মূর্তি ভাঙার কথা কুরআনের কোথাও বলা নেই: ডা. জাফরুল্লাহ

ইমান২৪.কম: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, মূর্তি পূজা করতে মানা আছে, তবে মূর্তি ভাঙার কথা কোরআনের কোথাও বলা নেই।

শনিবার বিকেলে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেজর হায়দার বীরউত্তম মিলনায়তনে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ১৪০তম জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্য করে ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, দেশের মৌলভী এবং আলেমরা ভাস্কর্য আর মূর্তি নিয়ে আন্দোলন করছেন। আমি আরবিতে স্কলার না, তবে আমি কোরআনের বিভিন্ন ভাষার অনুবাদ পড়েছি, মূর্তি পূজা করতে মানা আছে, তবে মূর্তি ভাঙার কথা কোরআনের কোথাও বলা নেই।

মূর্তি ভাঙতে হলেতো প্রতিটা গির্জাকে ভেঙে ফেলতে হবে, কারণ গির্জায় যিশু খ্রিস্টের মূর্তি রয়েছে। মূর্তি বা ভাস্কর্য এসব বিষয় নিয়ে আন্দোলন না করে জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন, ন্যায়-নীতির আন্দোলনে আসেন।

কোরআন শরীফে মূর্তিভাঙার বিষয়টি আছে কিনা- এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ইমামুদ্দীন মেহের বলেন, মূর্তিভাঙার কথা কোরআন শরীফে দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ আছে। বরং এ বিষয়ে তো হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর মূর্তিভাঙার ঘটনা কোরআনে পাকে বিস্তারিত এবং আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে একাধিক সূরায় বর্ণিত আছে।

তিনি বলেন, কোরআনে মূর্তিভাঙার কথা নেই, এধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মূর্খতার পরিচায়ক। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মাওলানা ভাসানী ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পূর্ণভাবে অসম্পূর্ণ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অবশ্যই দুজনকে আনতে হবে, একজন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আরেকজন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। এই দুজনের দু’ধরনের চরিত্র। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। তার নামে স্লোগান হয়েছে, তার নামে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে।

অন্যদিকে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সশরীরে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় ছিলেন। কোনো দলের নাম উল্লেখ না করেই গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং ট্রাস্টি বলেন, মাওলানা ভাসানীকে তারা কীভাবে নির্যাতন করেছিল সে ইতিহাস অনেক কম বয়সীদের অজানা। মাওলানা সাহেব যখন বুঝতে পারলেন এদের সঙ্গে থাকা যাবে না, তখন তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত দল আওয়ামী লীগ ছেড়ে নতুন দল গঠন করলেন।

সদরঘাটে রূপমহল সিনেমা হলের একটি মিটিংয়ে আজকে যারা দেশ শাসন করছে তাদের পূর্বসূরীরা মাওলানা ভাসানীকেও আক্রমণ করেছিল। তারা তাদের জন্মদাতা পিতাকে আক্রমণ করেছিল। তাদের উচিত ছিল আজকে সরকারিভাবে মাওলানা ভাসানীর জন্মদিন পালন করা। আজকের পত্রিকায় মওলানা ভাসানীর ছোট্ট একটি খবর ছাড়া আর কিছুই নেই। কারণ তারা মওলানা ভাসানীকে ভয় পায়।

ফেসবুকে লাইক দিন