মুসলিম বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ তুরস্কের হাতে রয়েছে যেসব অস্ত্র

ইমান টোয়েন্টিফোর ডটকম: খেলাফতের উসমানীর কেন্দ্রবিন্দু হল তুরস্ক। ১৯২০ সালের আগ পর্যন্ত গোটা দুনিয়ায় মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব ছিল এই দেশটির হাতে। তুরস্ক হতেই পরিচালিত হতো তৎকালীন গোটা মুসলিম বিশ্ব।

খেলাফতের পতনের প্রায় একশ বছর পর আবারো মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে এই দেশটি। মুসলিম বিশ্বের অগ্রগামী নেতা রজব তাইয়েব এরদোগানের নেতৃত্বে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক।

বর্তমানে সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বে অন্যতম শক্তিধর দেশে পরিণত হয়েছে তুরস্ক। মুসিলিম বিশ্বে দেশটি সবচেয়ে শক্তিশালী। আর বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে তুরস্ক রয়েছে অষ্টম অবস্থানে।

পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র থাকলেও সব দিক বিবেচনায় মুসলিম বিশ্বের এখন শীর্ষে অবস্থান করছে তুর্কি সামরিক বাহিনী।

সমর শক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের ২০১৬ সালের র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বে সামরিক শক্তির দিক থেকে তুরস্কের অবস্থান অষ্টম।

সামরিক বাহিনী: তুরস্কের সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৪ লাখ ১০ হাজার। রিজার্ভ সদস্য আছে এক লাখ ৭৮ হাজার ৭০০ জন। দেশটির আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য এক লাখ ৫২ হাজার। সব মিলে দেশটির বর্তমান সামরিক জনশক্তি ৭ লাখেরও বেশি।

সেনাবাহিনী: তুরস্কের সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় চার লাখ। এই বাহিনীর হাতের বর্তমানে উল্লেখযোগ্য যুদ্ধসরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ট্যাংক ৩ হাজার ৭৭৮টি, আর্মারড ফাইটিং ভেহিকেল (এএফভি) ৭ হাজার ৫৫০টি, স্বচালিত কামান (এসপিজি) ১ হাজার ১৩টি, ভ্রাম্যমাণ কামান (টিএ) ৬৯৭টি, বহুমুখী রকেট ব্যবস্থা (এমএলআরএস) ৮১১টি। ১০০টি এমজিএম-১৪০ ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, আলটায় ট্যাংক, আকাশ থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল মিজরাক-ইউ, নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ৬০০ সাঁজোয়া যান বিএমসি কিরপি, পান্টার হুইটজার নামক অত্যাধুনিক কামান।

বিমানবাহিনী: তুর্কি বিমান বাহিনীর মোট সদস্যসংখ্যা ৬০ হাজার। রয়েছে ৯টি যুদ্ধবিমান ঘাঁটি। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও ড্রোন ঘাঁটিসহ রয়েছে আরও ১১টি ঘাঁটি ও ৪১টি স্কোয়াড্রন। যুদ্ধবিমান ২০৭টি, প্রশিক্ষণ বিমান ২৭৬টি, হেলিকপ্টার ৪৪৫টি এবং সামরিক হেলিকপ্টার রয়েছে ৬৪টি।

এছাড়া রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক এফ-১৬ ফ্যালকন, মনুষ্যবিহীন বিমান আইএআই হিরন, তিনটি প্রিডেটর ড্রোন। এছাড়া ১১৫টি ব্ল্যাকহক সামরিক হেলিকপ্টার ক্রয়ের চুক্তি করেছে তুরস্ক। গোকতুর্ক-১ ও গোকতুর্ক-২ নামে দুটি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট রয়েছে তুরস্কের।

নৌবাহিনী: তুর্কি নৌবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৪৮ হাজার ৬০০ জন। বাহিনীর যুদ্ধসরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ফ্রিগেট ১৬টি, বিশেষ রণতরি ৮টি, সাবমেরিন ১৩টি, উপকূল প্রতিরক্ষা যান ২৯টি, মাইন ব্যবস্থাপনা যান ১৫টি, হেলিকপ্টার ও বিমান মোট ৫১টি, ব্যবহৃত বন্দর ৯টি।

এছাড়া জার্মানির তৈরি টাইপ-২০৯ সাবমেরিনগুলোর প্রত্যেকটি ১৪টি টর্পোডো বহন করতে সক্ষম। আছে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি যুদ্ধজাহাজ।

১৯৫২ সালে এখানে প্রথম মার্কিন সেনারা অবস্থান নেয়। অন্যান্য ঘাঁটিগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

এ ছাড়া তুরস্কে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পিজিএম-৯ জুপিটার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা।

আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়টিক ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। শিগগিরই তুরস্কে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী নিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপন করবে যুক্তরাষ্ট্র।

ফেসবুকে লাইক দিন