রাজারবাগীদের বাহাসবাজীঃ সব বাতিলের একই নীতি!

ইমান২৪.কম: মুফতী লুৎফুর রহমান ফরায়েজী: রাজারবাগীদের বাহাসবাজীঃ সব বাতিলের একই নীতি! চ্যালেঞ্জ কর বড় গলায়। সাধারণ্যের সামনে। স্বাভাবিকভাবে সাধারণ মানুষ এসব বুঝে না। তাই তাদের ব্যাডাগিরি জাহির হয়। আর যদি সাহস করে কেউ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই ফেলে। তাহলে দে-দৌড়। এটা হল সকল বাতিলপন্থীদের আম অভ্যাস। সেই চিরন্তন নীতি। কিংবা অন্ধ ভক্তরা তাদের অনুসৃতদের উপর ভরসা করে চ্যালেঞ্জ করে বসে, তারপর যখন ভক্তকুল কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করে তখন উলামায়ে দেওবন্দের ছোট থেকে ছোট কোন আলেমের নাম শুনলেই ভক্তকুলকে নিরাশার সাগরে ভাসিয়ে তা বানচাল করে দিতে কূটচলে মরিয়া হয়। এটা নামধারী আহলে হাদীসদের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য তেমনি মিলাদী বিদআতিদের ক্ষেত্রে সমান। অনেক আগেই বলেছিলামঃ বাতিলপন্থীরা বিষ খেতে রাজি, কিন্তু উলামায়ে দেওবন্দের সাথে বাহাসে বসতে রাজি নয়।

আহলে হাদীস নামধারী শায়েখরা যখন উলামায়ে দেওবন্দের শক্ত কঠিন ইলমী প্রতিরোধের সামনে টিকতে না পেরে চ্যালেঞ্জবাজীর খাতা গুছিয়ে ডুব মেরেছে। তখন মাঠে দেখা গেল মিলাদী বিদআতিদের আস্ফালন। মাঠে হাজির এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। চ্যালেঞ্জ করল। অতঃপর বাকিটা ইতিহাস। কিভাবে একের পর এক জালিয়াতি ও প্রতারণা করে তারই প্রস্তাবিত বাহাসের দুই স্থান তথা যাত্রাবাড়ী মাদরাসা এবং ইঞ্জিনিয়ার ইনষ্টিটিটউটের দ্বিতীয় তলার ভিআইপি লাউঞ্জ রেখে বটগাছতলা থেকে চার পাঁচ মিনিটের মাথায় পুলিশের দাবড়ানী খেয়ে পালালে এবং আব্বাসী থেকে বটগাছী পদবী লাভ করল। এসব কাসুন্দী সবারই জানা।

এবার মঞ্চে হাজির হল রাজারবাগী পীরের ভক্তরা। লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা থানার কেতকিবাড়ী ঈদগাহের রাজারবাগী ভক্ত ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ নূরুন্নবী খন্দকার মিলাদ কিয়াম নিয়ে করে বসলেন চ্যালেঞ্জ। গ্রহণ করলেন স্থানীয় উলামাগণ। উক্ত ঈদগাহ কমিটির সভাপতি জনাব সোলাইমান সাবেক চেয়ারম্যান সাহেবও রাজারবাগী ভ্রান্ত পীরের ভক্ত হওয়ায় পালে হাওয়া পেলে কিয়াম পার্টি। তারিখ ঠিক হল। থানায় গেলেও উভয় পক্ষ। থানা থেকে ২২ই এপ্রিল সকাল দশটায় সিন্দুর্ণা ইউনিয়ন পরিষদে বাহাস হবে বলে লিখে দেয়া হল। থাকবে পুলিশ প্রশাসন। স্ট্যাম্পের মাঝে উভয় পক্ষের সম্মতিতে মুবাহিসদের নাম এবং শর্তাবলীও লিপিবদ্ধ করা হল। রাজারাবাগীদের কিবলা রাজারবাগ মুহাম্মদিয়া দরবারের খাস আলেমদের নাম সন্নিবিষ্ট হল মুবাহিস হিসেবে। রাজারবাগ দরবারের ভক্ত সোলাইমান সাহেব এবং ইমাম খন্দকার নূরন্নবী সাহেব আসলেন দরবারে। বিস্তারিত জানানোর জন্য। পাল্টে গেল দৃশ্যপট।

সাফ জানিয়ে দিল এই বাহাসে তারা যেতে পারবেন না। তাদের দ্বারা সম্ভবও নয় উলামায়ে দেওবন্দের সাথে বাহাসে বসা। এমন ইলমী জোরই তাদের নেই। এবার বিপাকে ভক্তকূল। কী করা যায়? রাজারবাগী পীরের নির্দেশে তদবীর করে ফোন দেয়া হল হাতীবন্ধা থানায়। যেন বাহাসটি স্থগিত করা হয়। হলও তাই। ভক্তরা ব্যর্থ মনোরথে ফিরে এল এলাকায়। মুখ দেখানোর লজ্জা ঢাকায় ছড়ালো প্রশাসন অনুমতি দিচ্ছে না। অথচ প্রশাসন আগেই অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু সভাপতি রাজারবাগীর ভক্ত সোলাইমান কমিটির বাকি সদস্য এমন কি সাধারণ সম্পাদককে না জানিয়ে বাহাস স্থগিতের ঘোষণা করে দুই আগের ডেট উল্লেখ করে। যেহেতু বাহাস হবে না, তাই আমি ঢাকা থেকে যাবার কষ্ট করিনি। কিন্তু বগুড়া জামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস, উত্তরবঙ্গের গর্ব মুফতী শফী কাসেমী সাহেব নির্ধারিত দিনে বাহাস স্থলে উপস্থিত হন। বুকটান করে পুরো এলাকা চষে বেড়ান।

কেতকিবাড়ী ঈদগাহ মাঠে বিপুল উপস্থিতির সামনে কুরআন ও হাদীসের আলোকে আলোচ্য মাসআলাগুলো আলোচনা করেন। তুলে ধরেন রাজারবাগী পীরের ভণ্ডামী এবং কুফরী বক্তব্যসমূহ। দেখা করেন হাতিবান্ধার থানার ওসীর সাথেও। আল্লাহ তাআলা মুফতী শফী কাসেমীকে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করুন। কবুল করুন তার খিদমাতকে। ফলাফল- স্থানীয় মুসল্লিদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞাঃ রাজারবাজী ভণ্ড পীরের মুরীদ ঐ ইমামের পিছনে মুসল্লিগণ আর ঈদের নামায পড়বেন না। অচিরেই উক্ত ঈদগাহ মাঠে বড় আকারে উলামায়ে দেওবন্দের পক্ষ থেকে শিরক বিদআত বিরোধী মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদের রাজারবাগের ভণ্ড পীরের ভণ্ডামী এবং তাদের কুফরী ও শিরকী কার্যক্রম থেকে সরলপ্রাণ মুসলমানদের ঈমান ও আমলকে হিফাযত করুন। আমীন।

ফেসবুকে লাইক দিন