মামুনুল হককে ঠেকাতে চবি ছাত্রলীগের সড়ক অবরোধ পুলিশের বাধায় পণ্ড

ইমান২৪.কম: হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে প্রতিরোধের বিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশকে পাশ কাটিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেইটে অবস্থান নেওয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে চবি এক নম্বর গেইট এলাকায় চট্টগ্রাম-হাটহাজারী মহাসড়কে বিশ্ববিদালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রোবেলের নেতৃত্বে সড়ক অবরোধ করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় তারা টায়ার জ্বালিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দেয়।

তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম ও ওসি রফিকুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। যদিও মামুনুল হক সড়ক পথে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় প্রবেশ করেন। এ সময় ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীকে সড়কে অবস্থান নিতে দেখা যায়নি।

প্রসঙ্গত সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। শুক্রবার হাটহাজারীর পার্বতী হাই স্কুল মাঠে একটি তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে যোগ দেয়ার কথা রয়েছে তার।

এদিকে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সমাবেশ করে মাওলানা মামুনুল হককে ‘কোনো ভাবেই’ চট্টগ্রামে ঢুকতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল চট্টগ্রামের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। চট্টগ্রাম নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল এ ঘোষণা দেয় তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকেও।

অথচ বৃহস্পতিবার রাতেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের ইউনিট পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের মামুনুল হকের মাহফিলকে কেন্দ্র করে নেওয়া সব কর্মসূচি স্থগিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হয়ে রাতেই এই সংবাদ প্রচার করে চট্টগ্রাম প্রতিদিন। এদিকে কর্মসূচি স্থগিতে কেন্দ্রের নির্দেশ থাকলেও ‘মুখ রক্ষার’ খাতিরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় এক নম্বর গেইট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছিল। তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনে খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর এক অনুষ্ঠানে মাওলানা মামুনুল হক বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মূর্তি স্থাপন বঙ্গবন্ধুর আত্মার সঙ্গে গাদ্দারি করার শামিল৷ যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করে তারা বঙ্গবন্ধুর সু-সন্তান হতে পারে না৷ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন মুসলিম হিসেবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন৷ তাঁর মূর্তি তৈরি করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে স্থাপন করা হলে তা হবে বঙ্গবন্ধুর আত্মার সঙ্গে বেইমানি।’

কেবল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যই নয়, ঢাকা শহরের সব ভাস্কর্যকেই ‘অনৈসলামিক’ দাবি করে হুঁশিয়ারিও জানান মামুনুল৷ তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার দেখতে পাচ্ছি, এই মসজিদের শহরের গৌরবময় পরিচয়কে মুছে দিয়ে এটাকে মূর্তির শহরে পরিণত করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে৷ এ দেশের তৌহিদী জনতা আবার শাপলা চত্বরে যাবে।’

গত ১৯ নভেম্বর হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি জাতীয় নেতা হিসেবে আমাদের পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। আমরা চাই না একজন মরহুম, একজন মৃত মুসলমানকে নিয়ে এমন কোনও কার্যকলাপ পরিচালনা করা হোক, যে কার্যকলাপের কারণে কবরের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনও আজাবের সম্মুখীন হতে হয়।’ সুত্র: চট্টগ্রাম প্রতিদিন

ফেসবুকে লাইক দিন