লালবাগ ও ইসলামবাগ মাদরাসা থেকে কুরবানীর ছুরি উদ্ধার; যা বলছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ

ইমান২৪.কম: মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ইবাদত কুরবানী। হাজার বছর ধরে পালিত হওয়া এই ইবাদত মুসলিম ঐতিহ্যের অন্যতম। পবিত্র ঈদুল আযহায় পশু জবাই করার মাধ্যমে ধর্মীয় এই ইবাদত পালন করা হয়ে থাকে।

উপমহাদেশে কয়েক শ বছর ধরে কুরবানীর পশু জবাইয়ের এই কাজ আন্তরিকতার সাথে আঞ্জাম দিয়ে আসছেন মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকগণ। ঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশে কুরবানী হওয়া পশুর প্রায় ৯০% জবাই করে থাকেন কওমী মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকরা।

বাংলাদেশে ভারতের বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে গত ২৬, ২৭ ও ২৮ মার্চ তাওহীদি জনতা ও হেফাজত কর্মীদের সাথে পুলিশ এবং সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের দানা বাঁধে। ২০ কর্মী নিহত ও অসংখ্য আহতের প্রতিবাদে শুক্রবার (২ এপ্রিল) সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে হেফাজত। দেশের এ পরিস্থিতির মধ্যে হেফাজতের বিক্ষোভের একদিন আগে গত বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর পুরান ঢাকাস্থ লালবাগ জা‌মেয়া কোরআনিয়া আরা‌বিয়া মাদরাসা ও চকবাজারের ইসলামবাগ জা‌মেয়া ইসলামিয়া মাদরাসা থে‌কে কুরবানীর পশু জবাইয়ের কা‌জে ব্যবহৃত ৬০৩টি ছু‌রি নিয়ে যায় পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামবাগ মাদরাসার মুহতামীম মাওলানা মঞ্জুরুল হক আফেন্দি ইনসাফকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ মাদরাসায় এসে কুরবানীর পশু জবাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ছুরি নিয়ে যায়। শুধুমাত্র কুরবানীর পশু জবাইয়ে ব্যবহৃত হওয়া এই ছুরি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে থাকে। এই ছুরিগুলো কুরবানী ব্যাতিত অন্য কোন কাজে ব্যবহৃত হওয়ার নজির বাংলাদেশের কোথাও নেই। এমনকি মাদরাসার বোডিংয়ের কোন পশুও এই ছুরি দ্বারা জবাই করা হয় না।

কুরবানীর পশু জবাইয়ের ছুরি নিয়ে যাওয়াকে মাদরাসার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন মাওলানা আফেন্দী।

তিনি বলেন, দেশ ও আইনের প্রতি মাদরাসার ছাত্র শিক্ষক বরাবরই শ্রদ্ধাশীল। এই ব্যাপারটা মিডিয়াগুলোতে যেভাবে ফলাও করে প্রচারিত হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি কওমী মাদরাসার ভাবমূর্তি নষ্ট করার গভীর কোন ষড়যন্ত্রের অংশ। মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকদের জন্য এটি বেশ অসম্মান এবং দুঃখজনকও বটে।

এদিকে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন লালবাগ মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাজি। তিনি বলেন, মাদরাসায় কুরবানীর ছুরি থাকে এবং এগুলো বছরে একদিন ছাত্রদেরকে দেওয়া হয়। তারা মুসলিমদের সুন্নত ও সঠিক পদ্ধতিতে কুরবানীর পশু জবাইয়ের কাজে সহযোগিতা করে থাকেন, একথা সকলেই জানে। প্রশাসনের লোকরা অমূলক ভয় থেকে কিংবা আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য ফিরিয়ে দেওয়ার ওয়াদা করে এগুলো থানায় নিয়ে গেছে। এটাই বাস্তবতা।

কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এ ঘটনার সংবাদ পরিবেশন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, মাদরাসা থেকে কুরবানীর পশু জবাইয়ের ছুরি নিয়ে যাওয়া নিয়ে কিছু মিডিয়ার হেডলাইন কিংবা নিউজের ধরন বড় আপত্তিকর এবং উস্কানিমূলক মনে হয়েছে। সংবাদ গুলো পড়ে মনে হয়েছে যেন পুলিশ এগুলো উদ্ধার করে বড় কোন কাজ করেছে এবং যেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে তারা এই ছুরিগুলো হেফাজত করে বড় অন্যায় করে ফেলেছে। এটাকে হলুদ সাংবাদিকতার ছোট্ট একটি নমুনাও বলা যায়। তারা জাতির সামনে প্রকৃত বিষয় তুলে না ধরে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তবে এতে যে তাদের কত বড় ক্ষতি হচ্ছে তারা অনুধাবন করতে পারছে না। যে বাস্তবতা মানুষ যুগ যুগ ধরে দেখে আসছে তার বিপরীত নিউজ করে মূলত তারাই অনাস্থার অতল গহ্বরে নিপতিত হচ্ছে।

ফেসবুকে লাইক দিন