লকডাউন দরকার নেই, শিগগিরই বিশ্ব একটি ভ্যাকসিন পাবে: আমেরিকান বিশেষজ্ঞ

ইমান২৪.কম: লকডাউন প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন আমেরিকার সরকারি বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি। তিনি বলেন, শিগগিরই বিশ্ব একটি ভ্যাকসিন পাবে, যা মহামারীর অবসান ঘটাবে। ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফল উৎসাহব্যঞ্জক।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন। আমেরিকায় এখন সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে।

ফাউসির কাছে প্রশ্নছিল, ওই দুই এলাকায়ও কি লকডাউনের প্রয়োজন নেই? তিনি বলেন,আমি মনে করি না, আমরা লকডাউনে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আর কথা বলব।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত ও মৃত্যু উভয় দিক দিয়েই বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। দেশটিতে প্রাণহানির সংখ্যা এক লাখ ২০ হাজারের বেশি। করোনাভাইরাস ছড়ানোর মূলকেন্দ্র হয়ে ওঠা নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি যেখানে তাদের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে, সেখানে ২০টি অঙ্গরাজ্যে সংক্রমণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

স্কুল কখন আবার চালু করা উচিত? এ প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসের পরিচালক ফাউসি দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসায় স্থানীয়করণ পদ্ধতির ওপর জোর দেয়ার কথা বলেন।

যেখানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা নেই সেখানে স্কুল খুলে দিতে কোনো সমস্যা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। যেসব অঞ্চলে সংক্রমণ এখনো চলছে, সেখানে অপেক্ষা করতে বলেছেন তিনি।

বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মধ্যে অনেকেই সার্স-কোভি-২ ভাইরাসের জন্য ভ্যাকসিন তৈরির প্রচেষ্টাকে ‘মুনশট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের যুক্তি করোনা ভাইরাসটির জন্য সফল টিকা কখনো তৈরি হয়নি।

এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রচেষ্টার পরও এইচআইভির কোনো টিকা পাওয়া যায়নি। তবে ফাউসি বলেছেন, করোনাভাইরাসের টিকার সঙ্গে এইচআইভির টিকার তুলনা করা যাবে না। করোনাভাইরাস টিকার বিষয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী, কারণ করোনাভাইরাস আক্রান্ত অধিকাংশ রোগী এ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাদের ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিরোধী ক্ষমতা ভাইরাসটিকে পরাস্ত করতে পেরেছে।

এ থেকে বোঝা যায় প্রকৃতি আপনাকে এটি দূর করা সম্ভব সে প্রমাণ দেয়। যেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তিরা সেরে ওঠার পর তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাসী যে এই অ্যান্টিবডি মানবসৃষ্ট অ্যান্টিজেন দ্বারাও তৈরি হতে পারে। ফাউসি বলেন, মডার্নার তৈরি ভ্যাকসিন নিয়ে পশুর ওপর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের প্রাথমিক গবেষণা সম্পর্কে তিনি সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেন।

ফেসবুকে লাইক দিন