যেভাবে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত পানির নিচে বেঁচে ছিলেন তিনি

ইমান২৪.কম: বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চডুবির ১২ ঘণ্টা পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় শ্যামবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রাত ১০টায় লঞ্চটি উদ্ধারের সময় ওই ব্যক্তিকে ভেসে উঠতে দেখে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এরপর দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পাশের একটি নৌকায় তোলা হয়। পরে লাইফ জ্যাকেট পরিয়ে তার দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।

তার ঠোঁঠের কোনে হালকা রক্তের আভা দেখা গেছে। উদ্ধার ব্যক্তির নাম সুমন ব্যাপারী। বাড়ি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল্লাহপুর। তাকে মিডফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধারের জন্য পানির নিচে এয়ার লিফটিং ব্যাগ বসানোর কাজ করছিলেন ডুবুরিরা।

এ সময়, ডুবে যাওয়া লঞ্চটির একাংশ ভেসে ওঠায় ভেতর থেকে বের হয়ে আসেন ওই ব্যক্তি। পরে তাকে উদ্ধার করেন ডুবুরিরা। এদিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার অভিযানে আসার সময় বুড়িগঙ্গা-১ সেতুতে আটকে যায় উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়।

এ সময় সেতু এবং উদ্ধারকারী জাহাজের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আর উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে পারেনি ‘প্রত্যয়’। ফলে সনাতন পদ্ধতিতে লঞ্চ উদ্ধারের বিকল্প চিন্তা করেন বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা। সে চিন্তার অংশ হিসেবেই এয়ার লিফটিং ব্যাগ ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা ‘মর্নিং বার্ড’ নামের লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা ৩২ জনের মরদেহ এরইমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে এখনো কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, নৌবাহিনী সদস্য এবং কোস্টগার্ড। এর আগে ‘মর্নিং বার্ড’ নামের লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে ঢাকার সদরঘাটে আসছিলো।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদরঘাটে যাত্রী নামানোর ঠিক আগ মুহূর্তে ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় শ্যামবাজারের কাছে মাঝ নদীতে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় লঞ্চটি।

ফেসবুকে লাইক দিন