রমজানের খবর যে ব্যক্তি আগে দেবে তার জন্য কি জাহান্নাম হারাম? সঠিক তথ্য যেনে নিন এবং সবাইকে সতর্ক করুন

আমরা প্রায় সময় আমাদের ইনবক্সে এমন মেসেজ পেয়ে থাকি যে, ”এই মেসেজ এত জনকে পাঠান তাইলে ১সাপ্তার ভিতর ভালো সংবাদ শুনবেন আর যদি না পাঠান তাহলে আপনার জন্য বিপদ আছে” মেসেজ গুলা সাধারনত ইসলামিক হয়। আমরা সবাই মুসলমান আমাদের ইসলামের প্রতি টান আছে আমরা ইসলামের প্রতি দুর্বল। এজন্য দেখা যায় এমন মেসেজ পেলে আমরাও আমাদের বন্ধুদের ভিতর সেয়ার করে দেই আর চিন্তা করি দিলে তো আর ক্ষতি নাই খুশির সংবাদ না’ই শুনলাম কিন্তু ক্ষতি না হয়।

ঠিক এমন একটি মেসেজ রমজান আসার পূর্বে অনলাইনে অনেক মানুষ না যেনে নিজের বন্ধু সার্কেল ও আত্তিয় স্বজনদের ভিতর সেয়ার করে যে, ‘প্রথম রমজান শুরু হবে ১৭/১৮ জুন, নবী পাক সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমজানের খবর যে লোক আগে অন্য কোনো ব্যক্তিকে দেবে তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যাবে; অতএব আপনিও রমজানের খবর আগে ভাগে অন্যকে দিয়ে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ করুন।’

মূল কথা- ‘সবার আগে রমজান মাসের খবর দিলে, তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হবে’। এ ব্যাপারে কোনো প্রমাণ নেই। বরং এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মনগড়া একটি কথা। যা ইহুদিরা তৈরি করে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে ছেড়ে দিয়েছে যেন মুসলিমরা তাদের নবীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করতে পারে।

সুতরাং এ বার্তার কোনো ভিত্তি নেই। বরং এমন বার্তার আদান-প্রদান নিষিদ্ধ। কেননা, এমন বার্তা প্রচারের মাধ্যমে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওপর মিথ্যারোপ করা হচ্ছে। অার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করার কত ভয়াবহ শাস্তি তা অনেক মুসলমানেরই অজানা।

বিশুদ্ধ হাদীস শরিফে এসেছে- قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من كذب علي متعمدا فاليتبوؤ مقعده من النار

অর্থ: রাসুলুল্লাহ সা: বলেছেন, যে ব্যক্তি অামার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত মিথ্যাচার করলো, সে যেন পরকালে জাহান্নামকেই তার ঠিকানা বানিয়ে নিলো।

(অাবু দাউদ শরীফ, হাদীস নং-৩৬৫১, ইবনে মাজাহ শরীফ, হাদীস নং-৩০, তিরমিযী শরীফ, হাদীস নং-২৬৬১, নাসায়ী শরীফ, হাদীস নং-৫৯১৫, বুখারী শরীফ, হাদীস নং-১০৬, মুসলিম শরীফ, হাদীস নং-৪)

তবে রমজান মাসের আগমন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো দোষণীয় কোনো বিষয় নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের রমজানের আগমন উপলক্ষে সুসংবাদ দিতেন এবং তাদের উত্তম আমলসমূহের জন্য প্রস্তুতি নিতে উৎসাহিত করতেন।

এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, হজরত সালমান ফারসি রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, শাবান মাসের শেষ দিনে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন।

ওই ভাষণে তিনি বলেন, হে লোক সকল! একটি মহিমান্বিত মাস তোমাদের ছায়া হয়ে ঘিরে ধরেছে। এ মাস একটি বরকতময় মাস। এটি এমন এক মাস, যার একটি রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম।

আল্লাহ তা’য়ালা এ মাসের সিয়ামকে ফরজ করেছেন আর নফল করে দিয়েছেন এ মাসে রাতের কিয়ামকে।

যে ব্যক্তি এ মাসে একটি নফল কাজ করবে, সে যেন অন্য মাসের একটি ফরজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল, সে যেন অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ সম্পাদন করল। এ মাস সবরের (ধৈর্যের) মাস; সবরের সওয়াব জান্নাত। এ মাস সহমর্মিতার। এ এমন এক মাস যাতে মুমিনের রিজিক বৃদ্ধি করা হয়।

যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো রোজাদার ইফতার করাবে, এ ইফতার তার গোনাহ মাফের কারণ হবে, হবে জাহান্নামের অগ্নিমুক্তির উপায়। তার সওয়াব হবে রোজাদারের অনুরূপ। অথচ তার (রোজাদারের) সওয়াব একটুও কমানো হবে না।

আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের সবাইতো রোজাদারের ইফতারির আয়োজন করতে সমর্থ নই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ সওয়াব আল্লাহ তা’আলা ওই ইফতার পরিবেশনকারীকেও প্রদান করবেন, যে একজন রোজাদারকে এক চুমুক দুধ, একটি খেজুর অথবা এক চুমুক পানি দিয়ে ইফতার করায়।

আর যে ব্যক্তি একজন রোজাদারকে পেট ভরে খাইয়ে পরিতৃপ্ত করল, আল্লাহতায়ালা তাকে আমার হাউজে কাওসার থেকে এভাবে পানি খাইয়ে পরিতৃপ্ত করবেন- যার পর সে জান্নাতে (প্রবেশ করার পূর্বে) আর পিপাসার্ত হবে না। এমনকি সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এটা এমন এক মাস যার প্রথম অংশে রহমত। মধ্য অংশে মাগফিরাত আর শেষাংশে জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত।

যে ব্যক্তি এ মাসে তার অধীনস্তদের ভার-বোঝা সহজ করে দেবে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেবেন।

মিশকাতুল মাসাবিহ, কিতাবুস সাওম, হাদিস নং: ১৯৬৫

হাদিসে রমজান মাস সম্পর্কে এভাবেই বলা হয়েছে। আল্লাহ পাক সবাই কে সঠিক বুঝ দান করুন, সরল সঠিক পথে পরিচালিত করুন। অামীন।

ফেসবুকে লাইক দিন