রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর এখনও পুরোদমে গণহত্যা চালাচ্ছে মিয়ানমার: জাতিসংঘ

মিয়ানমারে জাতিগত নিধনযজ্ঞ এখনো বন্ধ হয়নি। রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর এখনও পুরোদমে গণহত্যা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা জেইদ রা’দ আল হোসেইন গতকাল (বুধবার) জেইদ রা’আদ আল হোসাইন এই কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, রাইচেন বুলডোজারের সাহায্যে বিভিন্ন গ্রাম ও গণকবর ধ্বংসের প্রতিবেদন প্রমাণ করে যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অপরাধচিহ্নগুলি মুছে ফেলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিমরা খাদ্য সংকট রয়েছে। খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্য সামগ্রী সংগ্রহের সব পথ বন্ধ করা হয়েছে মায়ানমার কর্তৃপক্ষ। এর ফলে রোহিঙ্গারা রাখাইন ছারতে বাধ্য হচ্ছে। কিন্তু মায়ানমার সরকার এই বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে গত কয়েক দিন আগে সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে মায়ানমার, এমনকি কি ফাঁকা গুলিও ছুড়েছে। ইতিমধ্যে ব্যাপারটি অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন উ-কে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে। একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্রের সাথে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এ সব উদ্যোগের পরও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। 

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি-এর অবস্থানও জোরদার করা হয়েছে বলে খবরে জানানো হয়। সম্প্রতি তাম্বু সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডে ছয় হাজারের মত রোহিঙ্গা জরো হয়। এরপর সীমান্তে বিজিপি মোতায়েন করে মায়ানমার। বিজিপি সদস্য ভীতিকর ভাষায় ঘোষণা দিয়ে রোহিঙ্গাদের চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাই রোহিঙ্গাদের অনেকে ভয়ে পালিয়ে যান।

ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে প্রবেশ করার জন্য তারা সীমান্তে জড়ো হয়েছে। তবে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ” নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের কোনোভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করা যাবে না। ” পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেছিলেন, ” মিয়ামমানমার সীমান্ত নীতি বিরুধী কিছু করলে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। ”

কিন্তু মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের উপর হত্যা-নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চুক্তিও করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, রাখাইনে এখনও যারা রয়েছেন তারাই দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। ফলে সেখানে আশ্রয় প্রার্থীদের ফেরত পাঠানো অর্থ হল জেনেশুনে তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া

ফেসবুকে লাইক দিন