রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন খালেদা

ইমান২৪.কম: জিয়া দাতব্য ট্রাস্টের নামে ‘ব্যক্তিগত’ তহবিলে অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে আদালত। সোমবার আলোচিত এই দুর্নীতি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, খালেদা জিয়া “সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন থেকে অপরাধমূলক কাজের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ট্রাস্টের অনুকূলে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করে তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা কখনো কাম্য হতে পারে না।” সাত বছর আগে দুদকের করা এই মামলা রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদাসহ চার আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রায়ে। পাশাপাশি তাদের ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আবুল হারিছ চৌধুরী বিএনপির গত শাসনামলে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ছিলেন।

যিনি এ মামলায় বিচার শুরুর আগ থেকেই পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি হারিছ চৌধুরীর তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান রয়েছেন কারাগারে। খালেদা জিয়া ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের বসানো জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস থেকে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারক বলেন, সোনালী ব্যাংকের ওই হিসাব দাতব্য ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি খালেদা জিয়ার একক স্বাক্ষরে পরিচালিত হত।

“ট্রাস্টের নামে অর্থ আদায় ও ব্যয়ের যেসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, ম্যানেজিং ট্রাস্টি হিসাবে ‘সবকিছুই খালেদা জিয়া জানতেন। তার অগোচরে কোনো টাকা জমা হওয়ার কথা নয়। অন্য আসামির যোগসাজশে এসব টাকা আদায় করে তিনি ক্রিমিনাল মিসকন্ডাক্ট করেছেন। এমনকি তারা যেসব উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট গঠন করেছিল, তার একটিও বাস্তবায়ন করেন নাই।” রায়ে বলা হয়, আসামি মনিরুল ইসলাম খান ঢাকার তৎকালীন মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সহকারী একান্ত সচিবের ক্ষমতা ব্যবহার করে মেট্রো মেকারসের নামে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ওই অ্যাকাউন্টে জমা করেছিলেন। ওই টাকার উৎস অজানা।

শাহজালাল ব্যাংক থেকে ওই টাকার পেমেন্ট অর্ডার করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ‘হুমকি দেওয়া হয়েছিল’ বলেও কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার সাক্ষ্যে উঠে আসে। বিচারক বলেন, পচা সাবানের মালিক শরীফুল আলম পচা এই ট্রাস্টে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন বলে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাও সঠিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। এই শরীফুল আলমকে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে মৃত দেখানোয় মামলার যুক্তিতর্কের সময় বিতর্ক উঠেছিল।

তদন্তের এ দুর্বলতার কারণে মামলাটি খারিজের দাবি জানিয়েছিল আসামিপক্ষ। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি একই বিচারক জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের নামে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওই মামলায় খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পাঁচজনকে দশ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় ওই রায়ে।

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারে ড. কামালের উদ্বেগ, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা

ফেসবুকে লাইক দিন