গণকবরে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ৪০০ লাশ, নির্মম নির্যাতন চালায় বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা

ইমান২৪.কম: মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবে দেশটির রাখাইন রাজ্য থেকে মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার তিন বছর পূর্তি হচ্ছে আজ।

২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে বাংলাদেশ সীমান্তে। মিয়ানমারে গণহত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিকাণ্ড, নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আসতে শুরু করে।

সাড়ে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায়। এর আগে মিয়ানমার সরকারের নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা আরও দুই লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজার শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান করছিল।

বিবিসি জানায়, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনের ভয়াল চিত্র উঠে এসেছিল জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক কমিশনের রিপোর্টে।

রাখাইন রাজ্যে গু দার পিন গ্রামে বৃষ্টির মতো গুলি করে রোহিঙ্গাদের হত্যা করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। স্যাটেলাইটের চিত্র এবং রোহিঙ্গাদের ভাষ্য অনুযায়ী অন্তত পাঁচটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায় তখন।

এসব গণকবরে ৪০০’র মতো মানুষকে চাপা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিল তখন বার্তা সংস্থা এপি। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন রোহিঙ্গা যুবক নূর কাদির। তিনি বলেছিলেন, ‘কবরের ভেতরে মৃতদেহগুলোকে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল।’

যে গ্রামটির কথা বলা হচ্ছে, সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি মিয়ানমার সরকার। সুতরাং ওই গ্রামে আসলে ঠিক কতজন মারা গেছে, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে বলেছিল এপি।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত নেতৃস্থানীয় রোহিঙ্গারা ৭৫ জনের মৃত্যুর তথ্য একত্রিত করেছিলেন। গ্রামবাসীরা বলছে, মৃতের সংখ্যা প্রায় ৪০০’র মতো হবে। যারা মারা গেছেন তাদের পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং সরাসরি মৃতদেহ দেখার ওপর ভিত্তি করে তারা এসব কথা বলছেন। ওই গ্রাম থেকে যেসব রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে জীবন বাঁচিয়েছেন, তাদের ধারণা আগস্ট মাসের ২৭ তারিখের হত্যাকাণ্ড ছিল বেশ পরিকল্পিত।

হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য সৈন্যরা শুধুই রাইফেল, ছুরি, গ্রেনেড এবং রকেট লঞ্চার আনেনি – সঙ্গে অ্যাসিডও নিয়ে এসেছিল তারা। বর্মি সেনাদের দ্বারা রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, নারীদের গণধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর জাতিসংঘের কর্মকর্তারা একে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ফেসবুকে লাইক দিন