যে কৌশলে পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে ভারত

ইমান২৪.কম: গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার জবাবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে হামলা চালিয়েছে ভারত। সোমবার ভোরে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং বালাকোটে বোমাবর্ষণ করে ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান। তাতে জঙ্গিদের একাধিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় বিমান বাহিনীর এই অভিযানে অন্তত ৩০০ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ধাপে ধাপে যেভাবে হামলার পরিকল্পনা করে ভারত-

১৫ ফেব্রুয়ারি:

২০১৬ সালে সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় সেনারা। তবে এ বার পরিকল্পনা ছিল আকাশপথে বোমাবর্ষণের। সেই মতো প্রেজেন্টেশন দেন বিমান বাহিনীর প্রধান বিএস ধানোয়া। ওই দিনই ভারতীয় মন্ত্রিসভার তরফে তাতে অনুমোদন মেলে।

১৬-২০ ফেব্রুয়ারি:

নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর নজরদারি চালাতে নামানো হয় হেরন ড্রোন। তার মাধ্যমে টানা পাঁচদিন ধরে নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় জঙ্গিদের গতিবিধি এবং কার্যকলাপের উপর নজর রাখা হয়।

২০-২২ ফেব্রুয়ারি:

ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির পর কোন কোন জায়গাগুলিকে নিশানা করা যায়, যৌথভাবে সেগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে বিমান বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি।

২১ ফেব্রুয়ারি:

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা ও গোয়েন্দারা। কোন পথে কোথায় অভিযান চালানো হবে, দোভালের সামনে সবিস্তার তথ্য তুলে ধরা হয়।

২২ ফেব্রুয়ারি:

জরুরি পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমান থেকে বোমাবর্ষণ এবং স্ট্রাইক চালাতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ১ নম্বর স্কোয়াড্রন ‘টাইগারস’ এবং ৭ নম্বর স্কোয়াড্রন ‘ব্যাটল অ্যাক্সেস’-এর সাহায্য নেওয়া হয়। অভিযান চালাতে প্রস্তুত রাখতে বলা হয় ১২টি ‘মিরাজ ২০০০’ যুদ্ধবিমান।

২৪ ফেব্রুয়ারি:

সবকিছু ঠিক আছে কিনা দেখতে ভারতের আকাশেই মহড়া দেওয়া হয়। মাঝ আকাশে যদি বিপত্তি দেখা দেয়, সে জন্য বিশেষ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান উড়িয়ে আনা হয়।

২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি:

ভোর সাড়ে ৩টা নাগাদ অভিযান শুরু হয়। বোমা বোঝাই ১২টি ‘মিরাজ ২০০০’ যুদ্ধবিমান। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ভাটিন্ডা থেকে একটি বিমান রওনা দেয়। আগ্রা থেকে রওনা দেয় মাঝ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিশেষ বিমান। গোপন জায়গা থেকে নজরদারি চালাতে পাঠানো হয় হেরন ড্রোন।

নিশানায় আঘাত হানতে কোনও বাধা নেই, কম্যান্ড সেন্টার থেকে এই বার্তা পেয়ে বোমা বর্ষণ করতে শুরু করেন মিরাজ যুদ্ধবিমানের পাইলটরা। অভিযান সম্পন্ন হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে খবর দেন অজিত দোভাল। তারপর সরকারের তরফে বিবৃতি দেওয়া হয়।

ভারতের সেনাপ্রধান শঙ্কর রায়চৌধুরী বলেন, ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও বলা সম্ভব নয়। কিন্তু যে ভাবে জইশের সব থেকে বড় ঘাঁটিতে ঢুকে আক্রমণ চালালো ভারতীয় বায়ুসেনা, তা আসলে ভারতীয় গোয়েন্দাদের নিখুঁত তথ্য জোগাড় করে দেওয়াকেই সামনে আনছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ অনিল গৌড় বলেন, এই বিমান হামলার জন্য যে প্রস্তুতি ভারত নিয়েছে, সেটাই তাকে চমকে দিয়েছে। তার কথায়, ‘এই ধরনের বিমান হামলায় সবার আগে প্রয়োজন হয় নিখুঁত খবরের। এই জায়গাতেই অনেক এগিয়ে গিয়েছে ভারত।

কারণ, বিমান হামলার সময় যুদ্ধবিমানকে প্রথম শত্রুঘাঁটির আকাশে একেবারে গাছের উচ্চতায় নামিয়ে নিয়ে যেতে হয়। তারপর যুদ্ধবিমান খাড়া ৯০ ডিগ্রি ওপরে ওঠে। ওপর থেকে বোমাবর্ষণ করে পাইলট আবার যুদ্ধবিমানটি নীচের উচ্চতায় নামিয়ে এনে অন্য এলাকার দিকে ছুটে যায়।

অনিল গৌড়ের কথায় এই ধরনের আক্রমণ বিপজ্জনক, কারণ প্রতিপক্ষ বিন্দুমাত্র খবর পেলে যুদ্ধবিমান ধ্বংস করে দিতে পারে। কারণ, যুদ্ধবিমান শত্রুঘাঁটির একদম কাছে পৌঁছে যায় । আশঙ্কা থাকে শত্রু রাডারে ধরা পড়ে যাওয়ার। তাই পাইলট এবং যুদ্ধবিমান, সবার জন্যই এই ধরনের আক্রমণ অত্যন্ত বিপজ্জনক।

বিপদের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও যে ভাবে জঙ্গি ঘাঁটিতে নিখুত হামলা চালিয়ে ভারতীয় বিমান বাহিনী, তা দক্ষতা এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক বলে জানিয়েছেন অনিল গৌড়। একই সঙ্গে তার মন্তব্য, পাকিস্তানের থেকে ভারতের বিমান বাহিনী অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই প্রথম আক্রমণ করার জন্য তাদের বেছে নেওয়াও ভারতের সেরা কৌশল।

আরও পড়ুন:  ভারতের বিমান হামলা: সাথে সাথে পাল্টা জবাব দিলো পাকিস্থান

ভারতকে যথা সময়ে ও যথা স্থানে এর জবাব দেয়া হবে: পাকিস্তানের হুমকি

যেভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত চকবাজারে, দেখুন সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে

৫০টি পারমাণবিক বোমা একসঙ্গে মারতে হবে: পারভেজ মোশাররফ

ভারতে বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৩ শতাধিক গাড়ি পুড়ে ছাই

কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ভারতীয় ডেপুটি পুলিশ সুপার নিহত, মেজরসহ আহত ২

ফেসবুকে লাইক দিন