কাজ মনে করে চালিয়ে যাবেন।

তবে উত্তরার একাধিক জিম্মাদার সাথী জানালেন, এই বিপুল উপস্থিতিকে দেখেই তারা স্বস্তির শ্বাস ফেলতে চান না। বরং এই সাথীদেরকে সঙ্গে নিয়ে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজকে তারা আরো অনেক সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ নির্ঝঞ্ঝাটে আপন গতিতে এগিয়ে যাক, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।

আরও পড়ুন:  ‘এটাই আমার শেষ মেয়াদ’ : প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম যার যার উৎসব সবার : বললেন প্রধান বিচারপতি

স্কুলে ধর্ম শিক্ষক হিসেবে কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়োগের দাবি সংসদে (ভিডিও)

‘রাস্তায় নামেন, রাস্তায় বসে মোনাজাত ধরেন’: বিএনপিকে ডা. জাফরুল্লাহ

আমার মনে হয়েছে আমি জাহান্নামে ছিলাম : চীনা বন্দিশিবির থেকে ফিরে এক নারী

সরকারের সমালোচনাকারীরা রাষ্ট্রদ্রোহী হতে পারে না: মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান

ফেসবুকে লাইক দিন