রাসূলুল্লাহ সা. এক ফকীরকে কি শিক্ষা দিয়েছিলেন জেনে নিন..

· অসহায়দের দান করা সওয়াবের কাজ ৷ রাসূলুল্লাহ সা.-ও প্রচুর দান করতেন ৷ তবে একদিন তিনি দান না করে ভিন্ন পথ অবলম্বন করেন ৷ সেটিই এখানে উদ্ধৃত করা হলো –

· একবার তিনি সাহাবীদের মজলিসে বসেছিলেন। এমন সময় একজন গরিব আনসার সাহাবী সেখানে হাজির হলেন ৷ আনসারী তাঁর কাছে কিছু ভিক্ষা চাইলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার ঘরে কি কিছুই নেই?’ আনসারী বললেন, ‘আছে, মাত্র কম দামের একটা কম্বল আর একটা কাঠের পেয়ালা। কম্বলের একদিক আমরা বিছাই এবং একদিক গায়ে জড়াই। আর কাঠের পেয়ালাটা পানি পান করার কাজে ব্যবহার করি।’

· ‘যাও, সে দুটি আমার কাছে আনো।’ প্রিয় নবী (সা.) সাহাবীকে হুকুম দিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যে আনসারী সাহাবী কম্বল ও কাঠের পেয়ালা এনে প্রিয় নবীর সামনে রাখলেন। প্রিয় নবী (সা.) সে দুটি হাতে তুলে নিলেন। তিনি জিনিস দুটি নিলাম করলেন। ‘কে কিনবে এই জিনিস দুটি?’ তিনি আওয়াজ দিলেন। ‘আমি, হে আল্লাহর রাসূল! আমি এ দুটি জিনিস এক দিরহামে কিনে নিতে চাই।’ বললেন একজন সাহাবী। ‘কে এক দিরহামের বেশি দাম দিতে পারে।’ দু’বার, তিনবার প্রিয় নবী (সা.) আওয়াজ দিতে থাকলেন। ‘আমি দুই দিরহামে নিতে পারি।’ আর একজন সাহাবী বলে উঠলেন।

· তিনি দুই দিরহামের বিনিময়ে কম্বল ও পেয়ালাটি বিক্রি করে দিলেন। দিরহাম দুটি আনসারীকে দিয়ে বললেন, যাও, এক দিরহাম দিয়ে খাবার কিনে ঘরে নিয়ে যাও। আর অন্য দিরহামটি দিয়ে একটি কুঠার কিনে নিয়ে এসো। প্রিয় নবীর কথামতো আনসারী সাহাবী বাজারে গেলেন ; এক দিরহাম দিয়ে খাবার কিনে ঘরে নিয়ে গেলেন। আর এক দিরহাম দিয়ে একটি লোহার কুঠার কিনে নিয়ে নবীর কাছে এলেন। প্রিয় নবী নিজের হাতে কুঠারটিতে কাঠের বাঁট লাগিয়ে দিলেন। ‘যাও, বনে যাও, কাঠ কাটতে থাকো এবং বাজারে এনে বিক্রি করত থাকো।’ প্রিয় নবী (সা.) আনসারীকে হুকুম দিতে থাকলেন। ‘তবে হ্যাঁ, মনে রেখো আগামী পনের দিন তোমাকে যেন আর এদিকে না দেখি।’

· আনসারী সাহাবী কুঠারটি হাতে নিয়ে বনের পথে চলে গেলেন। এরপর থেকে তাঁকে আর কারোর কাছে হাত পাততে দেখা যায়নি। বন থেকে কাঠ কেটে এনে বাজারে বিক্রি করতেন এবং তার বিনিময়ে যা পেতেন তা দিয়ে বেশ ভালোভাবে তাঁর সংসার চলে যেত। এমনকি সংসারের খরচ চলার পরও প্রতিদিন কিছু পয়সা বাঁচতো। ১৫ দিন পর যখন তিনি প্রিয় নবীর কাছে এলেন তখন তিনি বাড়তি দশ দিরহামের মালিক।

· প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে হাত নিচে থাকে তার চেয়ে অবশ্যি সে হাত উত্তম যে উপরে থাকে।’ (এর মানে হচ্ছে, দান গ্রহণকারীর চাইতে দাতার মর্যাদা আল্লার কাছে অনেক বেশি।) প্রিয় নবী আরো বলেছেন, যে ব্যক্তি ভিক্ষা করবে, কিয়ামতের দিন সেটি তার চেহারায় একটি দাগের সৃষ্টি করবে। তিনি আরো বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তি ছাড়া কারোর জন্য ভিক্ষা করা বৈধ নয় : যে ব্যক্তি এমন অভাবে পড়েছে যা তার সর্বনাশ ডেকে আনবে, যে ব্যক্তি এমন দেনার দায়ে আবদ্ধ হয়েছে যা তাকে অপমানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছিয়ে দেবে এবং যে ব্যক্তিকে এমন রক্তপণ আদায় করতে হবে যা দেয়া তার পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর। (সূত্র : আবূ দাউদ ও ইবনে মাজাহ )

লেখক ও সম্পাদকঃ শহীদুল্লাহ নজীব আল-হাবিবী

ফেসবুকে লাইক দিন