শেষমেষ ব্রয়লার মুরগিতে স্বস্তি

ইমান২৪.কম: বর্তমানে বাজারে চাল, ডাল, তেল, সবজি সব পণ্যের দামই চড়া। এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতেও কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে ব্রয়লার মুরগির বাজার। ব্রয়লার মুরগির দাম এখন প্রায় তলানিতে। ডিমের দাম কিছুটা বেশি হলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় তা খুব বেশি নয় বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অন্যান্য পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ আমিষের চাহিদা পূরণ করতে ফার্মের মুরগির ওপর নির্ভরশীল হচ্ছে। আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। কোথাও কোথাও ১১০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করতে দেখা গেছে।

উৎপাদন পর্যায়ে গতকাল ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ৯৫ টাকা কেজি পর্যন্ত, পাইকারিতে ১০৫ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সোনালি জাতের মুরগি পাইকারিতে বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৭৫ টাকা কেজি দরে। সোনালি মুরগি খুচরা বাজারে সাধারণত পিস হিসেবে বিক্রি হয়। এক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা পিস।

বিক্রেতারা বলছেন, হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো এখনো আগের মতো চালু হয়নি, বিয়েশাদিসহ সামাজিক অনুষ্ঠানাদিও খুব বেশি হচ্ছে না। ফলে ফার্মের মুরগির চাহিদা আগের মতো নেই। তবে সাধারণ ভোক্তারা কয়েক মাস আগের তুলনায় ব্রয়লার, সোনালিসহ ফার্মের মুরগি কিনছে বেশি। গোপীবাগ বাজারের মুরগি বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন ইলিশ মাছের বেচাবিক্রি বেশি ছিল, একইসঙ্গে অনুষ্ঠানাদিও কম ছিল, তাই মুরগি বিক্রি কিছুটা কম হতো। এখন আবার আস্তে আস্তে বাড়ছে। দাম কম থাকায় মানুষ মুরগির দিকে ঝুঁকছে।’

‘এখন দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ পিস ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ১০০ পিসের মধ্যে ছিলো’ বলে জানান এই বিক্রেতা। এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যে দেখা গেছে, গত বছর এই সময় দেশে ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৪০ টাকা পর্যন্ত। সে হিসাবে বাজারে মুরগির দাম কমেছে ১১ শতাংশ। একই অবস্থা ডিমের বাজারেও।

ডিমের দাম কমেছে ৭ শতাংশ। খুচরা বাজারে ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা ডজন বা সোয়া ৯ টাকা পিস দরে। উৎপাদন বা পাইকারি পর্যায়ে গতকাল ফার্মের ডিমের দাম ছিল ৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৮ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত। এছাড়া সাদা ডিম কিছুটা কমে ৭ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ৮ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। বাজারে বর্তমানে লোকসানি মূল্যে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মো. মহসিন।

তিনি বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগি ১০৫ টাকা কেজির ওপর বিক্রি করলে উৎপাদকদের মুনাফা থাকে। তবে এখন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবং মুরগির চাহিদা খুব একটা না থাকায় দাম একেবারেই কম রয়েছে। তাই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখী বাজারে আমিষের চাহিদা পূরণ করতে মুরগি ও ডিম খাওয়া বাড়াতে পারে মানুষ।’ অন্যদিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচা বাজারের ক্রেতা আব্দুর রউফ বলেন, ‘সবজির এত দাম বেড়েছে তা ভাবিনি।

মাছ-মাংসের দাম একটু বেশি দেখে এগুলো আগে নিয়ে সবজি পরে নেব ভেবেছিলাম। এখন তো দেখি মাংসের তুলনায় সবজির দাম বেশি।’ রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল বাজারে ৫০ টাকা কেজির নিচে সবজি নেই বললেই চলে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, করলা ১০০ টাকা কেজি। ঢেঁড়শ, লাউ, কাঁকরোল, বরবটি ও কচুর মুখি ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও চিচিঙ্গার দাম প্রতি কেজি ৯০ টাকা। পটল ও মুলা ৭০ টাকা এবং কাঁচা পেঁপে ৫০ টাকা। দামের একই ধারা লক্ষ্য করা গেছে বিভিন্ন শাকে।

এদিন প্রতি আঁটি লাউ শাক বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়, পুই শাক ৩০ টাকা, কচুর শাক ১৫ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা, শাপলা ১০ টাকা এবং কলমি শাক ১৫ টাকা প্রতি আঁটিতে বিক্রি হয়েছে। টমেটো প্রতি কেজি ১১০ টাকা ও শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর কাঁচা মরিচের কজি ২৮০ টাকা।

ফেসবুকে লাইক দিন