মা কারাগারে, ছোট্ট ভাইকে নিয়ে যন্ত্রণায় কাটছে আলিফের জীবন

ইমান২৪.কম: সারাদিন আদালতের বারান্দায় ঘুরেও মেলেনি জামিন। গল্পটা হয়তো বিচারকের বিচারিক মন প্রয়োগ না করার ফলও বলা যায়। আলিফের বয়স ১২ বছর। ছোট্ট শিশু গালিফ মাত্র দুই বছর পেরিয়ে তিনের কাছাকাছি, অথচ মা নেই কাছে, নেই মায়ের ঘ্রাণ, আদর আর আবদার। বারান্দায় নি:শ্চুপ যন্ত্রণায় খুঁজে ফিরছে মাকেই। গেল বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) থেকে দাদীর করা মামলায় চৌদ্দ শিকের ভেতর আটকে আছে মা, সাথে নেই বাবাও।

পারিবারিক কলহের জের ধরে বরগুনায় দাদীর দায়ের করা মিথ্যে মামলায় মা এখনো কারাগারে। একই মামলায় বাবা গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে আত্মগোপনে। দাদী ও ফুফু শিশু সন্তানদের ঘর থেকে বের করে দেয়ায় বাধ্য হয়ে দুগ্ধপোষ্য শিশুভ্রাতাকে সঙ্গে নিয়ে মায়ের মুক্তি চেয়ে আজ জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্তরে অবস্হান কর্মসূচি করে ১২ বছরের অসহায় শিশু আলিফ। গতকাল শনিবার (১৭ জুলাই) সকালে শহরের টাউনহল এলাকার অগ্নিঝরা একাত্তরের পাদদেশে অসহায় দুই শিশুর এ অবস্থান কর্মসূচি দেখতে ভিড় জমান উৎসুক জনতা।

আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই। ভুক্তভোগী শিশু আলিফের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাবার চাকুরির সুবাদে তারা গাজিপুর জেলায় বসবাস করে আসছিল। সে সেখানকার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ব্রিটিশ কাউন্সিলের মাধ্যমে একটি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে মেধাবী শিক্ষার্থী আলিফ ইংল্যান্ডে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছে। তার ভিসাও প্রস্তুত। করোনার কারণে তার ইংল্যান্ড যাওয়া বিলম্বিত হয়েছে। অথচ এমন একটি সময়ে তার দাদীর দায়ের করা মিথ্যে মামলায় কারাগারে রয়েছে তাদের মা আনিতা জামান।

শিশু আলিফ আরও জানায়, তার বয়স এখন ১২ বছর। অথচ মিথ্যে মামলায় তার বয়স ১৮ বছর দেখিয়ে তাকেও আসামী করা হয়েছে! অন্যদিকে উভয়পক্ষের আইনজীবীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোণাকালীন সময়ে গত দুই তিনমাস ধরে শিশু আালিফ ও গালিফকে নিয়ে মা আনিতা জামান বরগুনায় তাদের গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের খেজুর তলা গ্রামে বসবাস করছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পারিবারিকভাবে আলিফ ও গালিফের বাবা মনিরুজ্জামান জুয়েল ও তার মা-বোনদের মাঝে কলহ চলছে।

মামলায় আলিফের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে বৃদ্ধ দাদীকে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। ওদিকে বাবা মো. মনিরুজ্জামান জুয়েল গাজিপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মামলায় ঘটনার যে সময় দেখানো হয়েছে সেসময় আলিফের বাবা মো. মনিরুজ্জামান জুয়েল তার কর্মস্থলে ছিলেন। সেখানে ডিজিটাল হাজিরায় তার হাজিরা রয়েছে।

অথচ মিথ্যে তথ্য দিয়ে সেই মামলায় তার বাবা মনিরুজ্জামান জুয়েলকেও আসামী করা হয়েছে। তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এ অবস্থায় ২ বছরের দুগ্ধপোষ্য শিশু ছোট ভাই গালিফকে নিয়ে চরম অসহায়ত্বের মধ্য দিয়ে দিন কাটছে তাদের। তাই প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে এ মিথ্যে মামলা থেকে মায়ের মুক্তির দাবি জানিয়েছে অসহায় দুই শিশু আলিফ ও গালিফ।

ফেসবুকে লাইক দিন