শাফায়াত পেতে হলে কতদিনে কুরআন খতম করা উচিত?

পবিত্র কুরআন আল্লাহ তায়ালার বাণী। এর তিলাওয়াত সরাসরি আল্লাহর সঙ্গে কথা বলার সমান। এমনকি এর তিলাওয়াতে রয়েছে অধিক সওয়াব। কিন্তু আমরা কিভাবে কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করব? এর আদব কি? কতদিনে কুরআন খতম করব? আমাদের প্রতি কুরআনের দাবি কি? এ বিষয়গুলো জানা প্রত্যেকেরই অতি প্রয়োজন।

হাদিস শরিফে মহানবি (সা.) বলেন, ‘রমজান ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, খোদা! আমি তাকে পানাহার এবং কুপ্রবৃত্তি হতে নিবৃত্ত রেখেছি। তাই তুমি তার জন্য আমার সুপারিশ কবুল করো। আর কোরআন বলবে, আমি তাকে রাত্রে নিদ্রা হতে বিরত রেখেছি এবং তাকে ঘুমাতে দেইনি, এ কারণে তার জন্য আমার সুপারিশ কবুল করো। তাদের সুপারিশ কবুল করা হবে।’ (বায়হাকি)

কুরআন শরিফ খতম করার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। কুরআনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তেলাওয়াত করাই হলো কোরআন শরিফ খতম করা। এর মধ্যে সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই যে, সেই নিয়ম অনুযায়ী আপনি তেলাওয়াত করবেন। হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে রাসুল (সা.)-এর কুরআন পঠনের পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) কুরআন টেনে টেনে পড়তেন। ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ পাঠ করার সময় ‘বিসমিল্লাহ’টেনে পড়তেন; ‘আর রাহমান’ টেনে পড়তেন; ‘আর রাহিম’ টেনে পড়তেন।’ (বুখারি)

তিলাওয়াতের পরিমাণঃ সাহাবায়ে কেরাম আজমাঈন নির্দিষ্ট পরিমাণে রাতে এবং দিনে কুরআন তিলাওয়াত করতেন। সাত দিনের কম সময়ে কেউ কুরআন খতম করতেন না। পাশাপাশি তিন দিনের কম সময়ে কুরআনের তিলাওয়াত খতমের ব্যাপারে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তাই কুরআনের তিলাওয়াত হতে হবে সুন্দরভাবে, সহিহ শুদ্ধভাবে; যে ভাবে তিলাওয়াত করলে কুরআনের হক আদায় হয়। কুরআন তিলাওয়াত করতে হবে তাজবিদ এবং তারতিলের সহিত।

তিলাওয়াতকারীর প্রতি কুরআনে দাবিঃ আমরা অনেকেই কুরআনুল কারিম তিলাওয়াত করি। কিন্তু এই কুরআন কেন নাজিল হয়েছে, কুরআনে আল্লাহ আমাদের কি বলছেন, কিভাবে আমাদের জীবন-যাপন পরিচালনা করতে হবে। আরও অনেক বিষয়াবলী কুরআনে এসেছে যা আমাদের জানা নেই! কুরআনের দাবি হচ্ছে- কুরআন বুঝে অধ্যায়ন করা। এবং কুরআন অনুযায়ী নিজের জীবন গড়া। কেননা, কুরআনের আলোচ্য বিষয়ই হচ্ছে মানুষ।
তাই আসুন, প্রতিদিন আমরা কুরআনের নির্দিষ্ট একটি অংশ তিলাওয়াত করি। যত ব্যস্তই থাকি না কেন, আমরা কুরআনের নির্ধারিত অংশ তিলাওয়াত এবং অধ্যয়নে সচেষ্ট হই। কেননা কল্যাণ কাজ যত অল্পই হোক নিয়মিতভাবে আদায় করলে অধিক ছাওয়াব পাওয়া যায়। আমরা কুরআনের তিলাওয়াত ছেড়ে দেব না।

নবীজি সা. নিয়মিত কুরআন খতম করতেন। এক খতম শেষ হলে আরেক খতম শুরু করতেন। এটা সুন্নাত। তিনি বলেছেন, ‘অন্তত এক মাসে হলেও কুরআন খতম করো।’ (বুখারী)
হাদীসে বিশ দিনে, দশ দিনে, সাত দিনে, তিন দিনে, চল্লিশ দিনে খতম করার কথাও আছে। প্রত্যেকেই তার সামর্থ্য অনুযায়ী খতম করবেন। তবে সময় যতই লেগে যাক, চল্লিশ দিনের বেশি যেন না লাগে। কারণ, হাদীসে সর্বোচ্চ চল্লিশ দিনের কথা আছে।

কুরআনুল কারিম বুঝে পড়ার ফজিলত অনেক। তবে না বুঝে হলেও শুধু তিলাওয়াতের ফজিলতও কিন্তু কম নয়। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘কোরআন তিলাওয়াতে (না বুঝে হলেও) প্রতি হরফে দশ নেকী। আর প্রতিটি নেকী দশগুণ হয়ে আসে।’ (তিরমিযী)

প্রতিদিন কমপক্ষে এক পারা পড়া কঠিন কিছু নয়। নিজে পড়তে না পারলে, অন্তত ত্রিশ মিনিট সময় বরাদ্দ করে, একজন কারী সাহেবের মুখ থেকেও শুনে নিতে পারি। রেকর্ড শুনলে নিজে পড়া বা সরাসরি শোনার মতো সওয়াব না হলেও কিছু সওয়াব ও বরকত এতেও রয়েছে।

একটানা সময় না হলে, কাজের ফাঁকে ফাঁকে শুনে বা পড়ে নেয়া যেতে পারে। প্রতি নামাজের আগে বা পরে চার পৃষ্ঠা বা সাধ্যানুযায়ী আরও বেশি শোনার বা পড়ার নিয়ম করে নেয়া যেতে পারে।

ফেসবুকে লাইক দিন