সোলেইমানিকে হত্যা: বেজে গেল আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধের ঘন্টা!

ইমান২৪.কম: ইরাকের বাগদাদে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হলেন ইরানের সেনাবাহিনীর জেনারেল তথা এলিট ফোর্সের প্রধান কাসিম সোলেইমানি। সোলেইমানির সাথে আরও নিহত হয়েছেন দেশের প্যারামিলিটারির সহকারী প্রধান আবু মাহদি আল মুহানদিস।

বলা হয় ইরানের মদদপুষ্ট ইরাকি জঙ্গি গোষ্ঠী কায়তাব হিজবুল্লাহর সংগঠকও ছিলেন মুহানদিস। এই জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গেই গত কয়েক দিন ধরে লড়াই চলছিল আমেরিকার। আমেরিকার অভিযোগ, গত সপ্তাহে বাগদাদে আমেরিকার একটি সামরিক ঘাঁটিতে এক মার্কিন কন্ট্রাক্টরকে হত্যা করে ওই হিজবুল্লা।

তারপরেই রবিবার ইরাকে অবস্থিত কায়তাব ক্যাম্পে বিমান হানা চালায় মার্কিন বায়ু সেনা। তাতে বেশ কিছু কায়তাব শীর্ষ নেতার মৃত্যুর কথা স্বীকার করে জঙ্গি গোষ্ঠীটি। এর জবাবে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে আক্রমণ চালায় কায়তাব৷ দূতাবাসে ভাঙচুর করা হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়।

সেই দিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন এর বদলা নেওয়া হবে। তারপরেই বাগদাদে ৭৫০ জন অতিরিক্ত সৈন্য পাঠায় আমেরিকা। ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়৷ বদলা নিতে গিয়ে ট্রাম্প যে সরাসরি ইরানের জেনারেলের ওপর হামলা করবেন, এতটা আশা করেননি কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা।

বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এর ফলে দুই দেশের মধ্যে আর প্রক্সি যুদ্ধ নয়, সরাসরি যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলো। এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর নিজস্ব সংবাদমাধ্যম শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) জানিয়েছে, এদিন আচমকাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশন বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে৷ জ্বলতে থাকা কার্গোর কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করে তারা।

তবে বিস্ফোরণে হতাহতের কোনো খবর তারা প্রাথমিকভাবে জানায়নি। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পেন্টাগন জানায়, তাদের বিমান হামলায় ইরানের জেনারেলের মৃত্যু হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ইরানের সেনারা খবরের সত্যতা স্বীকার করে নেয়।

বলা হয়, বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় সেনাবাহিনীর জেনারেলের গাড়ির উপর বিমান হামলা চলে। তাতেই নিহত হয়েছেন সোলায়মানি। ইরানের সেনা জানিয়েছে, এর ফলে আমেরিকাকে কঠিন দাম দিতে হবে।

এদিকে মার্কিন কংগ্রেসও ট্রাম্পের এই আক্রমণকে সমর্থন করেনি। ডেমোক্র্যাট নেতা ক্রিস মারফি টুইট করে বলেন, ‘সোলেইমানি আমেরিকার শত্রু, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ কিন্তু যেভাবে কংগ্রেসে আলোচনা না করেই ট্রাম্প বাগদাদে ঢুকে তাকে হত্যা করলেন, তাতে সমস্যা আরও জটিল হলো। যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলো। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’ অন্যদিকে এই ঘটনার পরে ইরান যে চুপ করে বসে থাকবে না- তা স্পষ্ট।

ফেসবুকে লাইক দিন