যে কারনে ইউরোপকে হুঁশিয়ারি দিল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট

ইমান২৪.কম: সোভিয়েত আমলে স্বারিত একটি রুশ-মার্কিন পেণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণচুক্তি থেকে ওয়াশিংটন বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর পর বুধবার ইতালির প্রেসিডেন্ট জুসেপ্পে কোন্তের সাথে আলোচনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। কোনো ইউরোপীয় দেশ মার্কিন পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বসাতে সম্মত হলে সে দেশটিকে ল্যস্থল বানাতে রাশিয়া বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউকিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দেন পুতিন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চান বলে জানান।

ফ্রান্সের প্যারিসে ১১ নভেম্বর এই দুই নেতা আলোচনায় মিলিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৮৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বারিত আইএনএফ চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করেছেন ট্রাম্প; রাশিয়া এই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ তার। অন্য দিকে, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে ‘বিপজ্জনক’ বলছেন পুতিন। ট্রাম্পের অভিযোগ অস্বীকার করে শুধু ওয়াশিংটনই চুক্তিটি লঙ্ঘন করছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে রাশিয়া। আইএনএফ চুক্তির আলোকে ইউরোপে মোতায়েন ভূমি থেকে নিপেযোগ্য পারমাণবিক বোমা বহনে সম স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছিল দেশ দু’টি। মঙ্গলবার মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেছেন, রাশিয়া এবং কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের আপত্তি সত্ত্বেও চুক্তিটি থেকে শিগগিরই বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র।

চুক্তিটি থেকে ওয়াশিংটন বেরিয়ে এলে মস্কোও পাল্টা, কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প যদি তার প্রতিশ্রুতি রা করে চুক্তি থেকে সরে যায় তাহলে রাশিয়া কী করবে, এমন প্রশ্নে পুতিন বলেন, ‘সরাসরি উত্তর দিচ্ছি। আমরা কী প্রতিক্রিয়া দেখাব? আমরা দেখাব, আর সেটি হবে খুব দ্রুত ও কার্যকর। যুক্তরাষ্ট্র আইএনএফ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাদের মাঝারি পাল্লার পেণাস্ত্রগুলো ‘কোথায় হাজির হবে, এটাই মূল প্রশ্ন’ বলে উল্লেখ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘যদি তারা সেগুলো ইউরোপে সরবরাহ করে, স্বাভাবিকভাবেই আমাদের প্রতিক্রিয়ায়ও এর প্রতিফলন থাকবে। এ প্রস্তাবের প্রধান লক্ষ্য ছিল এ চুক্তির কার্যকারিতা আরো বাড়ানো।’

প্রস্তাবটি পাস হলে তা নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মধ্যে অব্যাহত আলোচনার সুযোগ পেত। জাতিসঙ্ঘ সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আইএনএফ চুক্তির ব্যাপারে রাশিয়ার দেয়া খসড়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ এ প্রস্তাব এতো পরে দেয়া হয়েছে যে, জাতিসঙ্ঘের নিরস্ত্রীকরণ কমিশনের কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করা যাচ্ছে না। ৫শ’ থেকে ৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার পরমাণু অস্ত্রবাহী ক্ষেপণাস্ত্র ও লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) ১৯৮৭ সালে আইএনএফ চুক্তি স্বাক্ষর করে। রাশিয়া বহুবছর ধরে এই চুক্তি লঙ্ঘন করে যাচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাইতে মাসুদা ভাট্টিকে লিগ্যাল নোটিশ

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারে ড. কামালের উদ্বেগ, আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা

ফেসবুকে লাইক দিন