রাতে উবারের প্রাইভেটকারে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা তরুণীর

ইমান২৪.কম: রাজধানীতে উবারের প্রাইভেটকারে উঠে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক ছাত্রী। তিনি তার ফেসবুকে সেই রাতের ঘটনার বিবরণ দেন। বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করছেন তিনি। সেই তরুণীর দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হল পাঠকদের জন্য: ‘গত ১২ মে রাত ৮ টার দিকে ধানমন্ডি সেন্ট্রাল হসপিটাল থেকে উবার নিয়ে মিরপুর ২ নম্বরে আসছিলাম। একাই ছিলাম। উবার ড্রাইভার কিছু দূর গিয়েই (জ্যাম ছিল হালকা) গাড়ি থেকে নামে।

৩০/৪০ সেকেন্ড পর সে এসে আমাকে বলল, ‘ম্যাম, গাড়ির বাঙ্কারে একটু সমস্যা হয়েছে। বারবার রাস্তায় ঠেকে যাচ্ছে। আপনি কিছু মনে না করলে সামনে এসে বসেন, প্লিজ।’ আমি সেটা সত্য মনে করেই সামনে গিয়ে বসেছিলাম। তারপর সে বিভিন্নভাবে বুঝানোর চেষ্টা করছিল তার শরীর ভালো লাগছে না। ব্যাপারটা এরকম যে সে মাথা ঘুরে আমার ওপর পড়ে যাবে। সে ড্রাইভ করতে করতেই প্রথমে আমার পায়ের উপর একবার হাত ফেলেছে।

ভাবটা এমন ভুল করে হয়েছে। আমি বললাম, ভাই সাবধানে ড্রাইভ করেন। আর আপনার শরীর খারাপ লাগলে আমাকে ড্রপ করে দেন। আমিও সাহস করতে পারছিলাম না নামার জন্য। তখন চন্দ্রিমা উদ্যান অতিক্রম করছিলাম। রাস্তা অনেক সুনসান।”

চালককে ‘শয়তান’ আখ্যা দিয়ে নিপীড়নের শিকার ওই তরুণী আরও লেখেন, ‘ড্রাইভারের নাম উবারে রাশেদুল দেখায়। আর ট্রু কলারে হাসান। মোবাইল নাম্বার: +৮৮০১৭২৯৪২১৭৭৬। উবারের মতো অ্যাপস নিয়েও যদি নিশ্চিন্তে চলাফেরা না করা যায় তাহলে কী করা উচিত?

শেষ পর্যন্ত গত বুধবার রাতে সেই উবার চালক রাশেদুল হাসানকে গ্রিনরোড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে মিরপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ওই তরুণী বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এ মামলায় হাসানকে কারাগারে পাঠানো হয়।

যৌন নিপীড়নের শিকার ওই তরুণী বলেন, ‘চালককে বারবার বলছিলাম, প্লিজ গাড়ির ভেতরের লাইট অন করুন। সে কোনোভাবে এটা শুনছিল না। সিটবেল্ট ও দরজা লক করে দেয়। পরে সে আমার পায়ের উপর আরও ২/৩ বার হাত ফেলেছে। তখন রেগে গিয়েই গাড়ি থামাতে বলেছিলাম। তারপর সে আমার হাত ধরে বলে, আমাকে আপনি খারাপ মনে করছেন কেন। আসলে আমি পরিস্থিতি বুঝাতে পারব না।’

তরুণী আরও বলেন, ‘আমার গায়ে হাত দিয়েছে সে। কতটা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছিল বুঝাতে পারব না। অত্যন্ত বাজে ব্যবহার করেছে চালক। আমি কোনোভাবেই গাড়ি থেকে নামতে পারছিলাম না। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। আবার ভয়ে ৯৯৯-এ কলও করতে পারিনি। কারণ চালকের সামনে পরিস্থিতি বর্ণনা করতে হবে। তখন যদি সে আরও বড় ক্ষতি করে ফেলে। উবার থেকে নামার পর থানায় গিয়ে প্রথমে জিডি করি। পরে ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়েছি।’

তরুণীর ভাষ্য, ‘উবারের এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত যাতে চালকের সামনে কল না করলেও কেউ তাদের বিপদ সংকেত জানাতে পারেন। তখন উবার কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীকে সেভ করবে। তবে এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা যেভাবে আমার পাশে থেকেছে এতে কৃতজ্ঞ আমি। শুধু জিডি করলে ওর উপযুক্ত শাস্তি হতো না, তাই পরে মামলা দায়ের করেছি।’

পুলিশের মিরপুর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাঈনুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রথমে উবার চালক দাবি করেছিল, তরুণীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। পরে স্বীকার করে কুমতলবে ওই যাত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত বাজে ব্যবহার করেছেন তিনি।

ফেসবুকে লাইক দিন