শিগগিরই নতুন নামে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে জামায়াত, সম্ভাব্য নাম ‘জাস্টিস পার্টি’

ইমান২৪.কম:একাত্তরে মানবতাবিরোধের দায়, নিবন্ধন বাতিল এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়া ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াত এখন বিলুপ্তের পথে! তবে শিগগিরই নতুন নামে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে দলটি। দলের সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘জাস্টিস পার্টি’। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। নতুন নামে নতুনভাবে রাজনীতির মাঠে আসতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা কাজ করছেন। সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারলে চলতি মাস অথবা আগামী মাসেই আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা এবং দলের নেতাদের যুদ্ধাপরাধের কারণে জামায়াত রাজনীতির মাঠে সবসময় বিতর্কিত।

২০১০ সালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর থেকেই জামায়াত প্রবল চাপে রয়েছে। দলের শীর্ষস্থানীয় পাঁচ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে। আরো দুই নেতার ফাঁসির রায় হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। একজন ভোগ করছেন আমৃত্যু কারাদণ্ড। যুদ্ধাপরাধের বিচার ঠেকাতে ২০১০ সালে আন্দোলনে নেমেও সফল হতে পারেনি জামায়াত।

জামায়াতের একাধিক সূত্র জানায়, দল বিলুপ্ত হওয়ার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে তারা আত্মপ্রকাশ করবে। রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য নাম হবে জাস্টিস পার্টি। এই দলে শুধু জামায়াতের বর্তমান নেতাকর্মীই নয়, অন্যান্য দল থেকেও সমমনা রাজনৈতিক নেতাদের নেওয়া হতে পারে।

কোনো-কোনো নেতার ভাষ্য, চলতি বছরেই নতুন সংগঠনের দেখা মিলতে পারে। জামায়াতের রাজনীতির পর্যবেক্ষক, সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নান নতুন দল গঠনের ব্যাপারে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সম্প্রতি শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে চলতি বছরের প্রথম থেকে নতুন নামে দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জামায়াতে ইসলামীতে।

২০০৯ সালেও একই প্রস্তাব করেছিলেন দলটির কয়েকজন নেতা। তখন তা দলীয় ফোরামে অনুমোদন পায়নি। আগে বিরোধিতা করলেও এবার নতুন নামে দল গঠনের প্রস্তাব এসেছে জামায়াতের মজলিসে শূরা থেকেই। প্রস্তাব বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের নির্বাহী পরিষদকে।

২০০৯ এবং ২০১০ সালে জামায়াতের রক্ষণশীল অংশ সংস্কার ও নতুন নামে দল গঠনের বিরোধিতা করলেও এবার দলের সর্বস্তরের নেতাই এতে একমত। গত ৯ বছর জামায়াতের ওপর চলা দমনপীড়ন থেকে বাঁচতে এ ছাড়া আর পথ নেই বলেও মনে করেন তারা। অপরদিকে মজলিশে শূরার প্রস্তাব রয়েছে জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ৬ (৪) ধারা স্থগিত রাখার।

৬ ধারায় জামায়াতের চারটি স্থায়ী কর্মসূচি বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম তিনটি কর্মসূচি ধর্মীয়। ৬ (৪) ধারায় বলা হয়েছে, গণতান্ত্রিক পন্থায় সরকার পরিবর্তন এবং সমাজের সর্বস্তরে সত্ ও চরিত্রবান লোকের নেতৃত্ব কায়েমের চেষ্টা করা।

এ ধারা স্থগিত হলে জামায়াত ভোটের রাজনীতি থেকে স্থায়ীভাবে সরে যাবে। দলটির সূত্র জানিয়েছে, এ ধারা স্থগিত হলে জামায়াত রাজনৈতিক দল থেকে একটি ধর্মীয় সংগঠনে পরিণত হবে। নতুন নামে দল গঠন করা হলেও জামায়াত ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে থেকে যাবে। দ্বীনি দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যাবে।

ফেসবুকে লাইক দিন