রিযিক বৃদ্ধির ছয়টি উপায়ঃ জেনে নিন 🌿

রিযিক বলতে আমরা সাধারণত খাদ্য বুঝি; কিন্তু রিযিকের অর্থ এতটুকুতে সীমাবদ্ধ নয় ৷ রিযিকের ভেতর অনেক কিছুই অন্তর্ভুক্ত। যেমন- স্বাস্থ্য, সম্পদ, খাদ্য, বুদ্ধি, উপায়-উপকরণ, সময় ইত্যাদি।

আল্লাহ তায়ালাই হলেন রাযযাক্ব তথা রিযিকদাতা। বান্দারা চায় যে আল্লাহপাক রিযিক বৃদ্ধি করে দিন । এ লক্ষ্যে অনেক বান্দাই রিযিক বৃদ্ধি নিয়ে ভেবেছেন ৷ কোরআন হাদীস থেকে গবেষণা করে উপায় আবিষ্কার করেছেন ৷ লিখেছেন বিভিন্ন গ্রন্থ ৷

এখানে রিযিক বৃদ্ধির ছয়টি উপায় নিয়ে আলোচনা করা হলো যা ইবাদাতের সাথে সম্পর্কিত। দ্বীনদার ব্যক্তিরা ইনশাআল্লাহ এর মাধ্যমে যতেষ্ট উপকৃত হতে পারবেন ।

রিযিক বৃদ্ধির উপায়:
১। তাক্বওয়া
যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন। এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। [সূরা তালাক(৬৫): ২-৩]

এটি একটি পরিক্ষিত আয়াত ৷ অনেক মুত্তাক্বী ব্যক্তিই ধারণাতীব উৎস থেকে রিযিক পাওয়ার বিষয় উল্লেখ করেছেন ।
কারণ আয়াতটি আল্লাহর ওয়াদা এবং আল্লাহর ওয়াদা অবশ্যই সত্য। আমাদের উচিত রিযিকের ব্যাপারে তাক্বওয়া অবলম্বন করা এবং বিপদ ও পরীক্ষার মুহূর্তে তাক্বওয়ার উপর অবিচল থাকা।

২। তাওয়াক্কুল
“যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।“ [সূরা তালাক(৬৫): ৩]

উপরের আয়াতটির বাকি অংশ আমাদের আলোচনায় সেভাবে স্থান পায় না। প্রথম অংশ তাক্বওয়ার কথা বলে, দ্বিতীয় অংশ তাওয়াক্কুলের। তাওয়াক্কুল করার অর্থ হলো, আপনার যা প্রাপ্য তা আল্লাহ আপনাকে দেবেনই সেই দৃঢ় বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাওয়া। কঠিনতম মুহূর্তেও আল্লাহর সাহায্যের উপর আস্থা রাখা। রিযিকের তালা খোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার এই তাওয়াক্কুল।

৩। দান-সদকা
কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার জন্য বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন? [সূরা বাক্বারাহ(২): ২৪৫]

রিযিক বাড়ে কিনা এই পরীক্ষা করার জন্য দান-সদকা করা ঠিক নয়। আমরা দান-সদকা করবো গরীব ও অভাবীদের সাহায্য করার নিয়তে। নিয়তের বিশুদ্ধতা ও দানের মানের ভিত্তিতে সাওয়াব দশ থেকে বহুগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। যেসব দ্বীনদার মুসলিম প্রচুর রিযিক লাভ করেন, তাঁদের বৈশিষ্ট্য হলো দানশীলতা। তাক্বওয়া ও তাওয়াক্কুল অবলম্বনের পাশাপাশি যাঁরা দান-সদকা করেন, তাঁদের রিযিকের পরিমাণ হয় কল্পনাতীত।

৪। কৃতজ্ঞতা
আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেবো, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আযাব বড় কঠিন’। [সূরা ইবরাহিম(১৪): ৭]

রিযিক বৃদ্ধি করার চতুর্থ উপায় হলো, আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন তা যত কমই মনে হোক না কেন, তার ব্যাপারে কৃতজ্ঞ হওয়া। সাধারণ নিয়ম হলো, শুকরিয়া আদায় করলে বৃদ্ধি পায় আর অভিযোগ করলে হ্রাস পায়। আল্লাহ আপনাকে যা যা দিয়েছেন তার দিকে তাকান আর প্রতিটা জিনিসের জন্য কৃতজ্ঞ হোন। এতে আপনার রিযিক বৃদ্ধি হবেই ইনশাআল্লাহ ৷

৫। ইস্তিগফার
“অতঃপর বলেছি, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা প্রার্থনা করো। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন, তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী-নালা প্রবাহিত করবেন।“ [সূরা নূহ(৭১): ১০-১২]

এ অংশটি নেওয়া হয়েছে কওমের প্রতি নূহ (আলাইহিসসালাম) এর উপদেশ থেকে। তিনি তাদের তাওবাহ, ইস্তিগফার করতে বলেছেন যাতে তাদের রিযিক বৃদ্ধি পায়।

আমরা প্রতিদিনই গুনাহ করি। তাই প্রত্যহ অজস্রবার আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া উচিত। ইস্তিগফারের ফলে রিযিকে বরকত আসে।

৬। পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করা
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে কামনা করে যে তার রিযিক বৃদ্ধি পাক এবং জীবন দীর্ঘায়িত হোক, সে যেন আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে।“ [সহীহ বুখারী]

ষষ্ঠ উপায় হলো পারিবারিক বন্ধন রক্ষা করা। একজন মুসলিম কখনো পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করে যে যার পথে চলে যেতে পারে না। পারিবারিক বন্ধন রক্ষায় সচেষ্ট হলে আল্লাহ আমাদের রিযিক বৃদ্ধি করবেন এবং হায়াতে বরকত দেবেন।

পরিশেষে
স্মরণ রাখতে হবে যে, অধিক রিযিকের সাথে আসে অধিক জবাবদিহিতা। আমরা আমাদের জান-মাল কোন পথে ব্যয় করেছি, তার জন্য আখিরাতে আল্লাহর নিকট হিসাব দিতে হবে। তাই জবাবদিহিতার কথা মাথায় রেখেই রিযিক বৃদ্ধির উপায় অবলম্বন করবো ৷

ফেসবুকে লাইক দিন